সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে বাংলায় রায় দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, ‘আগের সভায় বলেছিলাম বাংলায় রায় দেব। আমি দুঃখিত, বাংলায় রায় দিতে পারিনি। বিভিন্ন কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুশির খবর হাইকোর্টের বেশ কিছু বিচারক সুন্দর করে বাংলায় রায় দিচ্ছেন। বিচারপতি খায়রুল হক ও এবাদুল হক এটার প্রচলন করেছেন।’

বুধবার (০৭ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি।

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আইনমন্ত্রীও গত মিটিংয়ে আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, বিচারক নিয়োগে একটা আইন করা যায় কিনা। আমি উনার প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানাই। আমি নিজেও চাই এটা হোক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের আইন আছে, আশা করি আমরা এটা করতে পারব।’
অনুষ্ঠানে বিচারক নিয়োগ আইন বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখে বিচারক নিয়োগ আইন করার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমাদের সেক্রেটারি সাহেব স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের বিষয়টি বলেছেন, আমিও সেটা চাই। এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারকের স্বল্পতা রয়েছে। কয়েকজন অবসরে গেছেন, আরও কয়েকজন যাবেন। এখন নিয়োগ বন্ধ করা হলে বিচার ব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাবে।’

আদালতের আদেশের কপি দ্রুত পাওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আদেশ বের হওয়ার বিষয়ে বলব-আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা সেল গঠন করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। রিসার্চ উইং হিসেবে এটা কয়েকজন বিচারক ও অফিসার দিয়ে গঠন করতে চেয়েছিলাম। প্রত্যেকটা জামিনের আদেশ, নিষেধাজ্ঞার আদেশ সাথে সাথে পক্ষ বিপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে, এটা করার জন্যে সেল করেছিলাম। এসব প্ল্যান করে মন্ত্রণালয়ে দিয়েছি। এখনো এটা পেন্ডিং।’
তিনি এ বিষয়ে তিনি আরো বলেছেন, ‘রিচার্স উইং হলে যেদিন অর্ডার হবে সেদিন আপনারা কম্পিউটারে কপিগুলো পেয়ে যাবেন। আইন মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করলে আশা করি এটা হয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সপ্রিম কো