করোনায় লকডাউনের দিনগুলিঃ বিদেশীরা দেশত্যাগ করছেন কেন?
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:০৮:৪৮,অপরাহ্ন ০৩ এপ্রিল ২০২০ | সংবাদটি ২০২৬ বার পঠিত
আনোয়ার শাহজাহান, ২ এপ্রিল ২০২০:
চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক। দেশে দেশে করোনার ত্রাস। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মুখোমুখি। লক ডাউন শহরের পর শহর। দেশের পর দেশ। বড় বড় মেগাসিটিগুলো মানুষশূন্য। বাংলাদেশেও করোনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সর্বত্র।
সর্দি, কাশি জ্বর ও গলাব্যাথা করোনাভাইরাসের মুল লক্ষণ। বাংলাদেশে এসব লক্ষণ নিয়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি রোগ নির্ণয় সংস্থা আইইডিসিআর এদের স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের কথা নমুনায় এর কোন আলামত নেই। মাত্র ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এ সংস্থাটি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর; দেশের বিভিন্ন স্থানে গত ১৮ই মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর থেকে ১ এপ্রিল বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ১৪ জেলায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবরটি অনলাইন পোর্টাল আমাদের প্রতিদিনের থেকে জানা যায়।
এদিকে রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেও অনেকেই ব্যর্থ হচ্ছেন। অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন বলে সংবাদ মাধ্যম খবরগুলো পরিবেশন করা হয়েছে।
২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক উপজেলা থেকে ২ জনের নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঐ দিন আইইডিসিআর এর মুখপাত্র এক বার্তায় দেশে আরও ২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে আক্রান্ত ৫৬ জন।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে করণীয় তুলে ধরেছিলেন। সে দিন রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণাও দেন তিনি।
এদিকে আজ ৩ এপ্রিল, শুক্রবার দুপুরে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশে সর্বশেষ করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে আরো ৫ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬১ জন। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতই ৬ জনে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
দুইঃ
করোনাভাইরাস দ্রুত বাংলাদেশে ছড়াতে পারে এই আশঙ্কায় বিদেশীরা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও শঙ্কিত বিদেশিরা। এখানকার সীমিত সংখ্যক পরীক্ষাকেন্দ্র ও হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তাই নিজেদের দেশে ফিরতে চাইছেন বিদেশী নাগরিকরা।
২৫ মার্চ রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার ২২৫ জন নাগরিক ঢাকা ছাড়েন।
২৬ মার্চ সকালে দ্রুক এয়ারের দুটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছেড়েছেন ভুটানের ১৩৯ জন নাগরিক। ওই দুটি ফ্লাইটে ঢাকায় ভুটান দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ বাংলাদেশে অধ্যয়নরত দেশটির শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।
২৭ মার্চ শুক্রবার ফেরত গেলেন সাড়ে ৪০০ শ্রীলঙ্কান নাগরিক।
৩০ মার্চ ১৫ মার্কিন কূটনীতিকসহ ঢাকা ছেড়েছেন দেশটির দুই শতাধিক নাগরিক। গুঞ্জন বাংলাদেশে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে- সেই ভয়ে ঢাকা ছেড়েছেন তারা।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে এ পর্যন্ত ২৮টি দেশ থেকে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ৩২৫ জন জাপানি কূটনীতিক ও নাগরিক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকা ছেড়েছেন। জাপান সরকারের ভাড়া করা একটি বিশেষ বিমানে তারা ঢাকা ত্যাগ করেন। জাপানী নাগরিকদের বেশীরভাগই বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।
ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ছাড়ার পরামর্শ দিল ঢাকার ব্রিটিশ হাই কমিশন। শুক্রবার দুপুরে হাই কমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়, ‘বাংলাদেশে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ঢাকা থেকে লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের বিমান এখনও চলছে। আমরা আপনাকে দেশে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিচ্ছি।’
এ মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দেশগুলির ৬০০ নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন। তাঁদের একটি অংশও ঢাকা ছাড়তে চান। বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ওই দেশগুলির কূটনীতিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ইউরোপের কূটনীতিকদের বলা হয়েছে, যেকোনও দেশ চাইলে ভাড়া করা বিমানে তাঁদের নাগরিকদের ঢাকা থেকে দেশে নিয়ে যেতে পারে। তবে যে উড়োজাহাজ ঢাকায় আসবে, সেটিকে কোনও যাত্রী ছাড়াই ঢাকায় আসতে হবে। এই ক্ষেত্রে সব সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আনোয়ার শাহজাহান
২ এপ্রিল ২০২০
লন্ডন।






