ফোবানা’র নির্বাচন : টক অব দ্যা কান্ট্রি
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৪৫:৩৬,অপরাহ্ন ২১ আগস্ট ২০২৩ | সংবাদটি ৭১৯ বার পঠিত
জুয়েল সাদত :
ফোবানা র আসন্ন ৩৭ তম কনভেশন ডালাসে হতে যাচ্ছে। ৩৬ টি সফল ফোবানার পর ৩৭ তম ডালাস ফোবানাকে ঘিরে সবাই প্রস্তুুত।ফোবানা এমন একটি সংগঠন যেখানে নেতৃত্ব বদল হয় প্রতিবছর। তাই নেতৃত্ব দেবার সুযোগ ঘটে সবার। ফোবানার দ্বিতীয় দিন ভোটারদের ভোটে এজিএমের পর নতুন বছরের ফোবানার নির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। ৫৮ জন ভোটার এই ভোট দানের সযোগ পান।
এবারের ২৩-২৪ সালের ফোনানার নির্বাহী সংসদ এর নির্বাচনের আগাম ক্যাম্পইন শুরু হয়েছে।
ফোবানার ৪/৫ টি ভাইটাল পোস্টের প্রার্থীরাই ক্যাম্পেইন এ মাঠে। ফোবানার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারী, জয়েন্ট সেক্রেটারী ও ট্রেজারার এই ৫ টি পোস্টে ই মুল নির্বাচন। এবার দুজন করে প্রার্থী, একমাত্র জয়েন্ট সেক্রেটারী শিকাগোর খালেদ আহমদ বিনা কনটেস্টে পাশ।
গত বার জয়েন্ট সেক্রেটারী পদে খালেদ আহমদ ও প্রিয়লাল দুই বন্ধু কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ায় মাজখান থেকে আবীর আলমগীর পাশ করেন। এবার প্রিয়লাল ট্রেজারার পদে প্রার্থী হওয়াতে খালেদ আহমদ বিনা বাধায় পাশ। জয়েন্ট সেক্রেটারী প্রিয়লাল গত বছর পাশ করলে ফোবানা উপকৃত হত। জয়েন্ট সেক্রেটারী একটি অতি গুরুত্বপুুর্ন পদ। সেখানে বেশী কাজ করতে হয়। এবারের জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসাবে নির্বাচনে পাশ খালেদ আহমদ বলেন, ফোবানার মুল কী হল – জয়েন্ট সেক্রেটারী। সেখানে বেশী কাজ করার সুযোগ। আমাদের মাঝ থেকে যারা চলে গেছেন বা নিষ্ক্রীয় যারা তাদের ফেরানোই আমার মুল কাজ। বেশী কথায় নয়, কাজ করে দেখাব।
এবারের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসাবে প্রার্থী ৩৬ তম শিকাগো ফোবানার কনভেনর মকবুল আলী। উনার সাথে লড়ছেন ফোবানার ভেটারান, ফোবানার প্রতিস্টাকালীন সদস্য এটর্নী আলমগীর। তিনি একজন ফোবানা ভেটারান, উনাকে এই পদে নির্বাচনে আসাটা ভুল সিদ্বান্ত মনে করেন ফোবানার সংশ্লিষ্টরা। তিনি ডক্টর নুরুন্নবীর মত উপদেস্টা থাকবেন।
মকবুল আলীর সাথে মাসুদ রব দাড়ালে লড়াই হত। মকবুল আলী এই প্রথম চেয়ারম্যান পদে দাড়িয়েছেন। সম্ভাবনা বেশী চেয়ারম্যান হবার।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রার্থী মাসুদ রব ও এম রহমান জহির। দুজনই অসাধারন মানুষ। দুজনের পাশ করা উচিত। মাসুদ রব ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমান কমিটির। এম রহমান জহির ফ্লোরিডার জনপ্রিয় একজন সংগঠক, মায়ামীতে সর্ববৃহৎ এশিয়ান ফুড ফেয়ার করে থাকেন প্রতিবছর।
সেক্রেটারী ফোবানার নির্বাহী সংসদের সবচেয়ে আলোচিত পদ। আবীর আলমগীর ও বাবুল হাই আছেন নির্বাচনে। এই পদটাতে এবার ওরলান্ডোর সংগঠক প্রথম বারের মত দাড়িয়েছেন, ২০১২ সালের ওরলান্ডো ফোবানার মেম্বার সেক্রেটারী বাবুল হাই। সফল ফোবানার ও ভাল ইমেজের প্রার্থী হিসাবে বাবুল হাই বেশ শক্ত প্রার্থী। বাবুল হাই কথা কম বলেন, কাজ করেন বেশী।
অপর প্রার্থী আবীর আলমগীর ফোবানার পুরোনো সংগঠক। গত বছর জয়েন্ট সেক্রেটারী পাশ করে নিউইয়র্কে কোন অবস্থান ফোবানার দাড় করাতে পারেন নাই।
ফোবানার মিডিয়া কমিটিতেও কোন ভুমিকা রাখতে পারেন নাই। ইসির মিটিং গুলোতে অনুপস্থিত ছিলেন সারা বছর, বলে জানা গেছে । তবে তিনি একজন সাংস্কৃতিক মনা ব্যাক্তিত্ব ও আবৃত্তিকার। বাবুল হাই অনেক ভাল অবস্থানে,সেই দিক বিচারে।
ট্রেজারার হিসাবে দুবারের সফল ট্রেজারার স্বজন ব্যাক্তিত্ব ডক্টর মানিক এবার নির্বাচনে নাই, এবার লড়বেন ফোবানার পুরোনো সংগঠক প্রিয় বাংলার প্রিয়লাল কর্মকার । অনেক সাংগঠনিক, নিজের এলাকায় বৃহদাকার পথমেলা করে থাকেন, ৬/৭ হাজার লোক হয়। ট্রেজারার হিসাবে এবার নির্বাচনে জয়েন্ট সেক্রেটারী পদ ছেড়ে দিয়েছেন খালেদ আহমদ কে। প্রিয়লাল ফোবানায় বেশ জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব। ফোবানা র সাব কমিটি কালাচারাল কমিটির চেয়ারম্যান। ট্রেজারার হিসাবে ভাল করবেন অনেকের ধারনা।
অপর প্রার্থী মহিন উদ্দিন দুলাল, জর্জিয়ার ভাল সংগঠক। মানবিক ও দানশীল ব্যাক্তি হিসাবে সুপরিচিত দেশে বিদেশে। অনেক কন্ট্রিবিউশন করেন। অতীতে অনেক সময় নির্বাচন থেকে সরে গেছেন , অন্যকে সুযোগ দেন। তবে এবার তিনি মাঠে আছেন, লড়বেন। আগামীতেও মহিন উদ্দিন দুলাল ভাল করবেন বলে অনেকের ধারনা ।

আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসাবে আছেন ১১ জন, ডক্টর এহসান হিরো, নাহিদুল খান সাহেল, হাসমত মোবিন, সামসুদ দোহা সাগর, এটিএম আলমগীর, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আরেফিন, দিলু মওলা, রেহান রেজা, সৈয়দ এহসান,জহিরুল আবেদীন।
১১ জনের মধ্যে ৪ জন আইটস্টেন্ডিং মেম্বার হিসাবে ডক্টর এহসান, নাহিদুল খান সাহেল,হাসমত মোবিন ও সামসুদ দোহা অটোমেটিক চলে যাবেন নির্বাহী কমিটিতে। বাকী ৭ জনের মধ্যে ৫ জন কে নির্বাচিত হতে হবে।
এক্জিকিউটিভ মেম্বার অর্গানাইজেশন হিসাবে ২০ টি সদস্য সংগঠন নির্বাচনে আছে। ২ টি আপকামিং হোস্ট সংগঠন চলে যায় অটোমেটিক, বাকী ১৮ টির মধ্য ১৫ টি সংগঠন নির্বাচিত হতে হবে।
ফোবানা নির্বাহী কমিটি মাত্র ১ বছর মেয়াদের। তাই জয় পরাজয় কোন বড় বিষয় নয়, এবার না পারলে আগামী বছর সুযোগ পাবেন। ইলেকট্রিনিক্স পদ্বতিতে ভোটাভুটি হয়। কোন কাদা ছুড়াছুড়ি নেই, সবাই ভোটের জন্য নিজেদের উপস্থাপন করেন। এখানে ভাল মানের সংগঠকদের দাপট থাকে। যারা মিথ্যার ফুলঝুরি উড়ায়, তাদের স্থান হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ার কারনে কোন কিছু লুকানোর সুযোগ নাই। দক্ষ ও যাদের সমাজে ভাল ইমেজ রয়েছে তারাই ফোবানায় নেতৃত্ব দিবেন।
২০২৫ সালের ফোবাবার হোস্ট অর্গানাইজেশন হিসাবে জর্জিয়ার বাংলাধারা ও হিউষ্টন এর বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউষ্টন লড়ছে ।
ফোবানা অসাধারন একটি প্লাটফর্ম। যারা কাজ করে তাদের চিহ্ন দেখা য়ায়। যারাই পাশ করবেন, তারা যেন ফোবানার পুরোনোদের ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। ফোবানার ঐক্য টিকিয়ে রাখেন যে কোন মুল্যে।
তবে ফোবানা সফল করতে সামগ্রিক সকলের সহযোগীতা দরকার। দরকার কমিটমেন্ট এর, অনেক ফোবানা লীডাররা প্যাকেজ কিনেন না। শর্ট কাট রাস্তা খুজেন। কীক অফ পার্টিতে নানা ঘোষনা দেন, তারপর তাদের কোন ভুমিকা থাকে না।
ফোবানা নেতা দাবী করলে প্যাকেজ কিনতে হবে, প্যাকেজ বিক্রি করে দিতে হবে, স্পন্সর জোগাড় করে দিতে হয়। সামগ্রিক হোস্ট কমিটিকে হেল্প করতে হয়। ফোবানার নেতৃবৃন্দ কে আরও ডেডিকেটেড ও হেল্পফুল হতে হবে। ফোবানা একটি অসাধারন সংগঠক।
জুয়েল সাদত : সাংবাদিক – কলামিষ্ট
ফ্লোরিডা







