রিফাত হত্যার ১ মাস: মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতারের দাবি!
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৪১:৩৯,অপরাহ্ন ২৬ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৪০২ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরিফ হত্যার একমাস অতিবাহিত হয়েছে। গত মাসের ২৬ তারিখ রিফাত শরিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
আজ ২৬ জুলাই আলোচিত এ হত্যাকান্ডের একমাস পুর্ণ হলো। এ হত্যা মামলার সাথে জড়িত মূল হোতারা এখন কারাগারে। প্রধান আসামী নয়ন বন্ডও ইতোমধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। আর মামলার প্রধান স্বাক্ষী ও নিহত রিফাত শরিফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও এখন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা-মাকেও রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি মিন্নির মা-বাবাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরেরও বিরোধিতা করেন তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বরগুনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, পুলিশ যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রিফাত শরীফ হত্যার মূলহোতা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৬ আসামিকে এরইমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার প্রত্যেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্ত আসামি পক্ষের কেউ কেউ কুচক্রি মহলের ইন্ধনে মামলাটি অন্যখাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
এ সময় তিনি রিফাত শরীফ হত্যা মামলাটি অন্য কোনো সংস্থায় হস্তান্তর না করার দাবি জানান।
দুলাল শরীফ বলেন, মিন্নির মা-বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ের কথা গোপন করেছেন। তারা রিফাতের সঙ্গে প্রতারণা করে মিন্নিকে বিয়ে দিয়েছেন। মিন্নির সঙ্গে বিয়ে না হলে রিফাতকে এমন নৃশংসভাবে মরতে হতো না।
রিফাত হত্যার সঙ্গে মিন্নির মা মিলি বেগম ও বাবা কিশোর জড়িত দাবি করে দুলাল বলেন, তাদের গ্রেফতার করলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কোনো বাবার বুকের ধন না হারাতে হয়।
বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মিন্নি বর্তমানে কারাগারে আছেন।






