আনোয়ার শাহজাহান একজন সৃজনশীল লেখক ও নিষ্ঠাবান সংগঠক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:০১:০১,অপরাহ্ন ১১ মার্চ ২০২১ | সংবাদটি ১০১০ বার পঠিত
লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর
প্রত্যেক জাতির গর্ব করার মত কিছু ব্যক্তিত্ব থাকে। যারা কেবল নিজের নয়, মনুষ্য জাতির কল্যাণ কামনা করেন। তাদের সুখে সুখী হন আবার তাদের দুখে দুখী হন। ন্যায়, নিষ্ঠা, মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, চারিত্রিক মাধুর্যতা দিয়ে যারা মানুষের ভালোবাসা কুড়ান। শেকড় কিংবা ঐতিহ্যের টান তারাই হৃদয়ে ধারণ করেন। পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান করেন না কেন, দেশের জন্য তাদের ভালোবাসা প্রশ্নাতীত। আনোয়ার শাহজাহান তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও তিনি বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তে লালন করেন। তাঁর জন্মভূমির প্রতি প্রীতি ধারণ করেন। নিজ অবস্থান থেকে সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য প্রচার করার জন্য তীব্র বাসনা প্রতিনিয়ত লালন করেন। আনোয়ার শাহজাহান একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে লেখক, গবেষক, সংগঠক, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী। প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যগাথার স্মারক তাঁর দেশপ্রেম। মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং সিলেট-এই ত্রিভুজ প্রেমের নিদর্শন তাঁর ‘সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও সৌধ’ গ্রন্থটি। সিলেটের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় এটা পথনির্দেশের ভূমিকা পালন করবে।
বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালির অবদান ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বর্ণিত আছে। অগণিত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাঙালি তাদের মাথা উঁচু করেছে। বিনিময়ে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের পথ বেছে নিতে হয়েছে। সম্ভ্রম হারিয়েছে অসংখ্য মা-বোন। লাখো প্রাণ আর অসংখ্য ইজ্জত হারানোর অপর নাম স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। আমাদের জাতিসত্তা আমাদের গর্বের সম্পদ। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব মানেই ঊনিশ শো একাত্তর। একাত্তরে সেসব শোকাবহ গল্প বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণায় উজ্জীবনী সৃষ্টি করে দেয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সিলেটও রেখেছিল অসামান্য অবদান। খোদ মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতিই ছিলেন সিলেটের কৃতিসন্তান বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী। বাংলাদেশের অন্যতম জেলা সিলেট ভারত সীমান্তের কাছাকাছি এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এ জেলা মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনার সাক্ষী। যুদ্ধের সময় এখানে যেমন ছিল দুঃখের, হাহাকার, তেমনই ছিল বিজয়ের আনন্দ। সিলেট অঞ্চলেই রচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বিশাল করুণ অধ্যায়। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পাকিস্তান সরকার বাঙালিকে দমনের সবরকম পন্থাই অবলম্বন করেছিল। এমনকি তারা তৈরি করেছিল আলবদর, আল শামস ও রাজাকার বাহিনী। তাদের জঘন্যতম সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশজুড়ে বীভৎস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। নরপিশাচরা পাখির মত গুলি করে সাধারণ মানুষকে মেরেছে। হত্যার পর কোথাও লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়েছে, আবার কোথাও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও হত্যাকাÐের পর স্থানীয় লোকজন সৎকার করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের দেশপ্রেমিক জনতার এমন অগণিত আত্মত্যাগের অনন্য নিদর্শন হচ্ছে বধ্যভূমি ও গণকবর। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিলেটে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্মৃতিময় ভাস্কর্য, স্মৃতিফলক, গণকবর ও বধ্যভূমি। এসব নিয়েই রচিত হয়েছে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও সৌধ। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনোয়ার শাহজাহান সমগ্র সিলেট বিভাগ ঘুরে ঘুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও স্মৃতিসোধ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা পরম মমতায় লিপিবদ্ধ করে এই গ্রন্থ সাজিয়েছেন। তাঁর দেখার বাইরেও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান থাকতে পারে। কারণ ব্যক্তি বিশেষের পক্ষে এই কাজ একা একা সম্পন্ন করা দুরূহ কর্ম এবং একপ্রকার অসম্ভব এবং দুঃসাধ্যও বটে। তবুও তিনি বহু শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে দেশকে ভালোবাসার টানে এ কাজে ব্রতী হয়েছেন এবং আশানুরূপ সাফল্যও অর্জন করেছেন। শেকড় তথা ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম আকুতি মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যে ভাস্বর করে রাখবে।
আনোয়ার শাহজাহান’র চিন্তা-চেতনার গতিপ্রবাহ বয়ে চলা নদীর মত নয়। কুলুকুলু শব্দের নদী সাগরের মোহনায় মিলিত হয়। আর সাগরের সেতুবন্ধন তো মহাসাগরের সাথে। আনোয়ার শাহজাহান’র উপলব্ধি মহাসাগর বিস্তৃত। বাঙালি তথা বাংলাদেশীদের মুক্তিযুদ্ধ এমনই একটা মোহনা, যার স্রোতধারা চেতনা এবং দেশপ্রেমের সাথেই সংযুক্ত। মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং দেশপ্রেম যেন একটি বৃন্তের তিনটি ফুল। আনোয়ার শাহজাহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশকে ধারণ করেন বলেই তাঁর চিন্তার শাণিত ধারকে এক্ষেত্রেই প্রয়োগ করেছেন।
প্রায়োগিক চিন্তার অধিকারী আনোয়ার শাহজাহানের জন্ম ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ নভেম্বর বর্তমান গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় গ্রামে। বর্তমানে তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। প্রবাসে থাকলেও দেশের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ও দরদ। এজন্য তাঁর বহুধায় বিভক্ত কর্মধারায় অনেক কিছুর সাথেই নিজেকে সংযুক্ত করেছেন। সাহিত্য, সাংবাদিকতা, লেখালেখি-গবেষণা, ব্যবসা, সংগঠক সর্বোপরি শিক্ষার প্রসারে রেখেই চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর জীবনের মূল্যায়ন হতে পারে বিভিন্ন অভিধায়। প্রতিটি পদক্ষেপেই রেখে আসছেন স্বকীয়তা আর চিন্তার প্রখরতা। তিনি নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক থেকেই যুক্ত হন লেখালেখি ও সাংবাদিকতায়। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। একটি আদর্শ জাতি নির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কল্যাণকামী চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ন্যায়-সত্য, কল্যাণের প্রচার-প্রসার এবং অন্যায়ের দমনে তাঁদের সন্ধানী-পরামর্শক চোখ সহায়ক হয় দেশ নির্মাণে। এ লক্ষ্য এবং অভিপ্রায় থেকেই আনোয়ার শাহজাহান দৈনিক খবর পত্রিকার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সাংবাদিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের প্রত্যয় নিয়ে এখনো কাজ করছে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকায় ‘জনতার মিছিল’। এরপর ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি চলে যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে গিয়ে লন্ডন থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক প্রবাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক (১৯৯৫-১৯৯৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন থেকে তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক লন্ডন বিচিত্রা (১৯৯৬-১৯৯৮), অনলাইন বাংলা পত্রিকা বাংলালিংক ডটকম (২০০২-২০০৯)। ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি আমাদের প্রতিদিন-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ত্রৈমাসিক ‘আমাদের গোলাপগঞ্জ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। আনোয়ার শাহজাহান গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য। তিনি যুক্তরাজ্যস্থ গোলাপগঞ্জ হ্যালপিং হ্যান্ডস-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সহ সভাপতি ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সদস্য সচিব এবং বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত।
আনোয়ার শাহজাহানের এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা সাত’টি। গ্রন্থগুলো: ‘সিলেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা (২ খÐ)’, ‘সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও সৌধ’, ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ এবং ‘Gallantry Award Recipient Freedom Fighters of Sylhet’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘বিলাতের দিনগুলি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ নামক গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাঁর সম্পাদনায় অনেক সাময়িকী এবং সাহিত্য-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যা থেকে তাঁর সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এবং ভালোবাসা প্রকাশ পায়। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘মধ্যাহ্নের কোলাহল’ নামক কাব্যগ্রন্থ তার সম্পাদনা জীবনের মাইলফলক ছিল। সিলেটের নবীন-প্রবীণ আটান্ন জন কবির কবিতা নিয়ে তিনি গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন। এর মাধ্যমে সিলেটের কবি-সাহিত্যিকদের সাথে গড়ে ওঠে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক। মূলত লেখাগুলোর বিষয়, আঙ্গিক বৈচিত্র্য, সাহিত্যিক মান এবং নৈপুণ্যতা পাঠকের হৃদয়কে আকর্ষিত করেছিল। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা। এর মাধ্যমে তিনি বাঙালির জাতিসত্তা এবং স্বাধিকার আন্দোলনের সাথে এক ঐকান্তিক সম্পর্কের মেলবন্ধন তৈরি করেন। লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ খ্রিস্টবব্দ জাতীয় লেখক পরিষদ, ঢাকা থেকে ‘লেখক সম্মাননা পদক’-এ ভূষিত হন। একজন সমাজসেবক হিসেবে আনোয়ার শাহজাহানের রয়েছে অসামান্য খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি সমাজের কল্যাণে কাজ করেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে সমাজকল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এসই ফাউন্ডেশন (ইউকে) কর্তৃক ‘কমিউনিটি জিনিয়াস’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
‘সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিড়জিত স্থান ও সৌধ’ গ্রন্থ আনোয়ার শাহজাহান’-এর অসামান্য পরিশ্রমের ফসল। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির অহংকার। দীর্ঘ নয় মাস ধরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে মরণপণ লড়াই করে যুদ্ধ ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। তারা বাঙালির হৃদয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে খোদিত আছেন। তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স¦াধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার দামাল ছেলেদের জীবন নিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, পাশাপাশি তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করে দেয়। শেকড়সন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক আনোয়ার সিলেটের বিভিন্ন স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক স্থানের বর্ণনা এনেছেন। ইতিহাস তাঁর মূল্যায়ন করবে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্যের সাথে সিলেটের এসব স্থানের যুগলসন্ধি দেশপ্রেমী সত্তাকে নাড়া দেবে। ‘সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও সৌধ’-এর বিস্তৃত বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি চারটি অধ্যায়ে চারটি বিভাগের নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এবং এ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ পারদর্শীতা এবং দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষা এবং কষ্ট স¦ীকার করে, গবেষণার মাধ্যমে এমন অসংখ্য স্থান ও সৌধের নাম উল্লেখ করেছেন, যা অধিকাংশ সচেতন ব্যক্তিও জানেন না। নতুন প্রজন্ম এ থেকে অবশ্যই অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং এ থেকে নিশ্চয়ই অনুপ্রাণিত হবেন। মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ অর্জনের পেছনে সিলেটের যে ত্যাগগাথা রচিত হয়েছিল- সিলেটের নতুন প্রজন্ম এ গ্রন্থ থেকে শিক্ষা অর্জন করবে। দেশমাতৃকার কল্যাণের জন্য এটা প্রেরণা হিসেবে ভ‚মিকা রাখবে। পাশাপাশি এটা আমাদের সিলেটের জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। একটি নির্দিষ্ট বিষয়, এলাকা, দেশ কিংবা প্রতিবাদ্য কোনো বিষয়ের একটি গবেষণাই শেষ নয়। আশা করব ভিন্ন মানুষের ভিন্ন চোখের যে প্রখরতা, বিচক্ষণতা, সংবেদনশীলতা, প্রেম, শাণিত চিন্তা নতুন নতুন অজানার দ্বার উন্মোচন করবে। সিলেটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় আনোয়ার শাহজাহান প্রেরণা এবং দিক-নির্দেশক হিসেবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্ম যত বেশি মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম এবং দেশ-জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার দৃষ্টি অন্তঃকরণে জাগ্রত রাখবেন, ততই দেশ ও জাতির প্রতি মমত্ববোধ বাড়বে। গবেষক সাংবাদিক ও লেখক আনোয়ার শাহজাহানের হৃদয়ে জাতির প্রতি সেই মমত্ববোধই লালন করেন। আমি তাঁর সার্বিক জীবনের কল্যাণ কামনা করি।
লেখক : শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক।