আনোয়ার শাহজাহান সৃজনশীল মানুষের প্রতিচ্ছবি – বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৫৮:৩২,অপরাহ্ন ২২ নভেম্বর ২০২২ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত
বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল :

আনোয়ার শাহজাহান তারুণ্যে উদ্দীপ্ত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সফল মানুষ। তিনি একাদিক্রমে শেকড়সন্ধানী লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হলেও একজন লেখক ও গবেষক পরিচয়ে তিনি উদ্ভাসিত।
আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চা ও শেকড়সন্ধানী গবেষণা তাঁর মৌলিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। ছড়া, কবিতা ও প্রবন্ধে তিনি সমান সিদ্ধহস্ত। সাংবাদিকতা জগতে বিচরণরত এই সাহিত্যবান্ধব তাঁর পূর্বসূরিদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পত্রিকা সম্পাদনায় প্রিন্ট ও অনলাইন উভয় মাধ্যমেই তিনি সরব আছেন। সংগঠক হিসেবে তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর এলাকার শিক্ষা বিস্তারেও তিনি ভ‚মিকা রেখে চলেছেন। অর্থাৎ আনোয়ার শাহজাহান যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলেছে।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি মানুষ। ব্যক্তির বিচারে তাঁর আদর্শের বহুগামিতা থাকতে পারে কিংবা কেউ কোনো আদর্শের বাইরেও জীবনকে যাপিত করতে পারেন। এটি ব্যক্তির স্বতন্ত্র ইচ্ছে। তবে মানবকল্যাণার্থে নিবেদিত ব্যক্তিরাই আদর্শ মানুষ। তাঁদের মধ্যে যতটা না আত্মকেন্দ্রিকতা বিদ্যমান, তার চেয়েও বেশি তাঁরা লালন করেন সমাজের চেতনা। ন্যায়নীতি ও মনুষ্যত্বের ধারণে তাঁরা হয়ে ওঠেন সমাজের আদর্শ মানুষ। মূলত, মানুষের প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব-কর্তব্য, এটিকে উপলব্ধি এবং ব্যক্তির সামর্থ্য ভেদে পাশে দাঁড়ানোর মতো মানসিকতার নামই মহানুভবতা। আনোয়ার শাহজাহানকে আমি সেই রকম মহানুভব ব্যক্তি হিসেবেই দেখি। তিনি কল্যাণকামী সমাজে প্রেরণার ব্যক্তিত্ব।
আনোয়ার শাহজাহানের সাথে আমার পরিচয় দুই দশক থেকে। তার পর থেকে আমি তাঁকে যতই দেখছি, মুগ্ধ ও বিমোহিত হচ্ছি। বিশেষ করে, যেকোনো কাজে তাঁর একাগ্রতা ও নিষ্ঠতা আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর ব্যক্তিচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিশ্রমপ্রিয়তা। যেকোনো কাজে তিনি এত বেশি পরিশ্রম করেন যে তাঁর সুষ্ঠু ফলাফল না আসা পর্যন্ত ক্ষান্ত হন না। এটি আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করে।
তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কাজের প্রতি কমিটমেন্ট আমাকে তাঁর আত্মার আত্মীয় হতে প্রণোদনা দিয়েছে। তাঁর সাথে গভীর সম্পর্কের সূত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি। এতে আমার মধ্যেও তাঁর বহুমুখী চিন্তার সৃজনশীলতার অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি এমন এক অব্যাহত ধারা, যা জীবনকে ভাষা দেয়, সৃষ্টিশীলতায় নিমগ্ন থাকতে জৈবনিক প্রেরণা জোগায়। কখনো-বা মানসিক শক্তি হয়ে ওঠে। তাঁর সৃজনশীলতা ও কর্মমুখিতার প্রসারিত ধারার প্রভাবে আমার সাথে তাঁর কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ সময়ও তাঁকে দেখেছি পুঙ্খানুপুঙ্খতার নিরিখে।
তিনি যেমন সৃষ্টিতে নিমগ্ন, তেমনই তাঁর সজ্জন ও কাছের মানুষদের মূল্যায়ন করতে ভোলেন না। এটি তাঁর ব্যক্তিবোধের কৃতজ্ঞতার পরিচায়ক, যা আমি উপলব্ধি করেছি লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলায় তাঁর কর্মকাণ্ডকে পরখ করে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত বইমেলায় পাণ্ডুলিপি প্রকাশনের স্টলে তিনি ছিলেন প্রাণচঞ্চল এক ব্যক্তিত্ব। বিশেষত, দেশে আমার কর্মসূত্রে অবস্থানকল্পে লন্ডন ভ্রমণ ছিল আমার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু আনোয়ার শাহজাহানের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আমাকে সেই চিন্তা থেকে অব্যাহতি দেয়। পাণ্ডুলিপি প্রকাশনের স্টলে মূলত তিনিই ছিলেন প্রধান আকর্ষণ।
লন্ডনে তাঁর কর্মজীবনের যাপিত সৃজনশীলতায় যে বলয় তৈরি হয়, পাণ্ডুলিপি প্রকাশন স্টলে তিনি ছিলেন তাদের মধ্যমণি। তাঁর আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলায় পাণ্ডুলিপি প্রকাশনের যে রূপ ও বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে, তা মাটিতে পড়েনি। বরং এর সুবাসকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন আনোয়ার শাহজাহান। এ জন্য তাঁর প্রতি আমার আন্তরিক টান অনিঃশেষ। বিশেষত তিনি আমার কাছে এক ভিন্ন মানুষ। কল্যাণচিন্তায় তিনি বারবার বিমূর্ত হয়ে অবতরণ করেন সৃষ্টিজগতে, কখনো-বা তাঁর পছন্দনীয় ক্ষেত্রে। রাখেন প্রোজ্জ্বলতার স্মারক। এ ছাড়া লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ, সাংবাদিক ও কবি আহমদ হোসেন হেলাল, কবি গুলশান আরা রুবী, লেখক শফিক আলী প্রমুখ আমাকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করেন।
প্রবাস কিংবা দেশ, উভয় জায়গাতেই তিনি কর্মমুখী। প্রবাসে যেমন তিনি জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে দৌড়ঝাঁপ করেন, একইভাবে দেশে এলেও ঠিক শেকড়ের টানে তিনি স্থির থাকেন না। তাঁর চিন্তার প্রসারিত ধারা এবং দেশমাতৃকার প্রেমে তিনি ঘুরে বেড়ান এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। এটি কোনো অভিন্ন কথা নয়, আনোয়ার শাহজাহানের কর্মপ্রেরণা সেই চেতনাকেই প্রকাশ করে। ব্যক্তির জীবনোদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ছুটে চলেছেন নিরন্তর।
সাহিত্য-সংস্কৃতি আর সামাজিক ক্ষেত্রে আনোয়ার শাহজাহান এক কর্মপ্রেরণার নাম। তাঁর এবং আমার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ার সুবাদে পারিবারিক সূত্রেই আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা বেশ মধুর। এই সম্পর্কের রসায়নে আমার কাছে পরিলক্ষিত হয় আনোয়ার শাহজাহানের জীবনদর্শন। বিশেষত, সমাজ ও দেশের জন্য তাঁর অন্তরটা দিলদরিয়া। এর স্পষ্ট নিদর্শন তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে, এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি যে কাজ করেছেন, তা অনন্য। যেমন সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও সৌধ নামক গ্রন্থগুলো উজ্জ্বল স্মারক। এ গ্রন্থগুলোই প্রমাণ করে তিনি দেশের জন্য কতটা নিবেদিত।
গ্রন্থ দুটি আমার পাণ্ডুলিপি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থের কাজ করতে গিয়ে তাঁর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে, এসব গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষুরধার চিন্তা আমাকেও দারুণভাবে বিমোহিত করে। কখনো অনুপ্রেরণা জোগায় অন্তরে।
প্রবাস থেকে দেশে ফিরলেই তাঁর সাথে আমার কথা হয়। দেখা হয়। এমনকি প্রবাসজীবনেও আমার সাথে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগে কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। দেশে এলেই বিভিন্ন সময় সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠানে আমাকে নিমন্ত্রণ করেন। এতে আনন্দিত হই। কারণ, তাঁর মধ্যে আমি শিক্ষার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক অন্তর দেখতে পেয়েছি। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আনোয়ার শাহজাহান প্রাথমিক বিদ্যালয়’। তিনি শুধু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিবছর ওই প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আনোয়ার শাহজাহান ১৯৯০ সাল থেকে লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। এ সময় তিনি জাতীয় দৈনিক খবর পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৯২ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক জনতার মিছিল। গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভ‚মিকাও ছিল অগ্রগণ্য। যুক্তরাজ্যে প্রথমে তিনি পাক্ষিক প্রবাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাঁর সম্পাদনায় মাসিক লন্ডন বিচিত্রা প্রকাশিত হয়।
২০০২ সালে ব্রিটেনের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলালিংক ডটকম প্রকাশ করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত অনলাইন আমাদের প্রতিদিনের সম্পাদকের পাশাপাশি ২০১২ সাল থেকে ঢাকায় প্রকাশিত ইউনাইটেড নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন আমাদের গোলাপগঞ্জ। পরবর্তী সময়ে এর বহু সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের প্রথম অনলাইন সাংবাদিকদের সংগঠন ইউকে বাংলা অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহŸায়ক এবং লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য। তিনি যুক্তরাজ্যস্থ গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সহসভাপতি ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আনোয়ার শাহজাহান ১৯৯৪ সালে জাতীয় লেখক পরিষদ, ঢাকা থেকে লেখক সম্মাননা পদক এবং ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের এসই ফাউন্ডেশন থেকে সাংবাদিকতায় কমিউনিটি জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
আনোয়ার শাহজাহান কৈশোর থেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সব্যসাচীর মতোই তাঁর সাহিত্য যাত্রা। তিনি কবি, ছড়াকার, ঐতিহাসিক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক হিসেবে নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন। আশির দশকের শেষের দিকে কবিতায় তাঁর উজ্জ্বল পদযাত্রা। ১৯৮৮ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক শুভেচ্ছায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। আনোয়ার শাহজাহান একজন সমাজভাবনার কবি। তাঁর কবিতায় মানুষের বাস্তব জীবনের চিত্রই প্রতিফলিত হয়। যেমন :
“বর্বরতা গোপন প্রণয় সারে হিংসার বাড়িতে
তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর কঠিন মৃত্তিকায় লেগে আছে
মুক্তিকামী মানুষের রক্তের দাগ
এ দাগ কি মুছবে না কোনো দিন?
– ‘অনিন্দ্য পৃথিবী চাই’, কাব্যগ্রন্থ মধ্যাহ্নের কোলাহল।
আনোয়ার শাহজাহান ১৯৯৫ সালে সময়ের শ্রেষ্ঠ ছড়ায় সম্পাদকের কথায় লিখেছেন, “সমসাময়িক ছড়ায় শুধু শিশু মনোরঞ্জনই লক্ষ্য নয়।
আর্থসামাজিক বাস্তবতার নিরিখে তরুণ ও যুবসমাজের চিন্তাচেতনা, ভাব-ভাবনা প্রতিফলিত হচ্ছে ছড়ায়। অতীতে ছড়ায় নিটোল শরীর নির্মাণই ছিল প্রধান বিষয়, কিন্তু আজকের রাগী প্রজন্ম নির্মম বক্তব্যকেও ছড়ার হালকা আঙ্গিকে সার্থকভাবে তুলে ধরছে।”
ইতিহাসচর্চায় যে জাতি যত সমৃদ্ধ, তারা তত মর্যাদাবান। সমাজে ইতিহাসের তথ্য, চরিত্র ইত্যাদি অনুষঙ্গ ছড়িয়ে থাকে। অনুসন্ধানীরা এই তথ্য-উপাত্ত জড়ো করে ইতিহাস রচনা করেন সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। আনোয়ার শাহজাহানের ক’জন কৃতীসন্তান (১৯৯৪) এবং গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য (১৯৯৬) তাঁর যথাযথ প্রমাণ। ২০১৫ সালে গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থের বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় আনোয়ার শাহজাহানের বিলেতের দিনগুলি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নামক গ্রন্থ। এতে বিলেতের শুধু বিশেষ স্থানের বর্ণনাই নয়, অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি, তাঁদের জীবনযাপন এবং ইতিহাসের নানা তথ্য সংযুক্ত হয়েছে। আনোয়ার শাহজাহান গ্রন্থটিতে প্রবাসী বাঙালিদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার চিত্র চমৎকারভাবে অঙ্কন করেছেন।
আনোয়ার শাহজাহান শুধু মৌলিক ও সৃজনশীল রচনাকর্মে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি, তাঁর প্রতিভাকে সাহিত্যপত্র ও গ্রন্থ সম্পাদনায় নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ সম্পাদনা তাঁর ক্রিয়াকাÐের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
১৯৯০ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় কবিতা সংকলন অগ্রগামী। ১৯৯৩ সালে মাসিক প্রবাহ এবং মাসিক জনতার মিছিল প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় মধ্যাহ্নের কোলাহল, যেটি তাঁর সম্পাদনা জীবনের এক মাইলফলক। সিলেটের নবীন-প্রবীণ ৫৮ জন কবির কবিতা নিয়ে এটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির লেখাগুলোর বিষয় ও আঙ্গিক বৈচিত্র্যই পাঠক-হৃদয়কে আকৃষ্ট করে। এরপর ১৯৯৫ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সময়ের শ্রেষ্ঠ ছড়া নামক এক ছড়াগ্রন্থ।
লেখক পরিচিতি : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক।






