মৃত্যুর পর ‘অগ্নিসেনা’ উপাধি পেলেন সোহেল রানা
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১০:৪৬,অপরাহ্ন ০৯ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৪৫১ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বনানীর অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা মৃত্যুর পর তাকে ‘অগ্নিসেনা’ উপাধি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শহীদ অগ্নিসেনা সোহেল রানার মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। যা কেড়ে নেয় ২৬ জনের প্রাণ, আহত হন কমপক্ষে ৭০ জন।
অগ্নিকাণ্ডের পর কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের উঁচু ল্যাডারে (মই) উঠে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ করছিলেন।
ভবনে আটকে পড়া চার-পাঁচজনকে উদ্ধার করে একসঙ্গে নিচে নামানোর সময় ল্যাডারটি ওভারলোড দেখাচ্ছিল। তাই ল্যাডারের ওজন কমাতে সোহেল নিজেই ল্যাডার বেয়ে নিচে নামছিলেন। তখন ল্যাডারের ওজন কমায় সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এতে সোহেলের একটি পা ল্যাডারের ভেতরে ঢুকে ভেঙে যায়। এ ছাড়া তার শরীরের সেফটি বেল্টটি ল্যাডারে আটকে পেটে প্রচণ্ড চাপ লাগে।
পরে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে মারা যান সোহেল।
সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সোহেল রানার মরদেহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। পরে সেখানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে সোহেল রানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কেরুয়ালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। ২০১০ সালে চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি এবং ২০১৪ সালে করিমগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন সোহেল। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মুন্সিগঞ্জ কমলাঘাট নদী ফায়ার স্টেশনে, সর্বশেষ তিনি কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।






