জাতিসংঘের নীরবতায় রোহিঙ্গা সংকট বাড়ছে: মাহাথির
প্রকাশিত হয়েছে : ২:২০:৫১,অপরাহ্ন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৫৭৩ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হয়েছে তা গণহত্যা ও সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব থাকায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে কঠোর সমালোচনা করে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যা ঘটেছে, সেটি গণহত্যা। ঘটনার প্রথমেই জাতিসংঘ সজাগ থাকলে রোহিঙ্গা সমস্যার সংকট আগেই সমাধান হয়ে যেত বলে জানান মাহাথির।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি সেক্রেটারিয়েট ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই সংকট নিরসনে সংস্থাটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মাহাথির।
এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আহমেদ আল-ওথাইমিন প্রমুখ।
বৈঠকে অংশ নিয়ে মাহাথির বলেন, রাখাইনে ধর্ষণ, নির্মম নির্যাতন, হত্যা সহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মিয়ানমার দাবি করেছে সেখানে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছে তারা। চরম বাস্তবতা হচ্ছে- সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে লাখ লাখ মানুষ তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমার যেহেতু জটিল এই সমস্যার সমাধানে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তাই এটা সমাধানের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরই বর্তায়।
মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে গিয়ে গণহারে আশ্রয় নিয়েছে। ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি। তাদের জন্য যতটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করেছে মালয়েশিয়াও।
তিনি জানান, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ভালো জীবনযাপনের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরাও রোহিঙ্গাদের সাহায্য করব। আশা প্রকাশ করে অন্য দেশগুলোও এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে মনে করেন তিনি। এখনই এ সংকটের অবসান ঘটানো দরকার।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। অনেক রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, রাখাইন রাজ্যে তাদের স্থান হয়েছে অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে।
মাহাথির মোহাম্মদ অভিযোগ করেন বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভয়, ঘৃণা, ত্রাস সৃষ্টি করে প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত করছে। তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকার অনাগ্রহী। সুতরাং এ পরিস্থিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই কিছু করতে হবে। কোনো জায়গায় মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল জাতিসংঘ। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের যে ভূমিকা রয়েছে, তা রাখা উচিত।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পদক্ষেপসহ অন্যদেরও নিজ নিজ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মাহাথির মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন তিনি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার আলামত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।






