সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছেনা এমপি মোকাব্বির খানের!
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২৬:৩০,অপরাহ্ন ১৫ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৬৫২ বার পঠিত
ইমরান আহমদ:: সিলেট-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোকাব্বির খানের পিছু যেন ছাড়ছেনা সমালোচনা। এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই যেন তাঁর সাথে লেগেই আছে সমালোচনা। সর্বশেষ সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদকে আমন্ত্রন না দেয়া এবং দাওয়াত দিয়ে পরবর্তীতে সভা কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেয়ায় ফের সমালোচিত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত এমপি মোকাব্বির খান।
একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নিখোঁজ এম ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার পর থেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনা শুরু হয় মোকাব্বির খানের। এসব সমালোচনার পরও বিপুল ভোটে তিনি পরাজিত করেন মহাজোট প্রার্থীকে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ না নিয়েই পাড়ি জমান লন্ডনে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হঠাৎ দেশে এসে এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ নেয়ার আগেও দলীয় প্যাড চুরির অভিযেগে সমালোচিত হন। তার নিজ দল গণফোরামের শীর্ষ এক নেতা এমন অভিযোগ তুলেন। শপথ নিয়ে দলের সভাপতি ড. কামালের সাথে দেখা করতে চেম্বারে গেলে তিনি তাকে তাড়িয়ে দেন। এমন সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচিত হন মোকাব্বির। পরবর্তীতে সিলেট জেলা পরিষদ মিলণায়তনে এক সভায় বিএনপির নারী নেত্রীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। এ সংবাদেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠে। সর্বশেষ সোমবারের ঘটনায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য।
জনাযায়, সোমবার বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রথম সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ সভায় দাওয়াত পাননি বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এমনকি নব-নির্বাচিতদের পাশাপাশি বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছেন দাওয়াত পাওয়া থেকে বঞ্চিত।
মতবিনিময় সভার ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিশ্বনাথ উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দের সাথে সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খানের মতবিনিময়’। যে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নতুন এমপি মোকাব্বির খানের ওই মতবিনিময় করার কথা সেখানে সভায় উপস্থিত থাকার দাওয়াতই পাননি উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত ও বর্তমান শীর্ষ ওই ৫ জনপ্রতিনিধি।
এদিকে মতবিনিময় সভা শুরুর পূর্বে সভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় দাওয়াত দিয়ে সভাস্থলে নেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের। সভা কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার পর মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচনের পর থেকে নানান কারণে আলোচনায় থাকা বহুল আলোচিত সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান। সেই সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে কেউ আর স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এমপি মোকাব্বির খানের ওই মতবিনিময় সভা থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া এবং উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের দাওয়াত না দিয়েই সভা করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। কি এমন গোপন সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য মতবিনিময় সভা থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হল তা জানতে এর খুঁজে মরিয়া হয়ে উঠেছেন উপজেলার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সিলেট-২ আসনের নতুন এমপি মোকাব্বির খানের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকার দাওয়াত না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এস এম নুনু মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর কোষাধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী জুলিয়া বেগম এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য (সদ্য বহিস্কৃত) আহমেদ-নূর উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা দলের সহ সভাপতি (সদ্য বহিস্কৃত) বেগম স্বপ্না শাহীন।