বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবো। আশা করি, সরকার তাতে বাধা দেবে না।’

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ২০দলীয় জোটের শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল।

শফিউল আলম প্রধান গত সোমবার রাত সাড়ে আটটায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মির্জা ফখরুল তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘সরকার বিরোধী দলকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। আমাদের সভা সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করতে দিচ্ছে না। নানা অজুহাতে গণতন্ত্রের স্পেস দিচ্ছে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত ৭ নভেম্বর জনসভা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সেই সমাবেশ করতে পারেনি।’

গত এক বছরে বিএনপির কাজের মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেছেন, ‘চলতি বছরে আমাদের সাফল্য অনেক। আমরা সফলভাবে কাউন্সিল করতে পেরেছি। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দল গোছাতে পারা, এটাও আমাদের সাফল্য।’

বুধবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনে জয়ী হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সেই থেকে এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকীতে এই দিনে ঢাকা ছাড়া সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল এবং ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।