আটলান্টা ফোবানায় দর্শকদের জোয়াড়, রোববার ১ টায় শো শুরু
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৫৮:২৮,অপরাহ্ন ৩১ আগস্ট ২০২৫ | সংবাদটি ৪২০ বার পঠিত
জুয়েল সাদত
আটলান্টা ফোবানার শনিবার দ্বিতীয় দিবের শো তে ছিল দর্শকদের জোয়াড়৷ হাজার হাজার দর্শকদের উপস্থিতিতে আয়োজকেরা হিমশিম খেতে হয়৷ শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় শো শুরু হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঠিক মতোই চলছিল, রাত বাড়তে থাকে আটলান্টা বাসীর সবার গন্তব্যস্থল হয়ে পড়ে গেস সাউথ। মনে হচ্ছিল পুরো আটলান্টার লোকজন ওয়েস্টিনের গেস সাউথে এসে পড়েন।

রাত যখন ৯ টা তখন গেস সাউথ বাহির ভেতরে প্রবাসীদের খন্ড খন্ড আড্ডা এবং মুল ভেনুতে মিনিট হিসাব করে নানা শিল্পীদের পারফর্মমেন্স চলছিল৷। সব ফোবানায় যেখানে ১ /২ ঘন্টা বিহাইন্ডে থাকে শো, সেখানে মাত্র ৪৫ মিনিট পেছনে ছিল শো৷ স্টেজের পাশে কনভেনর নাহিদুল খান সাহেল ও মেম্বার সেক্রেটারি মাহবুব ভুইয়া ঘড়ির মিনিট হিসাব করে শো মনিটর করছিলেন।

ওয়েস্টিন এর লবি,কনভেনশন সেন্টার হয়ে উঠেছিল একটি বাংলাদেশ৷ ভেন্ডরদের মুখে ছিল হাসি৷ খাবার শেষ হয়, আবার খাবার আসে । সাজ নামের একটি বহুমাত্রিক স্টলে ছিল শত শত মানুষ।
তানিয়া আহমেদ, টনি ডায়াস তাদের স্টলে হিমশিম খাচ্ছিলেন৷ খাবারের দোকানে মুড়ি কিনতে লাইন ছিল৷ একটি সফল কনভেনশন আন্দাজ করা যায়, যখন ভেন্ডার রা খুশি খাকেন। গতকাল তা দেখা গেল।
-
কাব্য জলসা, বিসনেজ লাউঞ্জ, ইউথ ফোরাম ও সব গুলো সেমিনারে ছিল সফলতার ছাপ। ইউথ ফোরাম নতুন প্রজন্মের একটি অন্য রকম গেটটুগেদার ছিল দেখার মত। ইউথরা নানা পসরা নিয়ে এসেছিল ইউথদের উপস্থিতি ছিল তাদের ভেন্যুতে। কাব্য জলসা চলে আাড়াই ঘন্টা, মৃদুল হাসান, জুয়েল সাদত ও রেজওয়ান হৃদয় ১০০ জন কবিকে এক রুমে নিয়ে জম্পেস আড্ডায় মাতিয়ে রাখেন। হোপ ফাউন্ডেশন এর ডা: ইফতার মাহমুদ কে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। এটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর কেও বিশেষ লাইফ টাইম এচিভমেন্ট দেয়া হয়। ফোবানার ম্যাগাজিন ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। কাব্য জলসার প্রকাশনা হৃদকাব্য প্রকাশিত হয়েছে। বই মেলায় লেখকরা বই নিয়ে এসেছেন। কনসুলেটে ছিল হাজার হাজার প্রবাসী। সকাল ১০ টা সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে কনসুলেট সেবা। কনসুল জেনারেল সেহেলি সুলতানা জানান, এত প্রবাসীকে সেবা দিতে পেরে আনন্দিত। আমাদের আবারও আসতে হবে আটলান্টাতে।
মুল ভেন্যুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮ টার পর পুরো জমে উঠেছিল৷ গেস সাউথের পুরো এলাকা জুড়ে বাংলাদেশের লোকজন ২৮ টি স্টেটের প্রবাসীরা এসেছেন৷ সবাই আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন এত ব্যাপক প্রচারের জন্য৷ মাঝে মাঝে কিছু ছোট খাট সমন্বয়হীনতা থাকলেও তা কেটে উঠে৷ রাত ১০ টায় স্কলারশীপ এর চেক দেয়া হয়, সেই সময় মিডিয়া এওয়ার্ড ও দেয়া হয়। রাত সাড়ে দশটায় মানুষের ভীড় এমন একটা পর্যায়ে যায় গেস সাউথের সিকিউরিটি হিমশীম খেতে শুরু করে মুল মঞ্চের ভেতর ও বাহিরে এবং দরজার সামনে সবাই দাড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন৷ সিকিউরিটি রা বার বার সবাইকে দরজার সামনে থেকে সরে যেতে বললেও কেউ কথা শুনে না।

হোস্ট কমিটির কনভেনর, মেম্বার সেক্রেটারি বার বার অনুরোধ করেন দরজার সামনে দাড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা না করতে৷ পরবর্তিতে রাত সোয়া ১১ টায় ফায়ার সেফটির কারনে পুলিশ এসে শো সাময়িক বন্ধ করে দে।

হাজার হাজার দর্শকদের জীবনের নিরাপত্তার কারনে শো বন্ধ করে দেয়া হয়।
উপস্থিত সবাই কনভেনশন সেন্টার থেকে বের হয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে চলে আসেন ।
কারও কোন ক্ষোভ ছিল না ৷ সেফটি ফাষ্ট এটাই ছিল মুল বিষয়। তবে বড় হল হলে এরকম হত না৷ আয়োজকরা ভাবেন নাই এত লোকজন হবে।
রাতে কনভেনর নাহিদুল খান সাহেল ও হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট ডিউক খান সাংবাদিকদের জানান রোববার তৃতীয় দিনের শো দুপুর ১ টায় শুরু হবে।
প্রীতম প্রতিক দুপুর ১ টা স্টেজে উঠবেন।
হোস্ট কমিটির অনেকের ধারনা এক টিকেটে অনেকে ডুকেছেন, কিছুটা অসাধুতা অবলম্বন করেছেন। গত ২ দিন থেকে সিনিয়র কো কনভেনর কাজী নাহিদ মিডিয়াকে বলছিলেন, টিকেট কেনার জন্য সবাইকে বলার জন্য। এরপরও কেন ভেন্যুতে কিভাবে এত লোকজন হল। মনে হচ্ছে টিকেট চেকিং ঠিক মত হয় নাই।
তাই এই সমস্যাটা হয়েছে টিকেট চেকিং এ আরো সতর্ক হলে এমনটা হত না।
হোস্ট কমিটির প্রসিডেন্ট ডিউক খান বলেন, আমাদের সবার উপস্থিতি আনন্দ দিয়েছে। আমরা রোববার, শনিবারের ২ ঘন্টা কাভার করব। একটা শোতে বেশী মানুষ হওয়া আনন্দের। আমাদেরকে সবাই নানা ভাবে সাপোর্ট করেছেন।
সেফটি ইস্যুটা সকলের নিরাপত্তার জন্য জরুরী ছিল।










