ভূমি অফিসে ‘ঘুষের ফিরিস্তি’ টিআইবির!
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২৯:০৮,অপরাহ্ন ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৩৮৭ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদন জানিয়েছে, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা পেতে ৫০০ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।
‘ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষের ফিরিস্তি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমির নিবন্ধন ও দলিল সেবাখাতে সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি আছে। এ খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। সেবাখাত বলতেই সুশাসনের ব্যাপক সংকট ও দুর্নীতিপ্রবণ। দলিল নিবন্ধন ও দুর্নীতি অনেকটাই সমার্থক হয়ে উঠেছে। এ খাতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে বড় দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেন রয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত আছে যে, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন ঘটেছে একজন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করতে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো কোনো ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিসে ব্যতিক্রম চিত্রও মিলেছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে সংখ্যাটা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতির অংশীজনদের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা, দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি নিশ্চিত সম্ভব হলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, সরকারের রাজস্ব আরও বহুগুণ বাড়বে।
তিনি বলেন, এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরকার এ কার্যক্রম নিলেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাই ই-নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে, তবেই এ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি কমবে।
গবেষণা পরিচালনা ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ডেপুটি ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) শাম্মী লায়লা ইসলাম এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নিহার রঞ্জন রায়।
টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।