কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে লেখক ও সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহানের ৩টি বই। এ গুলো হলো- ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা’ প্রথম ও দ্বিতীয়খন্ড এবং ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ এর প্রথম সংস্করণ। বইগুলো পাওয়া যাবে পাণ্ডুলিপি প্রকাশনের স্টলে।

মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা চরম সাহসিকতা এবং বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, তাঁদের অবদানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ধরণের খেতাব প্রদান করে। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঐ সকল সাহসী সন্তানদের জীবনবৃত্তান্ত এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের বীরত্বগাথা নিয়ে  দুইখন্ডে প্রকাশিত বইটির প্রথমখন্ডে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর-উত্তম ও বীরবিক্রম এবং দ্বিতীয়খণ্ডে বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রথম খন্ডটি প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তার অর্জন করে। দ্বিতীয়খন্ড প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের বই মেলায়। এটি মুক্তিযুদ্ধের একটি মূল্যবান গ্রন্থ। ভবিষ্যতে খেতাবপ্রাপ্তদের নিয়ে যাঁরা গবেষণা করবেন তাদের কাছে এ গ্রন্থ মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।

আনোয়ার শাহজাহানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য”। এটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে একুশের বই মেলায়। ১৯৯৬ সালে বইটি প্রথম প্রকাশিত হলেও ২০১৫ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার প্রথম লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ। বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে বইপত্র প্রকাশন থেকে।

আনোয়ার শাহজাহানের জন্ম সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার রায়গড় গ্রামে। পেশায় সাংবাদিকতা হলেও মূলত আঞ্চলিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষণা-ই তার লেখার অন্যতম বিষয়বস্তু। ১৯৯৬ সালে তার প্রথম গবেষণাগ্রন্থ ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত বের হয়েছে তার ৩টি গবেষনা গ্রন্থ, ১টি জীবনী এবং ১টি প্রবন্ধের বই। বতর্মানে তিনি ব্রিটেনে একটি অনলাইন বাংলা পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

উল্লেখ্য ২০ মার্চ সিলেটে শুরু হচ্ছে দশদিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) বইমেলা। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এ মেলা।