নাটকে আপত্তিকর কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেন সিলেটের নাট্যকর্মীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৪২:৫২,অপরাহ্ন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৭৬৪ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: নাটকে আপত্তিকর কোন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সিলেটের নাট্যকর্মীরা।
সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত কতিপয় নাটকে ধর্মীয় পোশাককে আপত্তিকর ভাবে উপস্থাপন করা ও আধ্যাত্মিকরাজধানী সিলেটের সংস্কৃতি বিরোধী আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি অনলাইনে সৃষ্ট উদ্বুত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ন এক বৈঠকে তারা এ প্রতিশ্রুতি দেন।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর হাওয়াপাড়াস্থ আর্ক টাওয়ারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দীন আহমদ মিলনের সভাপতিত্বে এবং সিলেট- ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিলেটের তরুণ আলেম সমাজের প্রতিনিধি দল ও অভিযুক্ত নাট্যকর্মীরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আলেম প্রতিনিধি দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুখলিসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী,মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির লায়েক, মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা ইনাম বিন সিদ্দিক, মাওলানা বেলাল আহমদ চৌধুরী, মাওলানা হাবিবুর রহমান লায়েক, হাফিজ মনসুর বিন সালেহ প্রমুখ।
নাট্যকর্মীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, কামাল উদ্দীন রাসেল,শাহাদাত হোসেন লোলন, শাহেদ মুশাররফ (কটাই), রাসেল হামিদ (কাট্টুসস),আকরাম প্রমুখ।

র্দীঘ প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপি বৈঠকে নাট্যকর্মীরা বলেন, ‘আমরা সবাই মুসলমান। আমরাও ধর্ম-কর্মপালন করি। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতিকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আমরা টুপি-দাড়ি ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবো। অতীতের কোন কাজে যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে (যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে)সেটা আমরা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে আপত্তিকর কোন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
বৈঠকে তরুণ আলেম ও নাট্যকর্মীদের মধ্যকার সকল প্রকার ভুল বুঝাবুঝির অবসান কল্পে নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিহিংসামুলক, আক্রমনাত্মক স্ট্যাটাস মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। অনলাইনে থাকা (নাটকে) আপত্তিকর কথাবার্তা সংশোধনীর জন্য উভয় পক্ষের ৩ জন করে প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়।
পরে মোনাজাতের মাধ্যমে বৈঠকের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দীন আহমদ মিলন বলেন, ‘সিলেট হলো সারা দেশের তুলনায় শান্তির নগরী। হযরত শাহ জালাল (র) সহ অসংখ্য পীর আউলিয়ার এই জনপদে আমরা কেউই ধমীর্য় বিদ্বেষ চাইনা। নাট্যকর্মীদের ভুল হতেই পারে। তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আলেম সমাজের। নাট্যকর্মীরা আমাদেরই ভাই, তারা ইচ্ছে করে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারেননা। অনিচ্চা সত্বেও যদি হয়ে থাকে সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। বৈঠকে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ আর সিলেটী সংস্কৃতির পূণরুদ্ধারে উপস্থিত সকলেই সহমত পোষণ করেন।
উল্লেখ্য, নাট্যকার খটাই ও কাট্টুস এর কতিপয় নাকটে ইসলাম বিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ আনেন ফেসবুক এক্টিভিস্ট ইকবাল হাসান জাহিদসহ সিলেটের তরুণ আলেম সমাজ। তারা ফেসবুকে এনিয়ে আলোচনা করায় সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এ নিয়ে ‘আমাদের প্রতিদিন‘ এ একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়। পরে কয়েক দফায় আলেমগণ বৈঠকও করেন। অপর দিকে নাট্যকর্মীদের পক্ষেও বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের শান্ত পরিবেশ কিছুটা অশান্ত-উত্তেজনাকর পরিবেশের দিকেই যাচ্ছিল। এই অবস্থায় মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইনের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।






