গোলাপগঞ্জের পর সদরেও সমঝোতায় কমিটি দিতে পারেনি আ’লীগ!
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩১:৩৫,অপরাহ্ন ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৪৯১ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা কমিটি সমঝোতার মাধ্যমে গঠনে ব্যর্থতার পর এবার সিলেট সদর উপজেলায়ও ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। তবে গোলাপগঞ্জে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল করলেও সদর উপজেলায় এমন প্রতিবাদের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রবিবার (২৪ নভেম্বর) সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল ছিল। উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি।
সম্মেলন শেষে বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশনে কেন্দ্র ও জেলার নেতারা সমঝোতার মাধ্যমে সভাপতি-সম্পাদক মনোনীত করার প্রস্তাব দিলে তা না মেনে কাউন্সিলররা হট্টগোল শুরু করলে পন্ড হয়ে যায় কাউন্সিল। এতে কমিটি না করেই ফিরে আসেন নেতৃবৃন্দ।
এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক তাদের বিভিন্নভাবে বুঝাতে চাইলেও তারা দাবিতে অনড় থাকেন। ফলে কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করে চলে যান তারা।
পরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারাও তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। শেষে কমিটি না করেই ফিরে যান তারাও।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কাউন্সিলরদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে এ নিয়ে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তাই আমরা এই তালিকা সংশোধনের কথা বলেছি।’ তালিকা সংশোধন করে পরে নতুন কমিটি করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গ, দীর্ঘ ১১ বছর পর সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪ জন নেতা লড়াইয়ে ছিলেন।
যদিও শেষ পর্যন্ত এদের মধ্যে সভাপতি পদের ৭ জন এবং সম্পাদক পদের ৮ জন নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে চূড়ান্তভাবে সভাপতি পদে ৩ জন এবং সম্পাদক পদে ৬ জন মাঠে ঠিকে আছেন।
এরআগে, গত ১৩ নভেম্বর দীর্ঘ প্রায় ১৬ পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন শেষে শুরু হয় কাউন্সিল। কাউন্সিলরা যখন ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই প্রস্তাব আসে সমঝোতার মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠনের। প্রস্তাবের সাথে সাথে উপস্থিত ডেলিগেটরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এসময় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ জেলা নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার জন্য নেতৃবৃন্দ বার বার অনুরোধ করলেও বিক্ষুব্ধদের থামানো যায়নি। ফলে কমিটি গঠন না করে সভাস্থল ত্যাগ করেন নেতৃবৃন্দ। পরে রাতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গোলাপগঞ্জ পৌর সদরে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর জড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।






