ফোবানা এবং ফোবানা বইমেলার নস্টালজিক মোমেন্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ২:২৯:২৯,অপরাহ্ন ০২ অক্টোবর ২০২৩ | সংবাদটি ৮২০ বার পঠিত
সাইফুল মাহমুদ চৌধুরী

ফোবানা এবং ফোবানার বইমেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে লিখছেন, ভাবলাম একটু সময় দেই। আজকাল আমার পেশা আমাকে যেভাবে অজগর সাপের মত আষ্টেপিষ্টে পেঁচিয়ে ধরে আছে এর থেকে নিঃশ্বাস নিয়ে সময় বের করা এত সহজ হচ্ছেনা। লেখালেখির মত আর একটি শখকে পাশাপাশি চালিয়ে নিতে সময় ব্যবস্থাপনা আমার জন্য দুরূহ হয়ে উঠছে। যদিও ফোবানা বইমেলা আমাকে এই বিষয়ে অন্যভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে, সেই বিষয়ে পরে আসছি। ডালাসে অনেক সংঘটন রয়েছে, তাদের সব অনুষ্ঠান গুলতে আমার খুব একটা যাওয়া হয়না। মাঝে মাঝে দুই একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাই। আমরা সবাই আমাদের নিজস্ব বৃত্তে থাকতে পছন্দ করি। আমি আড্ডাবাজ মানুষ, তবে আজকাল একটু ভয়ে থাকি যদি কোন ক্রস ফায়ার আড্ডাতে পড়ে যাই, তাই বড় যায়গায় গেলে নিজেকে একটু গুটিয়ে রাখতে চেষ্টা করি।

যাইহোক, ফোবানা সংগঠন সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম, তবে কখন এর কোন অনুষ্ঠানে যায়নি। আসলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি কারণ আমি যেসব স্টেটে থেকেছি সেখানে ফোবানা কখনও হয়নি। কাজেই ফোবানা সম্পর্কে আমার তেমন পর্যাপ্ত ধারনা ছিলনা তাই এটা নিয়ে আমার তেমন কোন উৎসাহ ছিলনা। ফোবানা মানে আমার কাছে বাংলাদেশ থেকে কিছু নামীদামী শিল্পী আসবে এবং গান বাজনা হবে এটাই ধারনা। আমার মনে হয় এটা এখনো অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধারনা। কাজেই ডঃ নাসির উদ্দিন ভাই যখন আমাকে জানাল উনি ফোবানাতে সেমিনার প্রোগ্রামের দায়িত্বে আছেন এবং উনি চাচ্ছেন আমি তাকে সাহায্য করি। আমি রাজি হলাম। যারা আমাকে চিনেন তারা জানেন আমি বিজ্ঞান গবেষণা এবং শিক্ষা নিয়ে প্রচুর লিখেছি ডেইলি স্টার বাংলায়, প্রথম আলোতে এবং বিডি নিউজ ২৪ এ। কাজেই আমারও আগ্রহ ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যদি একটা সেমিনার করা যায় সেটা প্রবাসী বাংলাদেশী পেশাজীবীদের সাথে সেতুবন্ধনের ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। সেমিনার প্রোগ্রাম কমিটির মিটিং এর সময় আরও কিছু প্রোগ্রামের ব্যাপারে অবহিত হলাম। আমি কাজি হাসান এবং সুপর্ণার সাথে আগেই পরিচিত আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন টেক্সাস (ডুয়াট) এর কারণে। পরিচিত হলাম ফরহাদ ভাইয়ের সাথে। ওনার সাথে আমার আগে পরিচয় ছিলনা। বইমেলা সম্পর্কে জানলাম। আমার প্রথম সায়েন্স ফিকশন গল্প গ্রন্থের কিছু বই সবেমাত্র বাংলাদেশ থেকে ফেডেক্সে করে আনিয়েছি, ভাবলাম বইমেলাতে আমার বইটা নিয়ে যাওয়া যাবে। তবে ফরহাদ ভাইকে জানাতে ভুলে গিয়েছিলাম আমি বইমেলাতে অংশগ্রহণ করব। তখনো ফোবানা বইমেলাটি নিয়ে আমার ধারনা তেমন পরিষ্কার ছিলনা। মনে হয় ফোবানার ৫ দিন আগে জয়া আমার স্ত্রী রিফাকে ফোন করে জানতে চাইল আমি বইমেলাতে যাচ্ছি কিনা আমার বইটা নিয়ে। ইসরাত মাহরিন জয়া একজন ভাল লেখিকা, তার বই গুল আমার আগেই পড়া। এছাড়া আমার বইটি পড়ে ২য় রিভিউটা সে লিখেছিল তাঁর ফেইসবুকে। আমি ফরহাদ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে বইমেলা গ্রুপটিতে যুক্ত হলাম। ফরহাদ ভাই একজন দক্ষ সংগঠক। চমৎকার ভাবে ফেইসবুকে বইমেলার প্রোগ্রাম গোছাচ্ছেন দেখলাম।

সেপ্টেম্বর ২ তারিখে সকালে পোঁছে গেলাম ফোবানা ভেন্যু, লাস কলিনাস কনভেনশন সেন্টারে। সকালে মানুষের উপস্থিতি তেমন নেই। আমাদের সেমিনার প্রোগ্রামটি শুরু হল একটু দেরিতে। বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রেসিডেন্ট ডঃ সবুর খান এবং চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি বেণু কুমার দে। আমেরিকাতে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এর চেয়ারম্যান এবং সিইও ইঞ্জি আবুবকর হানিপ এবং বেশ কিছু আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ডঃ নাসির উদ্দিন (টেক্সাস এ এন্ড এম), ডঃ মুহাম্মদ হুদা (ইউটি আরলিংটন), ডঃ রাকিবুল হান্নান (ইউটি সাউথ ওয়েস্টার্ন), ডঃ নুরুননবী (ইউটি এল পাসো) এবং ডঃ সাইদ আহমেদ (ক্যামেরন ইউনিভার্সিটি, ওকলাহোমা) উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অফ আমেরিকার সাংবাদিক আনিস আহমেদ। ফোবানার প্রেসিডেন্ট ডঃ আহসান চৌধুরীও সেমিনার শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক ঝাঁক তরুণ পিএইচডি গবেষক। এদের উপস্থিতি এই সেমিনার প্রোগ্রামটিকে সত্যিই একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলকে আধুনিক করার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় এবং আমরা প্রবাসী স্কলাররা কিভাবে যুক্ত হতে পারি, এই বিষয় গুল নিয়ে চমৎকার একটা আলোচনা হল। আমি মনে করি ধীরে ধীরে ফোবানা একটি প্লাটফর্ম হিসাবে গড়ে উঠতে পারে প্রবাসী প্রফেশনালদের সাথে বাংলাদেশের সংযোগের ক্ষেত্রে। ফোবানার মত বড় প্লাটফর্মের মাধ্যমে এই ধরনের সংযোগ করাটা সহজ হবে। যদিও সেমিনার প্রোগ্রাম গুল ফোবানাতে এখনো এত জনপ্রিয় নয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে, তাই আরও বেশি প্রফেশনালরা যাতে যোগদান করে তার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আমি এবং আরও অনেকে এবার প্রথম ফোবানাতে অংশগ্রহণ করেছি। তবে, আমি মনে করি এধরনের সেমিনার হওয়াটা এটা শুরু হওয়ার লক্ষণ।
সেমিনার প্রোগ্রামের পর চলে আসলাম বইমেলাতে। ৬-৭টি টেবিল নিয়ে লেখক -লেখিকারা তাদের বই সাজিয়ে বসেছেন। আমিও একটি টেবিলের পাশে আমার বইগুল সাজিয়ে বসলাম কিছুক্ষণ। পাশে কাজি হাসান ভাই, চমৎকার লিখেন। বিকালে পাবলিক হেলথের উপর আর একটি সেমিনার ছিল, কাজেই তেমন করে সময় নিয়ে আর বসতে পারিনি। সেমিনার শেষে এসে দেখলাম মানুষ গিজগিজ করছে। বই কিনছে। আমার অনুপস্থিতে আমার এক পিএইচডি ছাত্রী আমার বই এর টেবিলে কিছুক্ষণ বসেছিল। আমাকে জানাল আমার অনেক গুল বই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আমি কিছুটা অবাক হলাম, আসলে আমি ভাবিনি এই বইমেলাতে এত পাঠক থাকবে। দেখলাম, পরিচিত, অপরিচিত অনেকেই এসে বই নিয়ে জিজ্ঞেস করছেন। পরিচিত হলাম বিপাশা বাশারের সাথে। চিকিৎসক, অস্টিনে থাকেন, এবং থ্রিলার লেখেন। মুগ্ধ হয়ে গেলাম, প্রবাসে এত ব্যস্ত একটি প্রফেশনে থেকে লেখালেখিকে ভালবেসে সময় দিচ্ছেন। সেলিনা শাহিন, কবি এবং সদা হাস্যময় এই মেয়েটি ১০ ঘন্টা ড্রাইভ করে নিও অরলিয়েন্সে থেকে ডালাসে চলে এসেছেন। চিকিৎসক এবং পাবলিক হেলথ এর শিক্ষক এই মেয়েটির এনার্জি এবং লেখালিখির প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি নিজেই বিস্মিত। ফরহাদ ভাই অনেক গুল বই নিয়ে বসেছেন, সংগ্রহে নিলাম তার একটি বই তৃতীয় পক্ষ। ফারহানা সিনথিয়া, পেশায় একজন তড়িৎ প্রকৌশলী, আমার পাশেই বসেছিলেন, অনেক গুল বই নিয়ে এসেছেন। আমি লিখি কিন্তু একজন পাঠকও, কিনলাম তার একটি বই “কৃষ্ণচূড়ার দিন”। দিলরুবা আহমেদ এর লেখার সাথে আমি আগে থেকে পরিচিত, সরাসরি পরিচয় ছিলনা, পরিচিত হলাম। আমাকে দুটি বই উপহার দিলেন। সুদর্শন কবি সোহেল চৌধুরী, মুখে সবসময় হাসি লেগেই আছে। লেখক এবং প্রকাশক বিমল সরকার একজন সত্যিকারের সাহিত্য অনুরাগী, অস্টিন থেকে বইমেলায় এসেছেন। মোঃ হুমায়ুন কবির, ক্রস ফায়ার আড্ডা শব্দটি তার কাছ থেকে ধার করা, বললেন তার বইয়ের মাত্র একটি কপি আছে সেটা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটা না বললেই নয়, আমার বইটা শুধু তিনি কিনেননি, পড়ে রিভিউও করেছেন। মঞ্জুর চৌধুরী, ফেইসবুকে বেশ বড় একটি সাহিত্য গ্রুপ চালান। আরও কিছু লেখক ছিল, প্রবন্ধ এবং উপন্যাস নিয়ে এসেছেন, যাদের সাথে সরাসরি কথা হয়েছে তাদের লেখা মনে রাখতে পেরেছি।
জুয়েল সাদাত, ফোবানা মিডিয়া সেলে কাজ করেছেন, সাংবাদিক। তার একটি বই “টাইম লাইন” এর মোড়ক উন্মোচনে ছিলাম। জুয়েল আমাদের সকালের সেমিনার পোগ্রামটির প্রশংসা করলেন, বললেন তার ভালোলাগার কথা। জয়ার কথা আগেই বলেছি, তার লেখার সাথে আমি পূর্ব পরিচিত, তার কলম চলতে থাকুক পাঠকের জন্য। রুবানা আদিবা, পরিচয় ছিলনা, তার বই নিয়ে এসেছেন, আমার বইটা বেশ আগ্রহ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন। এই বইমেলায় আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এক ঝাঁক লেখক-লেখিকার সাথে পরিচিত হওয়া। সুনির্দিষ্ট ভাবে বললে, প্রতিটা লেখিকা তার প্রফেশনে উজ্জ্বল। আমি ভাবতাম আমার পক্ষে পেশার সাথে সময় ব্যবস্থাপনা করা কঠিন, কিন্তু এদের সাথে পরিচয় হয়ে আমার মনে হল আমি যেন কিছু সুপার-ওমেনদের দেখছি। লেখালেখি চালিয়ে নিতে এরা সবাই আমার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আনিস আহমেদ এর সেমিনার এর কথাটা না বললেই নয়। হাসান ভাই এবং মারুনা রাহী আমার প্রিয় দুইজন গুনি মানুষ। তাদের উপস্থাপনায় যে কোন অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। সাহিত্যের ভাষা- এই টাইটেলটা শুনলেই মনের মধ্যে একটা রিনিঝিনি ভাব চলে আসে। এই ধরনের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা গুল প্রবাসে সত্যিই মিস করি। এই বইমেলার মাধ্যমে আমি ফিরে গেলাম আমার সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে। যখন আমরা কার্জন হল থেকে টিএসসিতে যেতাম, গান এবং কবিতা আবৃতি শুনতাম, পথ নাটক দেখতাম। গভীর রাতে বন্ধুরা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাটা, পাশে চানখাঁর পুলে খেতে যাওয়া। মনে পড়ে গেল কন্ঠশীলন নামে টিএসসিতে একটি কবিতার উপর একটি কোর্সের কথা। শখে ভর্তি হয়েছিলাম ২য় বর্ষে। বাংলার অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস গুরু গম্ভীর গলায় চর্যাপদের কবিতা শিখাতেন-
আলিএঁ কালিএঁ বাট রুন্ধেলা
তা দেখি কাহ্ন বিমণা ভইলা ।।
ফেব্রুয়ারির বইমেলাতে একটার পর একটা স্টলে হানা দেয়া। এত পয়সা ছিলনা বই কেনার, কিছু কিনতাম আর কিছু নেড়েচেড়ে অপার আনন্দ পেতাম। রাতে পড়ার টেবিলে বসে বইমেলার বইয়ের ঘোরেই থাকতাম। অনেক বছর বইমেলায় যাওয়া হয়না, মনে হচ্ছে দেশের বাইরে আবার সেই পরিবেশে ফিরে গেলাম। কাব্য জলসার তাসকির আলি খান ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে হয় চমৎকার একটি স্টেজ উপহার দেয়ার জন্য। আমি নিজেও রবিবার বিকালে একটি কবিতা আবৃতি করলাম। একটা বিষয় না বলে পারছিনা, সারা জীবন পানিও দিয়ে চিয়ার্স করা হয় জেনেছি, বিমল সরকারের কল্যাণে আমরা সবাই আনিস আহমেদের সাথে ঝালমুড়ি দিয়ে চিয়ার্স করলাম। আমার মনে হচ্ছে এটা একটা চল হয়ে যাবে ভবিষ্যতে।
এক জীবনে কতকিছু হতে ইচ্ছে করে। বয়সের সাথে সাথে ইচ্ছে গুল ডালপালা গজাতে শুরু করে। সারা জীবনে জ্ঞানের সমুদ্রের একটা নুড়ি কুড়াতেই সময় শেষ হয়ে যায়, আর এত সখ কিভাবে পূরণ হবে? লেখালিখি, বই, এমনকি জ্ঞানের তৃষ্ণা আমাদের সেই স্বপ্ন জগতে নিয়ে যায়, আমরা সমান্তরাল মহাবিশ্বের মত তখন দুই জীবনে বিচরণ করতে থাকি।
সাইফুল মাহমুদ চৌধুরী :
একাধারে একজন লেখক, একজন অধ্যাপক, গবেষক ও কলামিষ্ট। তিনি আমেরিকায় বসবাস করেন। বাংলাদেশ নিয়ে ভাবেন ও দেশের শিক্ষার উন্নয়নে নিরবে কাজ করেন। দেশের বাংলা ইংরেজী কাগজে তিনি নিয়মিত লিখে থাকেন। তার প্রকাশিত বই ইনফিনিটি লুপ পাঠক মহলে সাড়া ফেলেছে। তিনি ৯৪-৯৫ সালে বুয়েটে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস আর্লিংটনে রসায়ন ও প্রান রসায়নে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। প্রোটিনের কার্যাবলী ও বায়ো এনালাইটিক্যাল কেমিস্ট্রির উপর তার রয়েছে সক্রিয় গবেষনা। তার স্ত্রী সাদিয়া হাসান একজন নগর পরিকল্পনাবিধ, সাহার ও ইউশা তার দুই সন্তান। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ডালাসের বেডফোর্ডে বসবাস করেন সাইফুল মাহমুদ চৌধুরী।








