সিরিয়ায় হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করেছে রাশিয়া।

রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের হামলা আবার চালানো হলে ‘চরম’ ফলাফলের মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার সিরিয়ার শায়রাত বিমানঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, রাসায়নিক হামলায় এ বিমানঘাঁটি জড়িত ছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক হস্তক্ষেপ। এতে করে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিভেদ আবারও স্পষ্ট হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাহাজ ইউএসএস পোর্টার ও ইউএসএস রোস ভূমধ্যসাগার থেকে শায়রাত বিমানঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পেন্টাগনের দাবি, এ বিমানঘাঁটি বিষাক্ত গ্যাস হামলায় যুক্ত ছিল।

গত জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা নেওয়ার পর বিদেশনীতি বিষয়ে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয় বড় সিদ্ধান্ত। সিরিয়া গৃহযুদ্ধের ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যা করেননি, তা-ই করলেন ট্রাম্প- সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালালেন সিরিয়ায়। সিরিয়া গৃহযুদ্ধের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন ওবামা।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কারণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার দেশের জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে। এ রাসায়নিক হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমের তথ্যের ভিন্নতা থাকলেও কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক আগ্রাসনের পর নড়েচড়ে বসেছে রাশিয়া। এ ধরনের হামলার ফল ভালো হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে রুশ প্রশাসন। বাশার আল-আসাদকে কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকে উপদেশ দিয়ে তাকে সাহায্য করে আসছে রাশিয়া।

শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির স্যাফরংকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অবৈধ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপে খুবই মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।’

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, এটি প্রায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টির মতো ঘটনা।

অবশ্য সিরিয়ায় হামলার আগে রাশিয়াকে অবহিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সিরয়ার কর্মকর্তারা মাকির্ন হামলা আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, বিমানঘাঁটিতে রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী ও সামরিক হেলিকপ্টার রয়েছে। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানে বাশার আল-আসাদকে সহযোগিতা করছে রাশিয়া।