ভিত্তি প্রস্তরের ৩ বছর পর গোলাপগঞ্জে শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২৬:৪৪,অপরাহ্ন ২১ জানুয়ারি ২০১৭ | সংবাদটি ৯৪৮ বার পঠিত
গোলাপগঞ্জ উপজেলাবাসীর বহু প্রতিক্ষিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। উদ্বোধনের পর উপজেলাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার দেখা দেয়। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্থরের ৩ বছর অতিক্রম হলেও স্টেশন নির্মাণে কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছিলো জনসাধারণের মাঝে। বর্তমানে বহু কাঙ্খিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় সর্বমহলে আশার সঞ্চার দেখা দিয়েছে। যত দ্রæত সম্ভব পরিপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন উপজেলাবাসী। কর্তৃপক্ষ বলছে খুব শীঘ্রই কাজটি সম্পন্ন হবে।
জানাযায়, গোলাপগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবী জানিয়ে আসছিলেন উপজেলাবাসী। গোলাপগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়কের উপজেলা úরিষদ সংলগ্ন একটি স্থানে জায়গাও নির্ধারণ করা হয়। সাইনবোর্ডও টানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা ও নানা জটিলতায় এ জায়গাটি হাতছাড়া হয়ে যায়। পরবর্তীতে পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের দাড়িপাতন এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ভ‚মি দান করেন সমাজসেবী শামীম আহমদ রাসেল। জায়গা অধিগ্রহণ করে ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে স্টেশন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর। তৎকালিন আওয়ামীলীগ সরকারের একেবারে শেষ সময়ে ফেস্টুন দিয়ে ভিত্তিপ্রস্থরের একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে গোলাপগঞ্জবাসীর বহুল প্রতিক্ষীত এ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
গোলাপগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে ছাই হচ্ছে। মানুষজন হারাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। সেই ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্ষায় উপজেলার সাড়ে ৩লাখ মানুষ। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৭টি খনিজ তেল ও গ্যাস কূপ রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের হাজার হাজার ব্যারেল খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। আর এই তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার লক্ষ লক্ষ জনগোষ্ঠী। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এদিকে বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় সংঘটিত অগ্নিকান্ডে জেলা শহর সিলেট আলমপুর থেকে ২৫/৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটকে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় পৌছতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটকে অনেক সময় দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় পৌছানোর আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় শেষ ঠিকানা ও লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ। ফায়ার সার্ভিসের কাজটি কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের ডিডি রফিকুল ইসলামের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, গোলাপগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এ বছরের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে কাজের সমাপ্তি হবে।






