শাবি প্রক্টর’র ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’তে হাস্যোজ্জ্বল ছবি নিয়ে সমালোচনার ঝড়!
প্রকাশিত হয়েছে : ৫:১৪:৫১,অপরাহ্ন ২৫ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ১০২২ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: জাতীয় শোক দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদের হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
গত ১৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, সৈয়দ মুজতবা আলী আবাসিক হল ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাথে আলাদা আলাদা চারটি ছবিতে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমেদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। সম্প্রতি এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
রিয়াদ হোসেন আকাশ নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে বলেন, ‘প্রক্টর মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেখান। কিন্তু তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কি আসলেই ধারণ করেন? ধারণ করলে কীভাবে জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে দাঁত কেলিয়ে হাসেন?? ধিক্কার জানাই এরকম মুখোশ ধারী চেতনা বাজদের।’
মো. মোশারফ খান নামে আরেকজন তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন, ‘হাসি আনন্দে জাতীয় শোক দিবস পালনে তারাই শ্রেষ্ঠ। এমন একটা জহির উদ্দিন (প্রক্টর) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদক ব্যবসায়ীদের হলে আশ্রয় দান ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রক্টর জহির খুবই প্রভাবশালী বলে খ্যাত। আজ এই শোকের দিনে পিতা মুজিবের ভাস্কর্যের সামনে তার হাসি মুখ ১৫ই আগস্টের প্রেতাত্মাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ছিঃ লজ্জা থাকা দরকার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম বুলবুল তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিত একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক যিনি আবার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শোক দিবসের প্রোগ্রামে এমন ছবি তোলা ও অঙ্গভঙ্গি আমার কাছে চেতনা পরিপন্থী, লজ্জাকর ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে!!’
এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দূর থেকে এক কলিগ আমার সঙ্গে কথা বলছিল তখন আমার আরেক কলিগ এ ছবি তুলেছে। আমি সে সময় অপ্রস্তুত ছিলাম, এজন্য হয়তো আমার এমন ছবি এসেছে। শ্রদ্ধাঞ্জলির সময় কেউ তো আর ইচ্ছা করে হাসবে না।’ এ সময় এমন ধরণের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রক্টর।






