‘পাকিস্তানই ভালো ছিল’ বলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫০:১০,অপরাহ্ন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | সংবাদটি ৮৯০ বার পঠিত
‘পাকিস্তানই ভালো ছিল’ বলার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপির সব কিছুতেই হতাশা। জনসম্পৃক্ততা না থাকায় এই হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সবুজ সম্পাদিত ‘মুজিববর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ।
গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সংসদ বিষয়ক পত্রিকা ‘পার্লামেন্ট ভয়েস’। মুজিববর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন গ্রন্থটি একটি ডকুমেন্ট হিসেবে ভবিষ্যতে রেফারেন্সের কাজ করবে এবং অনেক অজানা তথ্য অনেকেই জানতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে বাংলাদেশের গুম-খুন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, কোনো বিশেষ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পাঠানোর পর যদি কোনো রিপোর্ট তৈরি হয়, তবে সেটি হচ্ছে ‘ফর ডিমান্ড’। আমরা দেখেছি, ‘অধিকার’ এবং আরো ক’টি প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সেখানে বিভিন্ন জন ‘কনসার্ন’ ব্যক্ত করেছেন। ’
তিনি বলেন, বাস্তবতাটা হলো বাংলাদেশে যারা গুম হয়েছিল বলে কয়েক দিন আগে একটা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তারমধ্যে ১০ জন ফেরত এসেছে, আর ২০ জন হত্যাসহ বিভিন্ন দাগী আসামি। তারা নিশ্চয় অনেকে পালিয়ে আছেন। আবার কিছু কিছু গুম হয়েছে তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তালিকার মধ্যে তাদের নামও আছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অধিকার নামের একটি সংগঠন হেফাজতের আন্দোলনের সময় শতশত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অন্য দেশের ছবি দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আল জাজিরাসহ নানা গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছিল। পরে তারা শতশত থেকে নেমে এসে বলেছিল ৬১ জন। কিন্তু কারো নাম বা পরিচয় দিতে পারেনি। এসব বানোয়াট তথ্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, গ্রেপ্তারও হয়েছিল। সেই সংগঠনের দেওয়া গুম-খুনের তথ্য-উপাত্তও ত্রুটিপূর্ণ।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের চরম লংঘন হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যায়। এরপর সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি ও তা আইনে রূপান্তর করে। মানবাধিকারের চরম লংঘন হয়েছে, যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করার জন্য বিনা বিচারে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করেছে, বেগম খালেদা জিয়ার সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা হয়েছে এবং সেটার জন্য গাঁজাখুরি তদন্ত কমিশন করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে যে ইসরাইলের মোসাদ এই কাজ করেছে। সেই মামলায় তারেক জিয়ার শাস্তি হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অনেকের ফাঁসি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে এগুলো তো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মানুষের অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এগুলোও প্রতিবেদনে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখার জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতিসহ ৮০ জন বক্তব্য রেখেছেন। সেই বক্তব্যগুলোকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে চলার পথে আমাদের এই গ্রন্থটি বড় ধরনের সংগ্রহ হয়ে থাকবে। আশা করি আগামীতে মহান সংসদে শতশত বছরে বা তারও বেশি সময় ধরে যে সমস্ত সংসদ সদস্যরা আসবেন, এই বক্তব্যগুলো তাদেরকে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে আরো উৎসাহিত করবে।