জামিনে থাকা আলোচিত ‘মিন্নি’ কেমন আছেন!
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৪১:৪০,অপরাহ্ন ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৬৯১ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: কিছুদিন আগে জামিনে মুক্ত হয়েছেন বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও আসামি তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তিনি এখন বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার বাবার বাড়িতে বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় রয়েছেন। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বামীর নৃশংস খুন নিজ চোখে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন মিন্নি। চিৎকার করে ওঠেন নিজের অজান্তেই। মিন্নির পরিবার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এসব কথা জানিয়েছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।
মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি মেয়েকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে উপস্থিত লোকজন ‘জেলখানায় কেমন ছিলেন’ জানতে চাইলে মিন্নি দ্রুত ঘরে ঢুকে যান। পরে মিন্নির বাবা আগত সবাইকে মিষ্টিমুখ করান।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা ও বাবার জিম্মায় থাকার শর্তে জামিন পেয়েছেন মিন্নি। জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিন্নিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এর পর থেকে চুপ হয়ে যান মিন্নি। বাসায় ফিরে বাবা-মা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বক্তব্য না দিলেও মিন্নি তার ওপর চালানো পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনের কথা বাবাকে জানিয়েছেন।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। সদা চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। কিছুই খেতে চায় না। সবসময় নিজের ঘরের মধ্যে চুপচাপ থাকে সে। কখনও কখনও কাঁদে।
তিনি আরো বলেন, মিন্নি এখন যে ঘরে থাকে, সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে সে।
বিষয়টি নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহবার উদ্দীন বলেন, মিন্নির মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। তার স্বল্প বয়সের জীবনে যা ঘটেছে, গণমাধ্যমে তা দেখে আমরাই ঘাবড়ে গেছি। তার সুন্দর জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে একটা ঘটনা। যা থেকে ঘটে গেছে আরও অনেক ঘটনা। এসব ঘটনা যখন তার মনে পড়ে, সেসব দৃশ্য যখন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন তার স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। এসব কারণে মূলত মিন্নি উদাসীন, বিষণ্ন ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে জনগণ ও স্ত্রী মিন্নির উপস্থিতিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। আলোড়ন সৃষ্টি হয় গোটা দেশজুড়ে।






