‘খালেদা জিয়াকে দেখলে কেউ চিনতে পারবেন না’
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:০৮:০৮,অপরাহ্ন ২৬ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৩৪৯ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখলে কেউ চিনতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তার শরীরে ওজন কমে গেছে। গত এক সপ্তাহে ৪ কেজি ওজন কমে গেছে। এটি একটি সতর্কবার্তা।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
বেগম খালেদা জিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে মুক্তি দিয়ে তার পছন্দমতো দেশের হাসপাতালে অথবা বিদেশে চিকিৎসা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান দলের মহাসচিব।
বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ৩টা দাঁত ক্ষয় হয়ে গেছে। এই কারণে কষ্ট হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে তার দাঁতের চিকিৎসা প্রয়োজন। কয়েকটি দাঁত ফেলেও দিতে হবে। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না। গত এক সপ্তাহে তার ডায়াবেটিস ১৮-২০ এর নিচে নামছে না। ইনসুলিন ব্যবহারের পরেও তা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন তিনি যখন কারাগারে গিয়েছেন তখন সুস্থ অবস্থায় হেঁটে গিয়েছেন। এখন তিনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারছেন না। প্রকৃত অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ। আমি ঈদের আগের দিন অনুমতি পেয়েছিলাম ও তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি দেখেছি, তার রুমে বসার একটি চেয়ার আছে সেটিতে তিনি বসেছেন কিন্তু তাকে বসিয়ে দিতে হয়েছে। তিনি এখন বিছানা থেকে একা উঠতে পারেন না। দুজন সহায়তা করে তাকে বিছানা থেকে ওঠাতে হয়। হুইল চেয়ারে বসিয়ে ওয়াশরুম কিংবা বিছানায় নিতে সাহায্য করতে হয়।
তিনি বলেন, ১৭ মাস যাবত রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেসব মামলায় তার জামিনপ্রাপ্য সেসব মামলায়ও তিনি জামিন পাচ্ছেন না।
ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তিনি দুইবার বিরোধীদলের নেতা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুই সন্তানসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন। এখন তার সঙ্গে এইভাবে চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।






