সাক্ষাৎকার: গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে আমরা দায়বদ্ধ – এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৫:০৬,অপরাহ্ন ০৫ জুলাই ২০২৫ | সংবাদটি ১৩৫১ বার পঠিত
একান্ত সাক্ষাৎকার: গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে আমরা দায়বদ্ধ – এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী – সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। তিনি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সংসদীয় আসনে একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন।
📌 সম্পাদকীয় নোট: এই একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রবাসীদের সঙ্গে তার নিবিড় সংযোগ, দেশের বর্তমান সংকট নিয়ে তার ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা। জনগণের অধিকার আদায়ে তার অঙ্গীকার এবং দায়িত্ববোধ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বক্তব্যে। আমাদের প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা তার মত একজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতার চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে পেরে আনন্দিত।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন: আনোয়ার শাহজাহান, সম্পাদক, আমাদের প্রতিদিন, যুক্তরাজ্য।
প্রশ্ন: আপনি বর্তমানে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। এই আসনের বর্তমান উন্নয়নচিত্র ও জনগণের প্রত্যাশা সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: এই এলাকা ঐতিহাসিকভাবে প্রগতিশীল এবং শিক্ষিত জনপদ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু স্বাধীনতার এতদিন পরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জনগণ রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ সেবায় চরম অবহেলার শিকার। গত ১৭ বছর ধরে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসী উন্নয়নের নামে প্রতারণা দেখেছে। বরাদ্দ এসেছে, কিন্তু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আমি মনে করি, উন্নয়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। আমি মাঠে নেমে প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের সমস্যাগুলো হাতে-কলমে শুনছি।

প্রশ্ন: আপনি যদি নির্বাচিত হন, উন্নয়নের কোন খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি—শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগব্যবস্থা।
প্রথমত, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা ও গুণগত মানের অভাব রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাস বিকৃত করে একটি বিভ্রান্ত প্রজন্ম গড়ে তুলছে। পাঠ্যপুস্তকে সত্য ইতিহাস ফিরিয়ে আনা হবে।
দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধের অভাব রয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করবো।
তৃতীয়ত, যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা পরিবর্তনে ব্যাপক অবকাঠামোগত সংস্কার ও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করবো। মানুষ যেন তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা পায়, সেটিই আমার অঙ্গীকার।
প্রশ্ন: বিচারব্যবস্থার বর্তমান চিত্র নিয়ে আপনি কী মত পোষণ করেন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: দেশে বিচারব্যবস্থা কার্যত একদলীয় শাসনের হাতিয়ার ছিল। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। জুডিশিয়াল কিলিং, পুলিশি নির্যাতন ও বিচার বিলম্ব—এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলেছিল। আমরা এখন জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিএনপি একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন: দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আপনারা আন্দোলনে রয়েছেন। এই সময়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: এই দীর্ঘ সময় আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আন্দোলন চালিয়ে গেছি। হাজার হাজার নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন, অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার পাহাড় তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তবুও আমাদের মনোবল ভাঙেনি। এই ত্যাগই প্রমাণ করে, বিএনপি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের রায়েই অচিরেই এই স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে।
প্রশ্ন: আপনি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এসেছেন। সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলবেন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: এই সফর মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য। প্রবাসীরা আমাদের আন্দোলনের বড় শক্তি। তারা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন না, বরং রাজনৈতিক সচেতনতা ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে সদা সচেতন। ৭ জুলাই লন্ডনে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসীদের পক্ষ থেকে যে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে, তা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও প্রেরণাদায়ক। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
প্রশ্ন: যুক্তরাজ্য বিএনপি বা প্রবাসীদের রাজনৈতিক ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বর্তমান সময়েও তারা বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশে যখন গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই, তখন প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর বিশ্বদরবারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। যুক্তরাজ্য বিএনপি দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের দাবি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: তারা উন্নয়নের নামে যা করেছে, তা মূলত লুটপাট। মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অথচ তৃণমূল মানুষ বঞ্চিত। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে একটিও টেকসই উন্নয়ন হয়নি। বরং সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি খাত—সবই উপেক্ষিত। আমরা চাই সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে।
প্রশ্ন: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে বিকৃত ইতিহাস প্রবেশ করানো হয়েছে। শিক্ষকরা নির্যাতনের শিকার, শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত। আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার উপর জোর দেবো। কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রসারে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: নির্বাচনে জয়ী হলে প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কী হবে?
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী: প্রথমেই হবে প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, স্থানীয় সমস্যাগুলোর জরুরি সমাধান এবং একটি নাগরিক ফোরাম গঠন, যেখানে জনগণ সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।
প্রশ্ন: এলাকাবাসীর উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
ইমরান আহমদ চৌধুরী: গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদেরই একজন প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। আমি কথা দিচ্ছি, যদি আপনারা আমাকে সুযোগ দেন, আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে আপনাদের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করবো। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদের হবেই।


এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বর্তমানে লন্ডন অবস্থান করছেন। আগামী সোমবার যুক্তরাজ্য বসবাসরত গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার জাতীয়তাবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।





