সর্বদল বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর প্রশ্নের মুখোমুখি মোদী!
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:২১:১১,অপরাহ্ন ১৯ জুন ২০২০ | সংবাদটি ৩৩১ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: ভারতে রাজনৈতিক ঐক্যের সুর নিয়ে শেষ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা সর্বদল বৈঠক। বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারকে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। চীন যে এত বড় সৈন্য সমাবেশ করছে, সরকার কি সে খবর পায়নি? উপগ্রহ চিত্রে কি নজর রাখা হয়নি? প্রশ্ন করেন তিনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত বিরোধীদের অবহিত করার জন্য মোদীকে অনুরোধ জানান সোনিয়া।
তবে চীনকে যোগ্য জবাব দেওয়ার প্রশ্নে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জোগানোর বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একনায়কতান্ত্রিক চীনের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাম দলগুলো আমেরিকার সঙ্গে জোট না করতে মোদীকে পরামর্শ দিয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা’র।
জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় রাত ৯টায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ছিলেন। শুরুতেই লাদাখের পরিস্থিতি তথা গলওয়ানের ঘটনা নিয়ে মোদীকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, ‘কবে চীনা বাহিনী লাদাখে আমাদের এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছিল, ৫ মে, নাকি তার আগে? সরকার কি সীমান্ত এলাকার উপগ্রহ চিত্রের উপর নিয়মিত নজর রাখেনি? এলএসি বরাবর কোনও অস্বাভাবিক কার্যকলাপের খবর কি আমাদের গোয়েন্দারা দেননি? ভারতীয় এলাকায় হোক বা চীনের দিকে, এলএসিতে বড় সৈন্য সমাবেশ যে চীন করেছে, তা কি আমাদের সামরিক গোয়েন্দারা সতর্ক করেননি? সরকার কী মনে করছে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল?’ শুক্রবারের বৈঠকে মূলত এই প্রশ্নগুলোই তুলেছেণ সোনিয়া। উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্য ‘মাউন্টেন স্ট্রাইক কোর’ নামে যে বাহিনী গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল, সেই বাহিনী এখন কী অবস্থায়? তাও কংগ্রেস সভানেত্রী জানতে চান। লাদাখের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিরোধীদের অবহিত করা হোক এমন দাবিও করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে অবশ্য পুরোপুরিই ঐক্যের আহবান শোনা গিয়েছে এ দিন। তিনি বলেন, ‘চীনে গণতন্ত্র নেই, সেখানে একনায়কতন্ত্র চলে। তারা যা খুশি করতে পারে। কিন্তু আমাদেরকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্র থাকার কারণে আমাদের দেশের সরকারের অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সেই কারণে আপাতত বিভেদ ভুলে সবাইকে সরকারের পাশে থাকতে হবে। এক হয়ে কথা বলুন, এক হয়ে ভাবুন, এক হয়ে কাজ করুন। আমরা দৃঢ়ভাবে সরকারের পাশে রয়েছি।’
চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সামরিক পদক্ষেপই বা কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্যই এই সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্যিক হোক বা সামরিক, সরকারের যে কোনও পদক্ষেপকে সমর্থনের কথা বলেছে অধিকাংশ দলই। ভারতের রেল, টেলিকম এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে চীনকে কোনভাবে ঢুকতে না দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাতে প্রাথমিকভাবে ভারতের কিছু সমস্যা হতে পারে, কিন্তু সেই সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, চীনকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না এমনই কঠোর অবস্থানের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গলওয়ানের ঘটনার পর থেকে বার বার প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয় বাহিনী নিরস্ত্রভাবে সীমান্তে গিয়েছিল কিনা? যদি নিরস্ত্রভাবে গিয়ে না থাকে, তা হলে আক্রান্ত হয়েও বাহিনী গুলি চালাল না কেন? এই প্রশ্নও তোলা হয়েছে কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি দলের তরফ থেকে। তবে কংগ্রেসের শরিক দল এনসিপি এ দিন অন্য সুরে কথা বলেছে। দলের প্রধান ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শরদ পওয়ার বলেছেন, বাহিনী অস্ত্র নিয়ে সীমান্তে যাবে কিনা, তা নির্ভর করে নানা আন্তর্জাতিক চুক্তির উপরে। সেই চুক্তিগুলির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেই হয়।
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী ও টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাশ্মীর নীতির প্রশংসা করেছেন। কাশ্মীর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ার আহবাই চীনের ক্রোধের কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী ও সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রধান প্রেম সিংহ তামাং বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অতীতেও যখনই জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ আর মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও এনপিপি প্রধান কনরাড সাংমা উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে।
সিপিআই নেতা ডি রাজা সতর্ক করেছেন সরকারকে। চিনের সঙ্গে সঙ্ঘাতে যেতে গিয়ে যেন আমেরিকার জোটে যোগ না দেয় ভারত, পরামর্শ তাঁর। আর সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জোর দিয়েছেন পঞ্চশীল নীতির উপরে। ওই নীতির ভিত্তিতেই চিনের সঙ্গে সুসম্পর্কের উপরে জোর দিয়ে এসেছে অতীতের বিভিন্ন সরকার। এ দিনের বৈঠকে ইয়েচুরি ওই নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার উপরেই জোর দেন।