ক্ষতিপূরণ দিয়ে রক্ষা পেলো গ্রীণ লাইন
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:০২:৫১,অপরাহ্ন ১০ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৪০৩ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে অবশেষে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইন এক মাস সময় পেয়েছে।
বুধবার (১০ এপ্রিল) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা ও আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। গ্রিনলাইনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে সকালে অজি উল্লাহ বলেন, গ্রিনলাইনের মালিক চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি আদালতে এসেছেন। আমাদের কিছু জটিলতা আছে। এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে এক মাস সময় দরকার।
এসময় আদালত বলেন, কিছু বাস্তবায়ন করে বিকেল ৩টায় আসুন।
এরপর বিকেলে আদালত কক্ষেই রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।
গতবছরের ২৮ এপ্রিল রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ মে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
সম্প্রতি রাসেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত বাস কর্তৃপক্ষ তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। পরে গত ১২ মার্চ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার আদেশের পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং কাটাপড়া বাম পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছিলো। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়ে ৩১ মার্চ বিফল হয় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হাইকোর্ট বিভাগ ৩ এপ্রিলের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে ৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় ৪ এপ্রিল কোম্পানির ম্যানেজারকে দুপুর ২টার মধ্যে হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার হাজির হয়ে গ্রিনলাইনের মালিক দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য রয়েছেন বলে আদালতকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে মালিক ৯ এপ্রিল ফিরবেন বলে জানান।
এরপর আদালত তাদের আদেশ বাস্তবায়ন করে ১০ এপ্রিল (বুধবার) প্রতিবেদন দিতে বলেন।






