পার্লামেন্ট ভবন ও আয়াতুল্লাহ খোমেনির মাজারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শোক জানিয়েছেন তাকে ‘অরুচিকর’ অ্যাখ্যা দিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের ওই শোকবার্তা তার দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন।

বুধবার আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও বন্দুকধারীরা আধাঘণ্টার ব্যবধানে তেহরানে পার্লামেন্ট ভবন ও দেশটির একসময়কার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মাজারে হামলা চালালে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়। আহত হয় বহু মানুষ।

আইএস হামলার দায় স্বীকার করে পার্লামেন্টের ভেতরে বন্দুকধারীদের হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে জানান, হামলাকারী সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ আরও পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা তৃতীয় আরেকটি হামলার পরিকল্পনা করছিল বলেই বিশ্বাস তাদের।

হামলার জন্য শুরু থেকেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে ইরান।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শোকবার্তা।

ওই বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি হতাহতদের জন্য প্রার্থনা করছেন।

শোক বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেন, “তবে যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিচ্ছে, তাদের বোঝা উচিত যেই শয়তানকে তারা বাড়তে দিচ্ছে সেই শয়তানের দ্বারা তারাও আক্রান্ত হতে পারে।”

ট্রাম্পের বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করেন জাভেদ জারিফ টুইটারে লেখেন, “হোয়াইট হাউজের বিবৃতি অরুচিকর…যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া এই ধরনের বন্ধুত্ব ইরানের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।”

কঠোর অনুশাসনের শিয়া মুসলিম প্রধান দেশ ইরানে আইএস এর হামলার দায় স্বীকার এটিই প্রথম। আইএস বলেছে, তাদের ৫ যোদ্ধা পার্লামেন্ট এবং মাজারে ঢুকে গুলি এবং গ্রেনেড হামলা চালায়।

আইএসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানে শরিয়া আইন চালু না হওয়া পর্যন্ত ‘খিলাফত সেখানকার শিয়া মুসলিমদের রক্ত ঝরানোর একটি সুযোগও ছাড়বে না’।

আইএস শিয়া মুসলিমদেরকে স্বধর্মত্যাগী হিসাবেই দেখে এবং ইরাক ও সিরিয়ায় তারা ইরান-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে।

ইরানের রেভলুশনারি গার্ড এ হামলার নেপথ্যে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে অভিযোগ করে বলেছে, তারা রক্তাক্ত এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছে।