সিসিকের বাজেটে এবারও আয়-ব্যয় সমান!
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৪৪:৫২,অপরাহ্ন ২৫ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ৫১১ বার পঠিত

আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: নতুন অর্থবছর শুরুর প্রায় দুই মাস পর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হলো সিলেট সিটি করপোরেশনের। প্রতিবারের মতো এবারও ঘোষিত বাজেটে আয় ও ব্যয় সমান দেখানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে এবার বাজেটের আকার বেড়েছে ৪০ কোটি ৭৪ লাখ ৭ হাজার টাকা। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিলো ৭৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ বাজেট ঘোষণা করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাতগুলো হলো হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর কর ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইমরাত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের উপর কর ২ কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফি বাবদ ২৫ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ১ কোটি ২০ লাখ, পানি সংযোগ লঅইনের মাসিক চার্জ বাবদ ৩ কোটি ৮০ লাখ, পানি লাইন সংযোগ ও পুণঃ সংযোগ ১ কোটি, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রভৃতি।
এছাড়া সরকারি উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ১০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২০০ কোটি টাকা, সিলেট নগরীর ১১টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকা, ভারতীয় অর্থায়নে সিলেট সিটি উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা শেখ হাসিনা শিশু পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনের এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ৫০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ৬৫ কোটি টাকা, আয় দেখানো হয়েছে।
বাজেটে রাজস্ব খাতে ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামো খাতে ৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মঞ্জুরি খাতে ২০ কোটি টাকা, বিশেষ মঞ্জুরি খাতে ১০ কোটি টাকা, সিলেট নগরী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা, ১১টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকা, ভারতীয় অর্থায়নে সিলেট সিটি উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা শেখ হাসিনা শিশু পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি করপোরেশন মাতৃসদন ও ডায়গনেস্টিক সেন্টার নির্মানে ১০ কোটি টাকা, লালমাটিয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়নে ৬০ কোটি টাকা, পানি শোধনাগারের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্যানেটারি ল্যান্ড ফিল্ড নির্মান খাতে ৫০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ৬৫ কোটি টাকা প্রভৃতি।
বাজেট ঘোষণাকালে সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র আরিফ বলেন, ‘গত কয়েক মাস গুজব এবং গণপিটুনি আতংক দেশবাসীকে স্বন্ত্রস্ত করে রেখেছিল। সিলেটের নাগরিকবৃন্দ এক্ষেত্রে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। সিলেটবাসীকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে কিছুদিন থেকে ডেঙ্গু রোগের আক্রমণ ও ভীতি আমাদের সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আল্লাহর রহমতে সিলেট এখনো নিরাপদ বলা যায়। তবু নগরবাসীর সুরক্ষার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সচেতন রয়েছে।’ নগরবাসীকে সবসময় সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
কর নির্ধারক চন্দন দাশের সঞ্চালনায় বাজেট ঘোষণাকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, কাউন্সিলর তাকবিরুল ইসলাম পিন্টু, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, আজম খান, শান্তনু দত্ত সন্তু, আব্দুর রকিব তুহিন, ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, তৌফিক বক্স লিপন, রকিবুল ইসলাম ঝলক, সিকন্দর আলী, জিল্লুর রহমান উজ্জল, আব্দুল মুহিত জাবেদ, এ কে লায়েক, তারেক উদ্দিন তাজ, মহিলা কাউন্সিলর নাজমিন আক্তার কণা, শাহানা বেগম শানু, রেবেকা আক্তাল লাকি, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






