গোলাপগঞ্জে জমির পর্চা জালিয়াতি, আপন ৪ ভাই কারাগারে!
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৪:৩২,অপরাহ্ন ০৮ জুলাই ২০২০ | সংবাদটি ৮৬৪ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: গোলাপগঞ্জে জমির পর্চা জালিয়াতি করে ভূমি আত্মসাতের অভিযোগে আপন চার ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
তারা হলেন, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ গ্রামের মৃত আতাউর রহমান মিয়া ঠাকুরের পুত্র হেলাল আহমদ, দিলাল আহমদ, ইকবাল আহমদ ও তালাল আহমদ।
বুধবার (৮ জুলাই) সিলেটের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিন চাইতে গেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে এ জালিয়াতির সাথে জড়িত সন্দেহে আরো চার নারীকে জেলে প্রেরণ করেন আদালত। এ নিয়ে পর্চা জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের ৮ জনকে জেলে প্রেরণ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে , গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ গ্রামের মো. আখলাছ মিয়ার মালিকানাধীন হাতিম নগর দক্ষিণ মৌজার কয়েকটি দাগের জায়গার জাল পর্চা তৈরী করে একই গ্রামের হেলাল আহমদ (৪৫) ও তার পরিবারের ৮ সদস্য। পরে এই জায়গা তাদের নামে নামজারী করে নেয়।
বিষয়টি জানার পর জায়গার মালিক মো. আখলাছ মিয়া গোলাপগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে ২০১৯ সালে হেলালসহ তার পরিবারের ৮ নারী-পুরুষের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখিত চারজন ছাড়াও একই পরিবারের আরো ৪ নারীকে আসামী করা হয়। তারা হচ্ছেন, হেলালের বোন শিরিন বেগম, জুলি বেগম, হেলালের মা হোসনা বেগম লেবু ও হেলালের ভ্রাতৃবধু ফরিদা বেগম।
আদালত মামলা গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি জোন সিলেট-এর উপ-পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী আদালতে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার জে’এল ৩৩ নং হাতিম নগর দক্ষিণ মৌজার ২০নং ডিপি খতিয়ানে ( বুজারত ২২৫ ও ২২৬ নং খতিয়ানে) জায়গার পর্চা জাল করে হেলাল ও তার পরিবারের লোকজন তাদের নামে নামজারী করেন নেন। মামলার আসামীরা ২২২ দাগের স্থলে ২৭৯, ২৫৬ দাগের স্থলে ৭৩২ ও ৭৩৮ দাগ লিখে কয়েকটি জায়গার দাগে ২ শতকের স্থলে ৩ শতক, অপর একটি দাগে ৩ শতকের স্থলে ৫ শতক, ৫ শতকের স্থলে ৭ শতক লিখিয়ে জায়গা তাদের নামে সঠিক বলে নামজারী করে নেয়।
প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ৮ মার্চ মামলার ৪ নারী আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় জালিয়াতির মূল হোতা হেলালসহ চার পুরুষ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন আদালত।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর প্রধান আসামী হেলালসহ ৪ সহোদর বুধবার সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন চায়। আদালত জামিন নাকচ করে তাদের জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আসামীদের পক্ষে জামিন শুনানী করেন সিলেট জেলা বারের অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ কয়েকজন। এ সময় বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশিদ। তাকে সহযোগিতা করেন সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সামিউল আলম ও অ্যাডভোকেট শরীফ আহমদ।