কবি পরিচিতি: গীতিকার ও শিল্পী মাহতাব শাহ ফকির
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:০৫:৫৩,অপরাহ্ন ২২ মে ২০১৯ | সংবাদটি ১২৮৯ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বাংলাদেশের খ্যাতিমান অনেক লেখক, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী দেশ-বিদেশে রয়েছেন। আমাদের দেশের বর্তমান অনেকেই তাদের চিনেন না বা তাদের সম্পর্কে অজানা। তাই অনলাইন পোর্টাল আমাদের প্রতিদিন নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের পরিচিতি তুলে ধরতে চালু করেছে ‘সাহিত্য আসর’। ধাপে ধাপে আমরা সকলের পরিচিতি সবার কাছে তুলে ধরবো। এতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।আজ প্রথম পর্বে রয়েছে সিলেটের মরমি ধ্রুবতারা মাহতাব শাহ ফকিরের পরিচিতি। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার, পুঁথিকার ও একজন শিল্পী।
ধ্রুবতারা মাহতাব শাহ ফকির সিলেটের ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি রানাপিং ভুটিটিকর (ফাজিলপুর) গ্রামের মরহুম হাজি মোঃ মনাফ অালি ও মোছা: হালিমা খানমের পুত্র। তিনি ১৯৭৮ সালের ০৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
শিক্ষা:
ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক (বর্তমান এসএসসি) পাস করে সিলেট শহরে মদন মোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও এম সি কলেজ (মুরারীচাঁদ সরকারি কলেজ) থেকে গ্রাজুয়েশন (ডিগ্রি ও মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সিলেট অাইন মহাবিদ্যালয়ে (সিলেট ল’ কলেজ) অাইন বিষয়ে পড়াশুনা এবং একই সাথে (মুরারীচাঁদ সরকারি কলেজ) এমসি কলেজে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শ্রেণিতে অধ্যয়ণ করলেও তা সম্পন্ন করা হয়নি।
সাহিত্য জগত:
স্কুল জীবন (অাশি দশক এর শেষ দিক) থেকে কবিতা ও গান রচনা করতে থাকেন। নব্বই দশকে এসে এই ঝোঁক অারো বাড়তে থাকে। সঙ্গীতের এক মহান সাধক সামসুল হুদা চৌধুরী (মায়া শাহ) এর অনুপ্রেরণায় পুরোপুরি গানের জগতে প্রবেশ করেন। বিখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী স্বর্গীয় শ্রী ভবতোষ চৌধুরী এবং এডভোকেট জুনেল অাহমদের কাছেও গানের তালিম নেন। তার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় বিখ্যাত “সিলেটের ডাক” ও “শ্যামল সিলেট” পত্রিকায় ১৯৯৫ সালে।
মাহতাব শাহ ফকিরের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ১২০০র অধিক। বেশ কিছু জনপ্রিয় পুঁথিও এখনো তার লেখালেখি বর্তমান। তার লেখা গান নিয়ে এলবাম “কেন মন মজাইলাম” (বাউল শিল্পী ফিরুজ মিয়ার কণ্ঠে) ,স্বকণ্ঠে চারটি এলবাম অন্তরে অনন্ত জ্বালা , অন্তরে বাহিরে শ্যাম, দরদী সুজন, বাদশা বাবা শাহজালাল প্রকাশিত হয় । নব্বই দশকের শেষদিকে প্রকাশিত এলবাম গুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
এছাড়াও তাঁর নিজের সম্পাদনায় সঙ্গীতগুরু সামছুল হুদা চৌধুরী (মায়া শাহের) গান নিয়ে ‘মনঃপীড়া’ গীতিগ্রন্থ ২০০৭ সালে প্রকাশ করেন।
অনেক উদীয়মান শিল্পী মাহতাব ফকিরের গান গেয়েছেন। জনপ্রিয় বাউল মরহুম ফিরুজ মিয়া, হাসনাত কবীর, আশরাফুল পাভেল, সাজ্জাদ সুমন, সাজু, বাপ্পী সহ বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তার গান নিয়ে কাজ করছেন।
সিলেটের মরমী অাকাশের অারেক নক্ষত্র হাসনাত মুহঃ অানোয়ার ( কাকঁন ফকির) সহ অসংখ্য প্রবাসী গীতিকারের গান প্রাণ পেয়েছে তার সুরের ছোঁয়ায়। লন্ডনের বাংলা ভাষাভাষী চ্যানেল গুলোতে তিনি নিয়মিত গান করেন। তার রচিত ও পরিবেশিত পুঁথিগুলো দেশে ও দেশের বাইরে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাংলাদেশে মৌলভীবাজারের রেডিও পল্লীকণ্ঠ এফ এম ৯৯.০২(ব্র্যাক) ও বাংলাদেশ বেতার -সিলেট এ নিয়মিত তার রচিত ও সুরারোপিত গান ও পুঁথি প্রচারিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ম্যাগাজিনে তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। তারঁ রচিত ও পরিবেশিত পুথিঁগুলো খুবই জনপ্রিয়। বিশেষত, রত্নগর্ভা সিলেটের কৃতিসন্তান হাসনাত মুহ.অানোয়ার (কাঁকন ফকির) রচিত ‘বিলাত নামা ‘ পুঁথি তার কণ্ঠে ও রেডিও পল্লীকণ্ঠ- মৌলভীবাজার থেকে প্রচারিত হবার পর বিপুল অালোড়ন সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও রক্তে ভেজা বাংলা ভাষা, মৌলভীবাজারের কথা, রক্তে ভেজা বিজয় সহ অসংখ্য পুঁথি ছড়িয়ে দিচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে। যা পুঁথি সাহিত্য কে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। সেই নব্বই দশকে ছাত্রজীবনে ‘সিলেটের ডাক’ ও ‘শ্যামল সিলেট’ পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হওয়া থেকে অাজ অবধি সে ধারা বহমান। ইউটিউব, ফেসবুক সহ সকল যোগাযোগ মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতি ও গানের বিপুল গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিভিন্ন সংঘঠনের সাথে জড়িত। ২০০৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডে বসবাস করলেও তার গানে ফোটে উঠে মাতৃভূমির সুর। নিয়মিত লাইভের মাধ্যমে তিনি থাকতে চান মাতৃভূমির স্বজনদের কাছাকাছি। গাইতে থাকেন মাটির গান।
যোাগযোগ:
শাহ নিবাস ফোকাস ৪০ ব্লক বি, উত্তর বালুচর, সিলেট- ৩১০০।
ইংল্যান্ড ঠিকানাঃ
mobile : +44 7826 235661.
fb id : www.fb.Mahtab Shah Fokir






