গোলাপগঞ্জ আ’লীগে প্রকাশ্যে বিভক্তি, গণপদত্যাগের হুমকি!
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:০৮:০৯,অপরাহ্ন ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৫৩৭ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন নিয়ে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গত ১৩ নভেম্বর উপজেলা কাউন্সিল না হওয়ার পর থেকে ভিতরে ভিতরে বিভক্তি থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
এ বিভক্তি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপির কারণে হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন এক পক্ষ। এমনকি উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল ছাড়া বিতর্কিত কমিটি দিলে গণপদত্যাগেরও হুমকি দেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বিরোধীরা।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এমন হুশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
https://amaderprotidin.com/2019/15338/
তারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৩ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা বিলুপ্ত করে নতুন কমিটির জন্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নাম আহ্বান করা হয়। ২ পদে একাধিক প্রার্থীও নাম প্রস্তাব করেন। তৃণমূল থেকে প্রায় ৪০০ জন কাউন্সিলর নির্বাচন করা হয়, যাতে কোনো বিতর্ক বা অভিযোগ ছিল না। এই ৪শ’ বৈধ কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচনের দাবি জানায়। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যেও বার বার হস্তক্ষেপের কারণে ভোট প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি নিজের পছন্দের টিআর কাবিখা খেকো, গ্যাস সিলিন্ডার জালিয়াতি চক্রের লোকদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শতভাগ কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে ভোটের দাবিতে অনড় ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ তার পছন্দের লোকদের ভোটের মাধ্যমে বের করতে পারবেন না বিধায় বিভিন্ন অপকৌশলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনও স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, তৃণমূলের বুকে ছুরিকাঘাত করে একজন সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম মেম্বার গোলাপগঞ্জে নিজের অনুগত ও বহুল বিতর্কিত লোকদের দিয়ে কমিটি করতে চান। অথচ একই নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যের নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজারে সম্মেলন ও কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুটি উপজেলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছেন এই সংসদ সদস্য।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বিষয়ে প্রায় ৩৫০ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন গত ১৮ নভেম্বর আ’লীগ সভাপতি/সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বস্ত করেছেন কোনো বিতর্কিত কমিটি হবে না। কিন্তু পরস্পর শুনতে পাচ্ছি এক তরফা কমিটি চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তৃণমূলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কাউন্সিলরবৃন্দের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিতদের দিয়ে এক তরফা পকেট কমিটি দিলে তৃণমূল কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না। বরং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখা থেকে গণপদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সদর উপজেলা কমিটিও স্থগিত করে পুনরায় কমিটি দেওয়া হয়েছে, নেতাকর্মীরা গোলাপগঞ্জেও নেতৃবৃন্দের এ ধরণের ভূমিকা আশা করেন। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে আওয়ামী লীগ দরকার, সেই আওয়ামী লীগ দিয়ে কমিটি চান নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বাঘা ইউনিয়ন সভাপতি সাইদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ, গোলাপগঞ্জ পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, সদর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু, ফুলবাড়ি ইউনিয়ন সভাপতি মশাহিদ আলী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মজিদ রুশন, আমুড়া ইউনিয়ন সভাপতি বদরুল হক, সম্পাদক কামরান হোসেন, শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন সভাপতি লুৎফুর রহমান, বাদেপাশা ইউনিয়ন সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, লক্ষণাবন্দ ইউপি সভাপতি রুকন আহমদ, সম্পাদক আফতাব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সাবেক সভাপতি আবুল বশর মো. সদরুল্লাহ চৌধুরী, ভাদেশ্বর ইউপির সাবেক সভাপতি ময়নুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জ ইউপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল ওদুদ, সদস্য সাবেক শ্রম সম্পাদক শরিফ উদ্দিন শরফ, সদ্য সাবেক ত্রাণ সম্পাদক আবুল লেইছ, সদ্য সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক কামাল পারভেজ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, কোষাধ্যক্ষ রফিক আহমদ মাখন, সদস্য হেলাল আহমদ, লক্ষিপাশার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন, আরিফ আহমদ মজন, বাদেপাশার এনামুল হক এনাম, বাঘা’র রমিজ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা দক্ষিণের ফজলুল হক প্রমুখ।






