সিলেটে রমজানে বাড়বে না সবজির দাম
প্রকাশিত হয়েছে : ৫:৪২:৩৬,অপরাহ্ন ১৭ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৫৯১ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: সিলেটে রমজানে সবজির দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের কথা বিবেচনা করে মানসম্পন্ন নির্ভেজাল ও ফরমালিন মুক্ত খাদ্যসামগ্রী সঠিক দামে সরবরাহের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কোন কারণ নেই বরং অনেক পণ্য দাম কমবে বলে আমরা আশাবাদী।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর সোবহানীঘাটে পাইকারি সবজি বাজার এবং দক্ষিণ সুরমায় ফল বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা চেম্বার নেতৃবৃন্দকে বর্তমান বাজার এর হালচাল তুলে ধরেন এবং মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন।সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ এর নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও চেম্বারের যৌথ প্রতিনিধিদল সবজি বাজার ও ফলবাজার পরিদর্শন করেন। এসময় তারা বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথেও মতবিনিময় করেন।নগরীর সোবহানীঘাটে সবজিবাজার পরিদর্শনকালে সিলেট ট্রেড সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হবে না। মালামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং মানসম্পন্ন ও ফরমালিনমুক্ত সবজি ব্যতীত কোন সবজি এই বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ। মানসম্পন্ন সবজি যাতে ক্রেতারা পেতে পারেন সেজন্য আমরাও প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করছি।সিলেট চেম্বারের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজানে বাজার ক্রেতাদের জন্য সহনশীল রাখার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মেসার্স সাহাব উদ্দিন এর স্বত্বাধিকারী রেজওয়ান উদ্দিন জানান, বর্তমানে আলু ১২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, রমজানে এ দাম আরো কিছুটা কমবে। এসময় বক্তব্য রাখেন বাজার কমিটির সভাপতি ছালেক মিয়া, সহ সভাপতি মো. কয়ছর আলী, সাধারণ সম্পাদক ছাদ মিয়া এবং পংকী মিয়া জালালী।
প্রতিনিধিদল বাজার পরিদর্শনকালে দেখতে পান কাঁচামরিচ ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, শিম ২০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, চিচিংগা ৫০ টাকা এবং লেবুর হালি ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্য যাতে বাইরে দ্বিগুণ তিনগুণ দামে বিক্রি না হয় সেজন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, বিএসটিআই সিলেটের ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী মোঃ রকিবুল হাসান রিপন পণ্যের বিক্রয় রশিদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে সরবরাহের আহবান জানান। যাতে করে খুচরা বাজারে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি প্রতিটি দোকানে ও প্রতিষ্ঠানের সামনে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার আহবান জানান।এদিকে দক্ষিণ সুরমার ফল বাজার পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল হাজী ফারুক আহমদের আড়তে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
ফল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় মৌসুম অনুযায়ী এবং সরবরাহের উপর ভিত্তি করে ফলের দাম উঠা-নামা করে।তারা জানান, রমজান মাসের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য খেজুর সিলেটের ব্যবসায়ীরা আমদানি করেন না। চট্টগ্রাম থেকে এনে বিক্রি করা হয় সেজন্য সিলেটের ব্যবসায়ীদের হাতে খেজুরের দামের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে এবার খেজুরের মূল্য তেমন বাড়ার সম্ভাবনা নেই যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ী হাজী ফারুক আহমদ জানান, বর্তমানে নাগাল খেজুর ১০ কেজির প্যাকেট ১৩৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। মাল্টার আমদানি বেশী থাকায় দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রমজানে আম বাজারে ঢুকবে কিনা এব্যাপারে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। ফরমালিনমুক্ত কোন ফলমূল সিলেটের বাজারে আমরা প্রবেশ করতে দেব না। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাজার কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন, ইকবাল আহমদ, হাজী হানিফ আলী প্রমুখ।
উভয় বাজার পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সহ সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন, পরিচালক মোঃ সাহিদুর রহমান, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, সদস্য মোস্তফা কামাল, ওকাস সভাপতি খালেদ আহমদ, দুইটি বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।