শপথ বিষয়ে অস্বস্তিতে বিএনপির হাইকমান্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:২১:৪১,অপরাহ্ন ২৮ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৩৫৭ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বিএনপির নিচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে চাইলে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই নিতে হবে। কিন্তু এখনো দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছেন নির্বাচিত সাংসদরা। নেতাকর্মীদের চাপের কথা বলে শপথ নিতে আগ্রহ দেখালেও দলের কঠোর নির্দেশনার জন্য মুখ খুলছেন না তারা। এই অবস্থায় তারা কি করবেন তা নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। আর তাদের শপথের বিষয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
কারচুপির অভিযোগ এনে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি দলের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে দফায় দফায় নির্দেশনা দেয়া হয় বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও নির্বাচিত পাঁচ এমপিকে। দল থেকে বহিষ্কারেরও হুঁশিয়ারি দেয়া ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ায় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে হাইকমান্ড।
শুরুতে জাহিদুরের শপথ নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও শনিবার বিএনপি নেতারা বলেন, দুই একজন শপথ নিলে বিএনপির কিছু হবে না। পরে রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাহিদুরকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক সুত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকি সংসদ সদস্যদের বৈঠক থেকে ফোন করে শপথ না নেয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দেয়া হয়।শনিবার রাতের বৈঠকে লন্ডন থেকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্ত হন।এছাড়া আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেন কয়েকজন শীর্ষ নেতা। শপথ নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে সংসদ সদস্য পদ থেকে শপথ নেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুব বেশি আইনি লড়াই চালানোর সুযোগ নেই বলে নেতাদের আইনজীবীরা জানিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শনিবার আইনমন্ত্রীর এক বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শপথ নেয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও বিএনপি নেতাদের এমপি থাকায় কোনো সমস্যা নেই।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রশ্ন ছিল-বিএনপি থেকে যারা শপথ নেবেন দল তাদের বহিষ্কার করলে এমপি পদের কি হবে?
তিনি বলেন,বিএনপি থেকে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের এমপি পদ টিকে যাবে।
সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বলা আছে- কেউ যদি দলের বিপক্ষে জাতীয় সংসদে ভোট দেন বা দল থেকে যদি তারা পদত্যাগ করেন, তা হলে তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে। দল বহিষ্কার করলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে না।
অন্যদিকে শপথ না নিলেও যারা আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে তারাও একেকজন ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। কেউ আবার গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন।
চাপাইনাববগঞ্জ থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে হারুন অর রশিদ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন। বলছেন, দেখি দল কি বলে।এখন পর্যসন্ত আমাদের বারণ করা হয়েছে শপথ নিতে।তারপরও অপেক্ষা করেন সময় তো শেষ হয়ে যায়নি।
এই জেলার আরেকজন আমিনুল ইসলাম নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখছেন।
শপথ নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া শপথ নেয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আমার শপথ নেয়ার বিষয়ে পত্রপত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, তা কেবল ভিত্তিহীনই নয়, এক কথায় রাবিশ। আমি শপথ নেব কি নেব না নিজেই জানি না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত এখনো চ‚ড়ান্ত যে আর কেউ শপথ নেবে না।একথা সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।তারপরও কেউ নিলে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে যে ব্যবস্থা নেয়ার তাই নেয়া হবে।
বিষয়টি দলের জন্য বিব্রতকর কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এই শীর্ষ নেতা সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তা করছি।কারণ সবাইকে নিষেধ করার পরও শপথ নেয়া হচ্ছে। তবে এতে দলের খুব ক্ষতি দেখছি না আমরা।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন, সরকারের চাপের কারণে তাদের দলের নেতারা শপথ নিচ্ছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ছাড়া অন্য চারজনের মধ্যে দুজন অন্তত শপথ নিতে পারেন এমন গুঞ্জন আছে। কিন্তু সেটা যেন না হয় এজন্য একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে নির্বাচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।






