আগামীকাল শুরু হচ্ছে অমর একুশে বই মেলা
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২২:০৮,অপরাহ্ন ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ | সংবাদটি ২৪৭৬ বার পঠিত
শহীদুল্লাহ শহীদ ।।
অমর একুশে বইমেলাকে উৎসবমুখর করে তুলতে বাংলা একাডেমি প্রায় সব প্রস্তুততি সম্পন্ন করেছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারো সারাদেশ থেকে আগত সকল শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমীদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত অমর একুশে বই মেলা ২০১৭। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে মঞ্চ ও অস্থায়ী স্টল নির্মাণে ব্যস্ত শ’ শ’ কর্মী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবার দ্বিগুণের বেশি স্টল রয়েছে। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুক্তধারার প্রকাশক চিত্ত রঞ্জন সাহার নেতৃত্বে শুরু হয় এ বইমেলা। ১৯৮৪’ তে এসে এটি ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ নামে শুরু হয় নতুন আঙ্গিকে। এরপর থেকেই এটি বাঙালির প্রাণের মেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
আগামীকাল বিকেল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, চীনের প্রখ্যাত গবেষক ও রবীন্দ্র-অনুবাদক ডং ইউ চেন, অষ্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, ভারতের চিন্ময় গুহ। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত । মেলা মঞ্চে চলবে বিভিন্ন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘গ্রন্থ মেলার’ প্রথম চারদিনকে ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন হিসেবে।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গতবারের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকছে মেলার অন্যতম আকর্ষণ। তাই এবারো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবারের সমপরিমাণ জায়গা ৪ লাখ বর্গফুট নিয়ে শুরু হচ্ছে। এখানে ১২টি গুচ্ছ আকারে সাজানো হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ। একাডেমিক প্রাঙ্গণে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি, এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি, ইউনিটে মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিটে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ক্রেতাদের সুবিদার্থে ক্রেতাদের সামনে চমক হিসেবে থাকছে গুগল ট্রিট। এতে স্টলের নাম সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে দোকানের অবস্থান। একি সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্বপাশের স্টলগুলো পশ্চিম দিকে আনা হয়েছে। এ ছাড়া টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের মূল প্রবেশ পথে এলইডি মনিটর থাকবে। এখান থেকে মেলার প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘নতুন বইয়ের প্রদর্শশালা ’করা হয়েছে। এতে প্রতিদিনের প্রকাশিত নতুন বই দিন ভিত্তিক সাজানো থাকবে। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ও বয়স্কদের জন্য থাকবে হুইল চেয়ার। আর শিশুকর্নারে থাকছে ‘মাতৃদুগ্ধ সেবাকেন্দ্র। এটি উদ্যানের মুক্তমঞ্চের ভিতরে থাকবে। দর্শনার্থীদের সহায়তার জন্য থাকবে ডিজিটাল নির্দেশিকা। বাংলা একাডেমিতে ১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫টি ডিজিটাল নির্দেশিকা তথ্য দিবে দর্শনার্থীদের। সকলের প্রবেশের জন্য থাকবে ৪টি প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে মেলা থেকে বের হওয়ার জন্য ৪টি পথ ব্যবহার করতে পারবেন দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বিক্রেতারা। একাডেমির মূল প্রাঙ্গণে থাকবে সরকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কেন্দ্রগুলো আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে প্রকাশনা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের স্টল। এদিকে এবারের বইমেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাব-পুলিশ-ডিবির পাশাপাশি মাঠে থাকবে আনসার, ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। মেলার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় থাকবে আড়াই শতাধিক ক্লোজ সার্কিড (সিসি) টেলিভিশন ক্যামেরা। এগুলো মনিটর করার জন্য থাকবে কন্ট্রোলরুম। থাকছে অতিরিক্ত লাইটিং। মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বাংলা একাডেমির মাহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, মেলায় স্টল নির্মাণেরকাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি এ মেলাতে গতবছরের তুলনায় অনেক বেশি ক্রেতার সমগম হবে। তিনি মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, এবার মেলায় আমাদের সকলস্তরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। যে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ-র্যাব সতর্ক অবস্থায় থাকবে। পুরো এলাকাকে সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে। আশা করি এবারের বইমেলায় বইপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারবেন। এবং সকল ধরনের পছন্দের বইগুলো কেনা-কাটা করতে পারবেন।