বিশেষ সাক্ষাৎকার: ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৪:০৮,অপরাহ্ন ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত
ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের সন্তান, সাংবাদিক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হারুন-অর-রশিদ আসন্ন Senedd election 2026-এ Welsh Liberal Democrats-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর জীবন, সংগ্রাম, পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন আমাদের প্রতিদিন সম্পাদক আনোয়ার শাহজাহান।
প্রশ্ন: আপনার শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কিছু বলবেন?
উত্তর: আমি ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে জন্মেছি। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমাকে বাস্তব জীবনকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করেছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও সামাজিক কাজে আগ্রহ ছিল।
প্রশ্ন: যুক্তরাজ্যে আপনার পথচলা কীভাবে শুরু হয়?
উত্তর: পড়াশোনা ও কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে আসি। শুরুতে সংগ্রাম ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসা, কমিউনিটি কাজ ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।
প্রশ্ন: রাজনীতিতে আসার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী?
উত্তর:একটি রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলাম।
স্কুল ক্যাপ্টেন, কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি,জিএস নির্বাচন করেছি সেই থেকে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই আমাকে রাজনীতিতে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে দেখেছি, অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে থেকেই সম্ভব।
প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো কী?
উত্তর: আমি মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি—মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি। এছাড়া ছোট ব্যবসা, অভিবাসী কমিউনিটি এবং তরুণদের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চাই।
প্রশ্ন: প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
উত্তর: আমাদের কমিউনিটি অনেক অবদান রাখছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে থাকে। আমি চাই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনার কমিউনিটি কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে সহায়তা করবে?
উত্তর: আমি বিভিন্ন সংগঠন, চ্যারিটি ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।
প্রশ্ন: সাংবাদিকতা পেশা আপনার চিন্তাভাবনায় কী প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: সাংবাদিকতা আমাকে মানুষের কথা শুনতে ও সত্য তুলে ধরতে শিখিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবভিত্তিক করেছে।
প্রশ্ন: তরুণ ভোটারদের জন্য আপনার বার্তা কী?
উত্তর: তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারা যেন সচেতনভাবে ভোট দেয় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নেয়। আমি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই।

প্রশ্ন: নির্বাচনে জয়ী হলে আপনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কী?
উত্তর: আমি চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
প্রশ্ন: ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
উত্তর: আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।





