বাংলাদেশে একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে মিয়ানমারের শরণার্থীদের অস্থায়ী পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিউনিখের হোটেল ব্যারিসার হফ-এ ৫৩তম নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইড লাইনে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজসভায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ বাসসের।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। কিন্তু পর্যটন শহর কক্সবাজারে তাদের অবস্থান ও কর্মকান্ডের কারণে সেখানকার পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটছে; যা তাদেরও অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য করছে। যে কারণে বাংলাদেশ সরকার তাদের একটি উন্মুক্ত, স্বাস্থ্যকর এবং নাগরিক সুবিধা সম্বলিত স্থানে সরিয়ে নিতে চায়।’
এ জন্য জার্মানি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন, প্রায় ঘন্টাকালব্যাপী এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াবলী, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক জোরদার, উন্নয়ন, শরণার্থী সমস্যাসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জার্মান চ্যান্সেলরকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়ে অবহিত করেছেন।
বৈঠকের পর দেশে বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সিস্টেমের আরো আধুনিকায়নে দু’দেশের মধ্যে একটি সমাঝোতা স্মারক এবং দু’দেশের মধ্যে সন্ত্রাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়।