আ ন ম শফিকুল হককে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুদান নিয়ে সাংবাদিক জুয়েল সাদাতের আবেগময় স্ট্যাটাস!
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:২০:২২,অপরাহ্ন ২০ জুন ২০১৯ | সংবাদটি ৮০৪ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বর্ণিল ক্যারিয়ারের অধিকারী আ.ন.ম. শফিকুল হক বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটো দায়িত্ব পালন করেছেন। থাকতেন নগরীর সুবিদ বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালের কাছে থাকার জন্য দুই মাস আগে বাসা পরিবর্তন করেছেন। উঠেছেন উপশহরে একটি ভাড়া বাসায়। শরীর কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছে, দিনে এক বেলা তরল খাবার খান। উঠে বসতে পারেন না। তাই বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটছে তাঁর।
শিক্ষক ও সাংবাদিক থেকে দক্ষ রাজনীতিবিদ আ. ন. ম শফিক সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতির এক বটবৃক্ষ। রাজনীতির জন্য জীবনের পুরোটাই বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছ ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে দিনরাত শ্রম দিয়ে সংগঠনকে শক্ত একটি অবস্থানে এনেছেন। তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে হাজারো নেতা কর্মী। কিন্তু চোখের করুণ ভাষা আর হৃদয়ের দীর্ঘ শ্বাস জানান দেয়, জীবনের শেষ বেলায় তিনি বড়ো অসহায়, নিঃস্ব। বাড়ি নেই, গাড়ি নেই, ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, সাথে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে বাসা বেধেছে তাঁর লিভারে। অর্থনৈতিক দৈন্য আর রোগে-শোকে জীর্ণ-শীর্ণ তিনি ।
বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবীদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
দলের জন্য নিবেদিত শয্যাশায়ী আ ন ম শফিককে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মাত্র ৫ লাখ টাকার অনুদান দেয়ায় সিলেটের অনেকেই আহত হয়েছেন। এরকম একজন নেতার জন্য মাত্র ৫ লাখ টাকা!
এভাবে আহত ও মনে কষ্ট পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগময় লেখা পোস্ট করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক জুয়েল সাদাত।
পাঠকদের জন্য লেখাটি তুলে ধরা হলো।
সিলেটে আ ন ম শফিক একটা ইষ্টিটিউশন ছিলেন। রাজনীতি তে কাটিয়েছেন ৪০ বছর জেলার দায়িত্বে ছিলেন ২৫ বছর। আজ শয্যাশায়ী। অনেক লেখালেখি করে উনার চিকিৎসার জন্য পাওয়া গেল ৫ লাখ। বিএনপির নেতা চলচিত্রের খলনায়ক আহমদ শরীফ পায় ৩৫ লাখ। যারা সিনেমা,নাটক গায়ক, লেখক,কবি সারা জীবন কমার্শিয়াল রুজি করে টাকা কামিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ২০/২৫/৪০ লাখ পেয়েছেন। মরহুম হুুমায়ুন আহমেদ ছিলেন শত কোটির মালিক উনাকেও ১০ হাজার ডলার দেয়া হয়েছিল আর আ ন ম শফিক পোয়েছেন ৫ লাখ। হিসাব মেলে না। আওয়ামী রাজনীতিতে সিলেট সব সময় অগ্রসর ছিল, সেই সিলেটের অগ্নি পুরুষ স্বজন এর এই দুরবস্থা শিক্ষনীয়।। আমার সাথে ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি তে দেখা হল ১৮ বছর পর, চিনলেন কিন্তুু উনাকে মেলাতে পারলাম না । দল ক্ষমতায় ১১ বছর উনি নিগৃহীত।। আজ সকালে ৫ লাখ টাকার সংবাদ বেশী আহত করেছে। দেড় দু কোটি খরচ করেছে পরিবার।। ওবায়দুল কাদের থেকে উনার অবদান কম নয়।।
২০০১ সালে দেশ ছাড়ার আগে দেখেছি আমার বোন জামাই হাজী মতিন ভাইয়ের বাসায় ভাড়া থাকতেন। মতিন ভাই জোড় করে নিয়ে এসেছিলেন নেতাকে।। আমাদের আ ন ম শফিক ভাইয়ের জন্য দোয়া।। সিলেটে কেউ তিনটি লোভনীয় পদ নিয়ে বসে আছেন অথচ শফিক ভাই আজ অবসরে অসুস্থ।। এই পরিনতি অনেকেরই আসবে।।। সময় ক্ষমা করবে না।।। আওয়ামী লীগ ৭০ বছর পুর্তিতে প্রতি জেলায় দুজন নেতাকে সম্মান জানাবে, সেখানেও শফিক ভাইয়ের নাম নাই।। রাজনীতির অংক লসাগু না গসাগু বুজি না, আজও।। আমিন






