logo
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সিলেট
  • প্রবাসে প্রতিদিন
  • রাজনীতি
  • কলাম
  • সারা দেশ
  • সাহিত্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • আরও
    • শিক্ষাঙ্গন
    • English Section
    • আইন-আদালত
    • অর্থ ও বাণিজ্য
    • সাক্ষাৎকার
    • সম্পাদকীয়
    • Board of Managements
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • প্রবাসে প্রতিদিন
  • সিলেট
  • সারা দেশ
  • কলাম
  • English Section
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • আইন-আদালত
  • সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়
  • শিক্ষাঙ্গন
  • সাক্ষাৎকার
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • Board of Managements
  1. প্রচ্ছদ
  2. কলাম
  3. ইতিহাসের এক অবহেলিত সন্তান বাবু চিরতন মুচি এমএলসি

ইতিহাসের এক অবহেলিত সন্তান বাবু চিরতন মুচি এমএলসি


প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩৬:০০,অপরাহ্ন ০৫ জুন ২০২১ | সংবাদটি ২৪১৮ বার পঠিত

ফারুক আহমদ

 

ফারুক আহমদ:
১৯২০ সালে দক্ষিণ সিলেট সাবডিভিশন তথা বর্তমান মৌলভী বাজার থেকে আসাম লজিসলেটিভ কাউিন্সিলে সদস্য (এমএলসি) নির্বাচিত হয়েছিলেন স্থানীয় মুচি-সম্প্রদায়ের নেতা চিরতন মুচি। সে নির্বাচনে দেশজুড়ে চিরতন মুচির মতো চার্মকার, নাপিত, ধোপা, মৎসজীবী, বারুজীবী, মাঝি, ভাটিয়াল ইত্যাদি হিন্দু-মুসলিম উভয়-সম্প্রদায়ের তথাকথিত নিম্ন-সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়ে অনেকেইনির্বাচিত হতে পেরেছিলেন এবং তাও তথাকথিত ভদ্রলোকদের পৃষ্ঠপোষকতায়। মোটকথা, ১৯২০ সালটি ছিল সমাজের নিচু-সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ইতিহাস সৃষ্টিকারী বছর। এমনকী এই একই বছর ১ আগস্ট বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুর পর গুজরাটের মোদ বাণিয়া জাতীয় সঙ্গতিসম্পন্ন পরিবারে জন্ম নেয়া মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ভারতের মুক্তিসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাহিসেবে আবির্ভূত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের জাতির পিতার মর্যাদা লাভ করেছিলেন।১ কিন্তু বাঙালি ভদ্রলোক ঐতিহাসিকগণ বাংলার নানকার আন্দোলন, চা-শ্রমিক আন্দোলনসহ কৃষক- শ্রমিক মেহনতি মানুষের জীবন পণ করে সাড়া জাগানো সেই আন্দোলনগুলোর ইতিহাস এবং তাদের নায়কদের যেমন কখনও খুব একটা আমলে নেননি, তেমনিউল্লিখিত প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক সভায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যকঅস্পৃশ্য অশুচি মানুষের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাকেও তাদের লেখা ইতিহাসে স্থান দেননি। ফলে সে ইতিহাস ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়ে বর্তমানে স্মৃতি-শ্রুতি-কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত কথা হচ্ছে,”স্মৃতি-শ্রুতি-কিংবদন্তী ইতিহাস নয়, কিন্তু ইতিহাসকে ধরে রাখে তার নিজস্ব পদ্ধতিতে, আপন মনের মাধুরী মিশায়ে। যে-স্মৃতি যত প্রাচীন তাতে কল্পনার সংমিশ্রণও ততো বেশি। সেইসকল স্মৃতি-শ্রুতি ও কিংবদন্তীর অনেকগুলো পর্যায়কে ভেদ করতে পারলেই তার ভিত্তিমূলে ঐতিহাসিক তথ্যবীজ আবিষ্কার করা সম্ভব”। এ নিবন্ধে আমরা সে চেষ্টাই করবো। কারণ, ১৯২১সালের নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে মৌলভী বাজার থেকেচিরতন মুচি নির্বাচিত হবার ঘটনাটিও ঐতিহাসিক পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে কিংবদন্তিতে রূপ নিয়েছে।

নির্বাচনের পটভূমি হচ্ছে, ১৯২০ সালে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে সারা ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। ৯ মার্চ মহাত্মা গান্ধি তার প্রথম অসহযোগ ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেন। এতে বলা হয় খেলাফত প্রশ্ন ও ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাবলীর সুবিচার না হলে অচিরেই অসহযোগ আন্দোলন শুরু করা হবে। ১৯২০ সালের ৪-৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ওয়ালিংটন স্কোয়ারে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের এক বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পেশ করা হয়।২ সভায় মহাত্মা গান্ধি বলেন, `আমরা যদি স্বরাজ চাই এবং সন্তোষজনকভাবে খেলাফত সমস্যার সমাধান করতে চাই, তাহলে, অসহযোগ কর্মসূচি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।` লালা লাজপত রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, বিপিনচন্দ্র পাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ নেতা এ প্রস্তাবের ঘোর-বিরোধিতা করলেও বিরাট সংখ্যাধিক্যের সমর্থনের ভিত্তিতে অসহযোগ কর্মসূচি গৃহীত হয় এবং বৈধ ও শান্তিপূর্ণভাবে স্বরাজ অর্জন কংগ্রেসের লক্ষ বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। সভায় আন্দোলনের ৪টি ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ঠভাবে নির্ধারণ করা হয়। যথা: ক) সরকারের দেয়া উপাধি পরিত্যাগ, খ) সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজ বর্জন করে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, গ) কোর্ট-কাউন্সিল বর্জন এবং ঘ) বিদেশী পণ্য বর্জন। এই অসহযোগ আন্দোলনের ৪টি ক্ষেত্র সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হলেও পাশাপাশি মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন-সংস্কার অনুযায়ি যে-আইন সভা গঠনের প্রস্তব করা হয়েছিল, সেই নির্বাচন বয়কট করার আন্দোলন দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছিল। ১৯১৯ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুসারে কেন্দ্রীয় শাসনের জন্য একটি ব্যবস্থা পরিষদ (Legislative Assembly), একটি রাষ্ট্র পরিষদ (Council of State) এবং প্রতি প্রদেশের জন্য একটি আইন সভার (Legislative Council) বিধান রাখা হয়।৩ আসামপ্রাদেশিক আইন সভার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে তখন ৫৩ জনে উন্নীত করা হয়েছিল। এর এতে ৪১ জন নির্বাচিত এবং ১২জন অনুমোদিত সদস্য রাখার বিধান ছিল। কিন্তু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার সবার ছিল না। যারা জমির খাজনা, চৌকিদারি টেক্স দিতে পারতেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মাইনর পাশ ছিলেন, কেবলমাত্র তারাই নির্বাচক হবার যোগ্য ছিলেন। এই অ্যাক্ট নিয়ে, ১৯১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারত-শাসনবিষয়ক নতুন বিধান সম্পর্কে অমৃতশহরে কংগ্রেসের অধিবেশনে তুমুল বাদবিত হয়। কংগ্রেসের বিতর্কের প্রধান বিষয় ছিল, `নতুন শাসনসংস্কার মেনে নেয়া ও সংস্কারের জন্য মন্টেগুকে ধন্যবাদ দেয়া হবে কি না`। চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন এ নতুন সংস্কার একেবারেই বর্জন করার পক্ষে। শেষ পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন দাশ যে প্রস্তাব করেছিলেন তার সাথে যোগ করা হয়, “যতদিন পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন কংগ্রেসের মতে এই সংস্কার স্বীকার এবং সে অনুসারে কাজ করে যাতে যথা শীঘ্র সম্ভব পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন লাভ করা যায় তার চেষ্টা করা হোক এবং কংগ্রেস এই সংস্কারের জন্য মন্টেগুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে`৪। অথচ এর মাত্র তিন দিন পরে ১৯১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্রনাথ বসু, অম্বিকাচরণ মজুমদার প্রমুখ একটি কনফারেন্স আহবান করে পূর্ণ দায়িত্বশীল শাসনক্ষমতার প্রথম প্রদক্ষেপস্বরূপ নতুন শাসন-সংস্কার স্বাদরে গ্রহণ করে, সকলকে সম্মিলিতভাবে তা সফল করার আহবান জানান এবং কংগ্রেস থেকে বের হয়ে গিয়ে `ন্যাশনাল লিবারাল লীগ` (National Liberal League) নামক একটি দল গঠন করেন।৫ এই ভারত-শাসনবিষয়ক নতুন বিধান অনুসারে `প্রাদেশিক পরিষদ` নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯২১ সালের ১ এপ্রিল কার্যভার গ্রহণের কথা। সে অনুসারে ১৯২০ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে পরে৫ কংগ্রেস কলকাতা ও নাগপুর অধিবেশনে নতুন সংবিধান অনুসারে প্রথম ব্যবস্থাপক সভার (১৯২১-২৩) নির্বাচন বয়কট এবং `ন্যাশনাল লিবারাল লীগ` সহঅন্যান্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায়নির্বাচনকে হাস্যকর করে তোলার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে লন্ডনবাসী লেখক-সাংবাদিকপ্রয়াত আব্দুল মতিন তার,”স্মৃতিচারণ: পাঁচ অধ্যায়` গ্রন্থে লিখেছেন: “ভারতীয় কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনের ফলাফল কত হাস্যকর হতে পারে তার একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। বিশের দশকে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক কাউন্সিলে নির্বাচন জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক বয়কট করা হয়। তখন নোয়াখালী থেকে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পেশ করা হয়। এদের মধ্যে একজন ছিলেন মুচি, দ্বিতীয়জন ছিলেন রাস্তার ধারে সস্তায় খাবারের দোকান `ভাটিয়ালখানা`র মালিক এবং তৃতীয়জন ছিলেন ধোপা কিংবা নাপিত। তিনজনই নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভাটিয়ালখানার মালিক, মোকরম আলী ভাটিয়াল নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি বিত্তবান ছিলেন বলে শুনেছি। আমার নানার বাড়ির কাছে তিনি একটি পাকা বাড়ি তৈরী করেছিলেন। তখন আশেপাশে কোন পাকা বাড়ি ছিল না। কালো রঙের একটি মোটরগাড়িও তিনি কিনেছিলেন। গাড়ি চাপা পড়ে তার বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর গাড়িটি অপয়া বলে আর ব্যবহার করা হয়নি। দালানের পেছনে গাড়িখানি বহু দিন অযতে পড়ে থেকে এক সময় ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। এ কাহিনী যখন শুনলাম তখন তিনি প্রয়াত।”৬

নোয়াখলির মতো ঠিক একইভাবে আসাম প্রাদেশিক পরিষদনির্বাচনে সিলেটের নির্বাচনী আসনগুলোতে হয়তো এ ধরণের আরও অনেক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে জানা যায় মাত্র দু`জনের কথা মৌলভী বাজার থেকে চিরতন মুচি এবং সুনামগঞ্জ থেকে কালিচরণ মুচি। এটাই ছিল সে বছরের নির্বাচনী বাস্তবতা। সে হিসেবে সুনামগঞ্জবাসী কালিচরণ মুচিকে প্রার্থী হিসেবে এবং নোয়াখালির মানুষ একজন মুচি, আরেকজন ধোপা এবং মোকরম আলী ভাটিয়ালকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও এ নিয়ে কোনও উচ্চ-বাচ্য কখনও শোনা যায়নি বা এখনও যায় না। কিন্তু চিরতন মুচিকে ভোট দিয়েনির্বাচিত করায় মৌলভী বাজারবাসীকে, সুনামগঞ্জসহ গোটা সিলেটের মানুষ শতাধিক শত বছর পরে আজও `ফগা` বা বোকা বলে চিহ্নিত করে হাসি-ঠাট্টা করতে দেখা যায়। একজন মুচিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় মৌলভী বাজারবাসী `পগা` বা বোকা হলেও সুনামগঞ্জবাসী এবংনোয়াখালির মানুষও একইভাবে চিহ্নিত হওয়ার কথা; কিন্তু তাদের বেলা সেটা করতে দেখা যায় না। এখানে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে কেন এবং এর কারণটা কী? অথবা আদৌ যদি এ ধরণের নির্বাচন হয়ে থাকে তাহলে সিলেটের স্থানীয় ইতিহাসে এর কোনও ছিটেফুটোও নেই কেন? এ নিয়ে যুগ যুগ ধরে নানা ধরণের জল্পনা-কল্পনা চলে আসছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই মনে করেন এ ধরণের কোনও ঘটনা কখনও ঘটেনি। আবার কেউ কেউ মনেকরেন, এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে; বিশেষ করে প্রগতিশীলরা মনে করেন `সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই` এ সত্যটিইনাকি মৌলভী বাজারের মানুষ প্রমাণ করেছেন। অর্থাৎঐতিহাসিক তথ্যের অভাবে, সত্য না জেনে এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তিতর্ক এবং মুখরোচক গল্প সিলেটজুড়ে প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন চিরতন মুচিকে এমএলসি নয় মৌলভী বাজার মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছিল ইত্যাদি। আব্দুল মতিনের উল্লিখিত স্মৃতিচারণ থেকে আমরা জেনেছি যে, এ ধরণের ঘটনা ঘটেছিল এবং তার প্রকৃত ইতিহাস হচ্ছে, ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ দ্বৈত-শাসনের কারণে সারা ভারত যখন উত্তাল তখন বেজে ওঠে `আসাম লেজিসলেটিভকাউন্সিল` (এমএলসি) নির্বাচনের ঘন্টা। সে সময়ে আসাম কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন মৌলভী বাজারের (আমতৈল ইউনিয়ন) অলহা গ্রামের বিশিষ্ট জমিদার, ইন্দেশ্বর টি স্টেইটের মালিক বিশিষ্ট চা-কর শারদাচরণ শ্যাম। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রিটিশ সরকারও তখন `ন্যাশনাল লিবারাল লীগ` ও অন্যান্য তথাকথিত মডারেটদের মাধ্যমে যে কোনও মূল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর হওয়ায়, কংগ্রেস তখন নির্বাচনকে পন্ড এবং হাস্যকর করে তোলার জন্য দেশব্যাপী মুচি, নাপিত, দোপা, চর্মকার, ভাটিয়াল এ ধরণের পেশাজীবী নীরক্ষরমানুষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে আসে।নির্বাচনে জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা দেখে মৌলভী বাজার মিউনিসিপালিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং আইনজীবী, ইরেশলাল সোম নিজেকে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।ইরেশলাল সোমের এই ঘোষণা ছিল শারদাচরণ শ্যামের জন্য বিনামেঘে বজ্রপাতের শামিল। কারণ, একদিকে কংগ্রেস কর্তৃক নির্বাচন বয়কটের কারণে তিনি নিজে প্রার্থী হতে পারছেন না, আবার কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে নির্বাচন করাও ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ। অথচ তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ইরেশলাল সোম ফাকা মাঠে গোল দিয়েমিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান থেকে এক লাফে এমএলসি হতে যাচ্ছেন। সুতরাং যে কোনও মূল্যে তাকে ঠেকানো চাই।বিষয়টা যেহেতু রাজনৈতিক তাই নেতা হিসেবে তিনিস্থানীয় কংগ্রেসী গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ইরেশলাল সোমের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করাবার চেষ্টা চালান। বার বার চেষ্টার পরেও যখন মি. সোমের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানো যাচ্ছিল না তখন কংগ্রেসী হিন্দু-মুসলিম উভয়-সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দই বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেন যে, ইরেশ লাল সোমের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে তারা মুচি-সম্প্রদায়ের মাতবর চিরতনকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাবেন। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ।মৌলভী বাজারটি হচ্ছে মনু নদীর তীর ঘেষে গড়া ওঠা মৌলভী কুদরত উল্লার প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। কালের পরিক্রমায় এখন এটি একটি জেলা শহর। এ বাজারের পশ্চিম অংশে অর্থাৎ পশ্চিম বাজারে ছিল মুচি-সম্প্রদায়ের নেতা চিরতন মুচির বসবাস। ছোট্ট একটি ঝুপড়ির মতো ঘরে বসে বড়লোকদের জুতা সেলাই কিংবা পালিশ করে দেয়াই ছিল তার জীবিকা নির্বাহের মূল অবলম্বন। রাজনীতির কূটচাল, আন্দোলন, সংগ্রাম এ জাতীয় শব্দগুলো তার কানে পৌঁছালেও শব্দগুলোর সঠিক অর্থ কী তা হয়তো কোনও দিনই চিরতন মুচির জানার দরকার ছিল না এবং হতে পারে হয়তো সে চেষ্টাও সে কখনও করেনি। এমনকী ১৯২০ সালের নির্বাচনে চিরতন মুচি কিংবা এ ধরণের আরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাদেরশুধু সম্মতিদান ছাড়া আর কোনও কিছু বুঝারও দরকার ছিল না।বুঝা-পড়ার দায়-দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসী হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দের। তাই কংগ্রেস নেতা সারদাচরণ শ্যামের নেতৃত্বে সবাই দল বেধে হাজির হন চিরতন মুচির ঝুপড়ি ঘরে। জানা যায়, নিজের ঘরের সামনে এতো লোকের সমাগম দেখে চিরতনের হৃতপি- যতটুকু কেঁপে উঠেছিল তার চাইতেও বেশি সে বিষ্ময়ে হতবাক হয়েছিল যখন তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তাব দেয়া হয়। জনশ্রুতি আছে, তখন চিরতনের জবাব ছিল, `রাম রাম এ কিয়া বলো বাবু!হামি আপনার ছাথে কোন দুছ করছি যে, হামার লগে আপনারা তামছা করতে আইছন।` মোটকথা, প্রস্তাবটি সে প্রথমেআমলেই নিতে চায়নি। এতে প্রস্তাবকদের গলার স্বর সপ্তমে উঠে।হুমকি দেয়া হয় রাজী না হলে বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়ে ভিটে ছাড়া করা হবে! তাই বাধ্য হয়েই সেদিন চিরতনকে প্রস্তাবটি মেনেনিতে হয়েছিল। সম্মতি আদায়ের সাথে সাথে তার খাজনা ও ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়। কংগ্রেস ভলন্টিয়ারগণ সিলেটী নাগরি হরফে চিরতনকে দস্তখত দেয়া শেখান। একই সাথে পশ্চিম বাজারের মাড়োয়ারি দোকানে চলতে থাকে তার জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা ও মাথার ধাশা তৈরীর কাজ। জানা যায়, যেদিন মৌলভী বাজার এসডিও কোর্টে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয় তখন প্রায় ছয় ফুট লম্বা পঞ্চাশোর্ধ চিরতনের বাবুয়ানা চেহারা ও বেশভুষা দেখে সবাই অবাক। কৌতুহলী অনেকেই তখন হাসি-ঠাট্টার ছলে নানা প্রশ্ন ধরণের করছিলেন। কেউ কেউ প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিলেন চিরতন, তুমি নির্বাচিত হলে হলে কী করবা? চিরতনের উত্তর ছিল বড় বড় পোটকো ছোট কর দেয়েঙ্গা। একজন ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে আরেকজন মুচির এ ধরণের নির্বাচনী লড়াই এবং নির্বাচনে মুচির ঘরমার্ক প্রতীকের পেছনে শত শত তথাকথিত ভদ্রঘরের হিন্দু-মুসলিম উভয়-সম্প্রদায়ের জমিদার, তালুকদার, মিরাশদারের সকাল-সন্ধ্যা আধাজল খেয়ে মাঠে নামাকে নিয়ে সারা সিলেটের দৃষ্টি ছিল মৌলবী বাজারের দিকে। নির্বাচনী প্রচারণায় চিতনের বক্তব্য ছিল অনেকটা এভাবে, `বাবুরা, হামি খানবাহাদুর, রায়বাহাদুর নেহি, হামি মুচি বেটা আছি, আপনাগো খাদেম আছি, খাদেম রহেগা`। নির্বাচনে চিরতন মুচি ইরেশলাল সোমকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে এমএলএ নির্বাচিত হন। দেশের অন্যান্য এলাকার চাইতে মৌলভী বাজারের সেই নির্বাচনের বিশেষত্ব ছিল অন্য কোনও জায়গায় হিন্দু-মুসলমান ভদ্রলোকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে হাস্যকর এবং অকার্যকর করে তুলতে যা যা করার তা`ই করেছিলেন বিধায় নির্বাচনের সার্বিক চিত্রটা ছিল, `ইন্ডিয়া : দ্য রোড টু সেল্ফ গভর্নমেন্ট` গ্রন্থের বর্ণনা অনুসারে:

There seemed little to suggest that this was the red letter day in Modern India […] Still, the small Court House, we found, had been swept and garnished for use as a polling station. Two small groups of people stood listlessly outside the building, the candidates’ agents on one side of the entrance, and on the other the patwaris, the village scribes who keep the official land records, brought in from the different villages to attest the signatures and thumb marks of the voters. Inside, the presiding officer with his assistants sat at his table with the freshly prepared electoral roll in front of him and the voting paper to be handed to each voter as he passed into the inner sanctuary in which the ballot boxes awaited him. But voters there were none. From eight in the morning till past twelve not a single voter had presented himself […] nor did a single one present himself in the course of the whole day.”7
ফলে যারাই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তাদেরকে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। উল্লিখিত নির্বাচনে আসামের প্রায় দশ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ব্যবস্থাপক সভার পুরাতনমডারেট পরবর্তীকালের লিবারাল দলের সদস্য এবং তাদের সমর্থকগণ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন নাপিত, চর্মকার, মেথর, ঢুলি জাতীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট পড়েছিল মাত্র ১,৮২,০০০টি। নির্বাচনে কুমিল্লায় মকরম আলী ভাটিয়াল, মৌলভী বাজারে চিরতন মুচিসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেসমাজের নীচুতলার কিছু কিছু মানুষ ভাগ্যগুণে এমপিএলনির্বাচিত হতে পেরেছিলেন। দেশজুড়ে যখন নির্বাচনের এই চিত্র তখন মৌলভী বাজারবাসী নির্বাচনকে প- ও হাস্যকর করে তোলতে গিয়ে, একজন মুচির পেছনে ভদ্রলোকেরা জান-মাল দিয়ে দিনরাত খেটে এবং বিপুল ভোটধিক্যের ব্যবধানে আরেকজন ভদ্রলোকে পরাজিত করে প্রকারান্তরে নির্বাচনকেই সাফল্যম-িত করেছিলেন। দুর্ণামটা মূলত এখানেই। সেই নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যরা ১৯২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত এলএমসি পদে বহাল ছিলেন।৮

এখানে উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজদের ভাগ কর শাসন কর নীতি কারণে, সিলেটের কোনও কোনও ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বাংলার ইতিহাসের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।কারণ, ১৭৬৫ সালের ১২ অগাস্ট সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের নিকট থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভের পর থেকে ১৮৭৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নবগঠিত আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত সিলেট বাংলা প্রদেশের অংশ হিসেবে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল।৯

১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে দু`ভাগ করে ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, পার্বত্য ত্রিপুরা এবং আসাম নিয়ে `পর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ` গঠিত হলে সিলেট ছিল এই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল আসাম প্রদেশ পৃথক হলে পরে সিলেটকে আবারও আসামের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হলে রেফারেন্ডামেরসিলেট পূর্ববাংলার অন্তর্ভুক্ত হয়।

ফারুক আহমদ
Faruque024@yahoo.co.uk

তথ্যসূত্র:
১. মজুমদার, রমেশচন্দ্র (২০০০). বাংলা দেশের ইতিহাস, আধুনিক যুগ, জেনারেল প্রিন্টার্স য়্যান্ড পাবলিশার্স, কলিকাতা, ১৮১।
২. প্রাগুক্ত, ১৮৭।
৩. প্রাগুক্ত, ১৮৪।
৪. প্রাগুক্ত, ১৮৫।
৫. A Brief Historical Profile of Assam Legislative Assembly, by Assam Legislative Assembly, Dispur, Guwahati 781006.
৬. মতিন, আব্দুল (১৯৯৪), স্মৃতিচারণ: পাঁচ অধ্যায়, র‌্যাডিক্যাল এশিয়া পাবলিকেশান্স, ঢাকা, পৃ.-৭০-৭১।
৭. Coatman, John (1941). India: The Road to Self-Government, George Allen and Unwin Ltd, London, 74.
৮. মজুমদার, রমেশচন্দ্র (২০০০). বাংলা দেশের ইতিহাস, আধুনিক যুগ, জেনারেল প্রিন্টার্স য়্যান্ড পাবলিশার্স, কলিকাতা, ১৮৭।
৯. Hunter, W W (1879). A Statistical Account of Assam, Vol. 2, Trubner & Co., London, 260.

কলাম এর আরও খবর
রমজানের তাৎপর্য নিয়ে মনীষীদের মতামত – আফতাব চৌধুরী

রমজানের তাৎপর্য নিয়ে মনীষীদের মতামত – আফতাব চৌধুরী

Why is learning the mother tongue important?

Why is learning the mother tongue important?

সৃজনে ভাস্বর আনোয়ার শাহজাহান  – কালাম আজাদ

সৃজনে ভাস্বর আনোয়ার শাহজাহান – কালাম আজাদ

বৃটিশ সৌজন্য আর সিলেটি বদান্যতা

বৃটিশ সৌজন্য আর সিলেটি বদান্যতা

এল এ বাংলা  টাইমস এর ৮ বছর ও আব্দুস সামাদের গল্প

এল এ বাংলা টাইমস এর ৮ বছর ও আব্দুস সামাদের গল্প

পরিবারের কারও চোখ উঠলে শিশুকে কীভাবে রক্ষা করবেন

পরিবারের কারও চোখ উঠলে শিশুকে কীভাবে রক্ষা করবেন

সর্বশেষ সংবাদ
লস এনজেলস ফোবানার গনসংযোগ  সাউথ ফ্লোরিডা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় 
লস এনজেলস ফোবানার গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় 
উ্যসব মুখর পরিবেশে ৭ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ওরলান্ডোতে সম্পন্ন
উ্যসব মুখর পরিবেশে ৭ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ওরলান্ডোতে সম্পন্ন
আগামীকাল ৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর শুভ সুচনা
আগামীকাল ৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর শুভ সুচনা
আনন্দ, উচছাস ও কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ততায় ৩০ তম এক্সপো সফল
আনন্দ, উচছাস ও কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ততায় ৩০ তম এক্সপো সফল
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর ব্যাপক গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডায়
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর ব্যাপক গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডায়
বিশেষ সাক্ষাৎকার: ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ
বিশেষ সাক্ষাৎকার: ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর আয়োজনের সুচনা শুক্রবার
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর আয়োজনের সুচনা শুক্রবার
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল প্রবেশমুল্য ১০ ডলার,ফ্রী পার্কিং
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল প্রবেশমুল্য ১০ ডলার,ফ্রী পার্কিং
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর শেষ প্রস্তুুতি
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর শেষ প্রস্তুুতি
মিশিগানে  দুটি মৌলভীবাজার এসোসিয়েশন এর যৌথ সভা
মিশিগানে দুটি মৌলভীবাজার এসোসিয়েশন এর যৌথ সভা
গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন
গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন
গোলাপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান
গোলাপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান
লস এনজেলসে ফোবানার কীক অফ গালা অনুষ্ঠিত
লস এনজেলসে ফোবানার কীক অফ গালা অনুষ্ঠিত
৪০ তম ফোবানার কীক অফ গালার প্রস্তুুতি সম্পন্ন
৪০ তম ফোবানার কীক অফ গালার প্রস্তুুতি সম্পন্ন
৪০ তম লস এনজেলস ফোবানার কীক অফ গালা ২৮ মার্চ
৪০ তম লস এনজেলস ফোবানার কীক অফ গালা ২৮ মার্চ
গোলাপগঞ্জে মেলার খবরে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা,আন্দোলনের হু‌শিয়ারী
গোলাপগঞ্জে মেলার খবরে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা,আন্দোলনের হু‌শিয়ারী
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ২ ও ৩ মে ওরলান্ডোতে
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ২ ও ৩ মে ওরলান্ডোতে
ওরলান্ডোতে ১ ম বারের মত ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
ওরলান্ডোতে ১ ম বারের মত ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ২৫-২৬ এপ্রিল
৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ২৫-২৬ এপ্রিল
ওরলান্ডোতে ১ ম ওয়াজ মাহফিল ৭ ই ফেব্রুয়ারী
ওরলান্ডোতে ১ ম ওয়াজ মাহফিল ৭ ই ফেব্রুয়ারী
© 2010-2026 AmaderProtidin.com
All Rights Reserved
Editor & Publisher: Anwar Shahjahan
AmaderProtidin.com, a Trading name of Sha Capital Ltd.
Company registration No 12214710
Address: Abdul Mutlib Complex (3rd floor), Golapganj Municipality, District Sylhet Mob: 01723 655894
Email: amaderprotidinnews@gmail.com
Go to top