ঢাকাদক্ষিণ ডাক বাংলোর পুকুরে এ কেমন সংস্কার!
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৮:৩৪,অপরাহ্ন ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | সংবাদটি ১১৯৯ বার পঠিত
ইউনুছ চৌধুরী: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ডাক বাংলোর পুকুর সংস্কারে পুকুরের ১৫ থেকে ২০ ফুট ভেতরে গার্ড ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। পুকুরের ভেতরে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করে কি ধরনের পুকুর সংষ্কার হচ্ছে প্রশ্ন তুলে তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পুকুরের পাড়ে জেলা পরিষদ দোকান কোঠা নির্মাণ করতে চাইছে বলেও জানান তারা।
এদিকে, জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী বলছেন, যেখানে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে কাগজপত্রে সেখানেই পুকুরের পাড়। তবে, কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারের নাম ও মোবাইল নম্বর তিনি দিতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকাদক্ষিণ বাজারের মধ্যে অবস্থিত প্রাচীন বিশাল এ পুকুরটির একপাশে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও অপরপাশে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো অবস্থিত। একসময় পুকুরটির দুই পাশে পুকুরের উপরে দুটি স্টিলের সিঁড়ি এবং পানি ব্যবহারের জন্য শিকল যুক্ত বালতি ছিল। পুকুরের পানি যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা ছিল। প্রাকৃতিক ও অবস্থানগত কারণে পুকুরটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারা বলেন, পুকুরটি সংস্কার করে সৌন্দর্যবর্ধন করে একে একটি পার্কে রূপান্তর করা যায়। কিন্তু এখন সংস্কারের নামে পুকুরের ১৫ থেকে ২০ ফুট ভেতরে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করে পুকুরটি ছোট করে ফেলা হচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে এভাবে একবার পুকুরের পাড়ে জেলা পরিষদ দোকান কোঠা তৈরির চেষ্টা করেছিল। তখন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, স্থানটিকে একটি পরিবেশবান্ধব স্পট করা হোক। সেময় পুকুরের পাড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। তিনি বলেন, এখন সেই সীমানা প্রাচীর থেকে প্রায় ৫০ ফুট এবং পাড় থেকেও ১৫ থেকে ২০ ফুট পুকুরের ভেতরে কিভাবে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে তা বোধমগ্য নয়। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী সূর্যসেন রায়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পুকুরটির পাড় কাগজপত্রে যেখানে গার্ড ওয়াল সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে, বিস্তারিত কথা বলতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অফিসে আসতে বলেন। কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারের নাম ও নম্বর চাইলে তিনি কোনটিই দিতে পারেননি। উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের সাথে কথা বললে তিনিও ঠিকাদারের নাম বলেনি এবং এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের নির্বাহীর সাথে কথা বলতে বলেন।
সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহ জানান, এখন ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুকুরটি সংস্কার করা হচ্ছে। পরে পুকুরের পাড়ে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। এসময় পুকুরের অনেক ভেতরে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা বললে তিনি তা সঠিক নয় বলে জানান। এসময় মার্কেটের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশ আছে, পরিবেশের অনুমতি লাগবে না।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকায় আছেন জানিয়ে বলেন, এসে তিনি বিষয়টি দেখবেন।