২০২২ সালে গোলাপগঞ্জের ৪জন বিশিষ্ট নাগরিক পেলেন গোলাপগঞ্জ পদক
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:০৩:২৬,অপরাহ্ন ০২ নভেম্বর ২০২২ | সংবাদটি ৬৫১৫ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন, লন্ডন ডেস্ক:
ব্রিটেনে বসবাসরত গোলাপগঞ্জের যে সকল নাগরিকরা বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং বর্তমানে রেখে যাচ্ছেন তাঁদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মত ৪জন গুণী ব্যক্তিকে ‘গোলাপগঞ্জ পদক’ দেয়া হয়। গত ২৩অক্টোবর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারের গোলাপগঞ্জ উৎসবে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি আনোয়ার শাহজাহান।
২০২২ সালে যাদেরকে ‘গোলাপগঞ্জ পদক’ দেয়া হয় তারা হলেন, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ মরহুম নিসার আলী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক মরহুম তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সালেহ আহমদ খান এমবিই ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. রেণু লুৎফা।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত এর সভাপতিত্বে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর শাফি আহমদ, বার্কিং ও ডেগেনহাম বারা কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী, ওয়ার্থিং বারা কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার ফেরদৌসী হেনা চৌধুরী সহ ব্রিটেনের বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্ট জনরা।
সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান ও জনপ্রিয় উপস্থাপক জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির উপস্থাপনায় নিসার আলীর পদক গ্রহণ করেন তার পুত্র গিয়াস উদ্দিন সহ পরিবারের সদস্যরা। তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই এর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন লেখক গবেষক ফারুক আহমদ, সালেহ আহমদ খান এমবিই এর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন ট্রাস্টের ট্রেজারার বদরুল আলম বাবুল এবং ড. রেণু লুৎফার পক্ষে পদক গ্রহণ করেন কাউন্সিল ড. আব্দুল আজিজ তকি।
।।
নিচে পদকপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

মরহুম নিসার আলী
নিসার আলী:
নিসার আলী ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ থানার অন্তর্গত বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও মা রমিজা বিবি।
নিসার আলীর প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ হয় গ্রামের বাজারঘাট প্রাইমারি স্কুলে। পরবর্তীকালে দত্তরাইল মিডিল ইংলিশ স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবন আরম্ভ করেন কলকাতার খিদিরপুরে জাহাজের ফায়ারম্যান হিসেবে। ১৯৪৪ সালের ৯ জুন বিলাতে আসেন। ১৯৪৫ সালে পূর্ব লন্ডনের সেটেল স্ট্রিটে চালু করেন ‘তাজমহল রেস্টুরেন্ট’। পরবর্তীকালে একাধিক রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের একজন বিশিষ্ট বাঙালি ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
১৯৫২ সালে ৯নং হ্যাসল স্ট্রিটস্থ মোক্তার মিয়ার ক্যাফেতে গঠিত হয় ‘পাকিস্তান ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইন ইউকে’। নিসার আলী এই সংগঠনের প্রথম জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ১৯৬০ সালে লন্ডনে গঠিত ‘পাকিস্তান ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৬৩ সালে গঠিত হয় তৎকালীন পাকিস্তানিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পাকিস্তানি এসোসিয়েশন্স ইন গ্রেইট ব্রিটেন’। নিসার আলী এটি গঠনেও বিশেষ অবদান রাখেন, এবং সাংগঠনিক কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে ইংল্যান্ডে বাঙালিদের প্রথম নিজস্ব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট পাকিস্তান হাউস’ প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত প্রস্তুতি কমিটির অন্যতম দাতা সদস্য এবং ট্রস্টি বোর্ডের অন্যতম ট্রাস্টি ছিলেন।
১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে ৬-দফা আন্দোলন গড়ে উঠলে পাকিস্তান সরকার ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে একটি মামলা দায়ের করে, এবং এর প্রবক্তা ও আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে জেলে পাঠায়। ফলে ১৯৬৭ সালের ১০ জুন লন্ডনে গঠিত হয় ‘শেখ মুজিব ডিফেন্স ফান্ড’। নিসার আলী এ ফান্ডেরও অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের পরামর্শে ১৯৭০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গঠিত হয় ‘আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য শাখা’। নিসার আলী এ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিসার আলী স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন, তহবিল সংগ্রহ ইত্যাদি ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালের ২ জুলাই তিনি ‘আওয়ামী লীগ লন্ডন শাখার’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
নিসার আলী প্রবাসে শুধু জাতীয় রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন না, একই সংগে নিজ এলাকার উন্নয়নেও নানাভাবে কাজ করেছেন। তিনি চন্দরপুর আল এমদাদ উচ্চবিদ্যালয়, নয়াসড়ক হাফিজিয়া মাদ্রাসা-সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ব্যক্তিগত দান ছাড়াও চাঁদা তুলে সহযোগিতা করেছেন। তিনি ‘গোলাপগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনে’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
হাজি নিসার আলী ১৯৯১ সালে লন্ডনে ইন্তেকাল করেন।

তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই
তাসাদ্দুক আহমদ এমবিই:
তাসাদ্দুক আহমদ ১৯২৩ সালের ২ এপ্রিল গোলাপগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি ১৯৪২ সালে সিলেটে। পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে তৎকালীন দৈনিক ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে। ১৯৫০-৫১ সালে তিনি এই পত্রিকার চিফ রিপের্টার পদে উন্নীত হন। ১৯৫১ সালে আবার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় যোগদান করেন। একই সঙ্গে লাহোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘পাকিস্তান টাইমস ’-এর ঢাকা প্রতিনিধি এবং করাচি থেকে প্রকাশিত সান্ধ্য-‘দৈনিক ইভিনিং নিউজে’র কলামিস্ট ও ঢাকা সংবাদদাতা ছিলেন। ১৯৫০-৫১ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান জার্নালিস্ট ইউনিয়ন’ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, এটির প্রথম জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে উচ্চশিক্ষার্থে লন্ডনে চলে আসেন। ১৯৫৪ সালের ২১ ফেব্রুয়রি তৎকালীন ‘পাকিস্তান ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনে’র মুখপত্র হিসেবে হাতে লিখে ফটোকপি করে প্রকাশ করেন ‘দেশের ডাক’। এছাড়া বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের মধ্যভাগে অধ্যাপক হামজা আলী আলভির সঙ্গে যৌথভাবে আরও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর সহযোগিতায় প্রকাশ করে ইংরেজি কাগজ ‘পাকিস্তান টু ডে’
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে তাসাদ্দুক আহমদ তার বন্ধু সাংবাদিক আবদুল মতিন ও স্ত্রী রোজমেরির সহায়তায় প্রকাশ করেন ‘নিউজ লেটার’। কাগজটি এপ্রিল মাসে সাপ্তাহিক, মে মাসে পাক্ষিক এবং জুন মাস থেকে মাসিক সংবাদপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। তৃতীয় সংখ্যার পর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ’ এবং ষষ্ঠ সংখ্যা থেকে ‘বাংলাদেশ নিউজ লেটার’ নামে প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রকাশ করেন মাসিক ‘বাংলার কথা’ নামে একখানা মাসিক সাময়িকী। চারটি সংখ্যা প্রকাশের পর কাগজটি আর প্রকাশিত হয় নি।
১৯৭২ সালে তারই উদ্যোগে বিলাতে বসবাসরত বাঙালি সাংবাদিকদের নিয়ে তারই মালিকানাধীন গঙ্গা রেস্টুরেন্টে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি (ইন.ইউকে)’। ১৯৭৮ সালে লন্ডনে সংঘটিত বর্ণবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ও মাল্টিরেসিয়াল বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে প্রকাশ করেন ‘দ্য এশিয়ান’। কাগজটি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ থেকে মেসবাহ কামালের সম্পাদনায় প্রকাশিত দ্বি-মাসিক ‘সমাজ চেতনা’ কাগজটি ১৯৯২ সালের ২৪ এপ্রিল লন্ডন ও বাংলাদেশ থেকে একযোগে প্রকাশ করা হয়। তাসাদ্দুক আহমদ তখন কাগজটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক নিযুক্ত হন।
তাসাদ্দুক আহমদ শুধু বিলাতের প্রথম গণমুখী বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতাই নন বরং বাংলা পত্রিকায় প্রথম টাইপরাইটার, এবং পরবর্তীকালে কম্পিউটর টাইপসেটিংয়েরও প্রবর্তক। তিনি ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর লন্ডনে ইন্তেকাল করেন।

সালেহ আহমদ খান এমবিই
সালেহ আহমদ খান এমবিই:
সালেহ আহমদ খান ১৯৫৫ সালের ১২ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ থানার ফুলসাইন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সফিক আহমদ খান ও মা সাবেরা খানম। তিনি ১নং ফুলসাইন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলসাইন্দ উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়, মদন মোহন কলেজ ও ঢাকা তিতুমীর কলেজে লেখাপড়া করে ঢাকা বিডিআর-এর হেড কোয়াটারের হাসপাতালে হিসাবরক্ষক অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮৪ সাল থেকে লন্ডনবাসী। লন্ডনে সালেহ আহমদ খানের কর্মজীবন শুরু হয় কমিউনিটি হাউজিং কো-অপারেটিভ-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাধে তিনি গ্রেইটার লন্ডন কাউন্সিল, কেমডেন ও ওয়েস্টমিন্সটার কাউন্সিলের আওতাধীন বিভিন্ন ফোরাম ও কনসালটেন্সি কমিটিতে হাউজিং সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তখন তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের বহুসংখ্যক গৃহহীন বাঙালিকে আবাসনের সুযোগ করে দেন।
১৯৮৭ সালে তিনি লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলের হাউজিং ডিপার্টমেন্টে হাউজিং রেইস ইকুয়্যালিটি অফিসারের পদে যোগ দেন। তখন তিনি বাংলাদেশী বাঙালিদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষের ন্যায্যা অধিকার ও দাবি-দাওয়া আদায়ের ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। বিশেষ করে নিউহ্যাম বারার বাঙালিদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়াকে তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে সফলভাবে তোলে ধরতে সক্ষম হন বিধায় কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ হাউজিং ডিপার্টমেন্টে বাঙালি অফিসার নিয়োগ দান করে। নিউহ্যাম বারায়ও তিনি বাঙালিদের হাউজিং সমস্যা নিরসনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেন, এবং বহু বাঙালিকে ঘর পাইয়ে দেন। এর পরে তিনি কেমডেনে কাউন্সিলের হাউজিং ডিপার্টমেন্টে ইস্টেইট ম্যানেজারের পদ যোগদান করেন। এবং এ পদে থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।
সালেহ আহমদ খান লন্ডনে তার কর্মজীবনের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যান। তিনি লন্ডনের সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি থেকে হাউজিং স্টাডিজে’র ওপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ও পরে এমএ পাশ করেন।
পেশাগত কাজের পাশাপাশি তিনি বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলন, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কেমডেন কমিটি ফর কমিউনিটি রিলেশনস্-এর এশিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি (১৯৮৫-৮৭)। সেন্ট্রল লন্ডনের ভবনের নীচে ব্যবসা ও ওপরে বাড়িঘর এ জাতীয় বাড়িঘরের উন্নয়নের জন্য ১৯৮৫ সালে গঠিত ফিট্সরোভিয়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। কেমডেনের রিচার্ড কভডেন প্রাইমারি স্কুল ও নেটলি প্রইিমারি স্কুলের স্কুল গভর্নর (১৯৮৫-৮৭), সেইন্ট প্যানক্রাস হাউজিং এসোসিয়েশনের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্য, হোমলেস ইন্টারন্যাশনালের সদস্য ইত্যাদি।
সালেহ আহমদ খানের সুর্দরপ্রসারী চিন্তাধারা ও সক্রিয় উদ্যোগে ১৯৯১ সালের ১১ মে গঠিত হয় ‘গ্রেইটার সিলেট ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট কাউসিল’ (জিএলসি)। তিনি ছিলেন এটির প্রথম আহবায়ক। তার আরেকটি অনন্য কর্মের উদাহরণ হচ্ছে ‘ফুলসাইন্দ পল্লীস্বাস্থ্য উন্নয়ন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা।
সালেহ আহমদ খানের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ কর্তৃক ঢাকাদক্ষিণ-মোঘলা বাজার সড়ক থেকে ফুলসাইন্দ পল্লীস্বাস্থ্য উন্নয়ন কেন্দ্র পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে শেষ হয়।
সালেহ আহমদ খান তার সমাজকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে ব্রিটেনের রানীর জন্ম দিনে এমবিই খেতাবে ভূষিত হন। তিনি ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন।

ডক্টর রেণু লুৎফা
ড. রেণু লুৎফা:
সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। জন্ম ১৯৫৫ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি গোলাপগঞ্জ থানার অন্তর্গত রাণাপিং পরগণার ছত্তিশ গ্রামে। পিতা শরাফত আলী ও মা মুহিবুন নেসা খানম। সিলেট থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রাচীনতম বাংলা সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় আসেন। ১৯৮১ সাল থেকে লন্ডনবাসী। রেণু লুৎফা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: জেপি ফর লন্ডন মেজিস্ট্রেইট কোর্ট, প্রেসিডেন্ট ‘অ্যাথনিক মাইনোরিটিজ অরিজিনাল হিস্ট্রি অ্যান্ড রিচার্স সেন্টার’ (ইমোহার্ক) লন্ডন।
এছাড়াও তিনি লন্ডনের ‘বাংলাদেশ সেন্টার’, ‘গোলাপগঞ্জ উপজেলা অ্যাডুকেশন ট্রাস্ট’, ‘গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট’ ইত্যাদি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ১৯৯২ সালে আবদুল গাফফার চৌধুরী সাপ্তাহিক পূর্বদেশ-এর সম্পাদনা ছেড়ে দিলে রেণু লুৎফা একই সালের ৩০ অক্টোবর থেকে সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৯৩ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত কাগজটিকে একটি উল্লেখযোগ্য সাপ্তাহিক হিসেবে চালু রাখেন।
ড. রেণু লুৎফা ট্রেন্সরেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশি চ্যাপ্টারের আজীবন সদস্য। তার লিখিত প্রবন্ধ ‘‘Religion and Culture are here to support Humans and Humanities : Not the other way Round’-এর জন্য তিনি বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির আহবায়ক ও পরবর্তীকালে উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি তার বহুমুখী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে নারী চেতনা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। রেণু লুৎফার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গল্প: ইতরের মতো সত্য (১৯৭৯)।
কবিতা: হে ঈশ্বর তোমার যবনিকা (সিলেট: ১৯৯১); যেতে দিতে পারি না (উৎস প্রকাশন, ঢাকা: ২০১২)।
প্রবন্ধ-নিবন্ধ: জীবন বলাকা (সিলেট: ১৯৯৬); কালের কণ্ঠ (লিঙ্ক বাংলা, ঢাকা: ২০০২); কালের কণ্ঠ-২ (পলল প্রকাশনী, ঢাকা: ২০০৫); স্পর্ধিত আত্মবোধ (ইমোহার্ক, লন্ডন: ২০০৭)
আত্মজীবনী: সূর্য রাঙা সকাল ডাকে (উৎস প্রকাশন, ঢাকা: ২০১৮)।