নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের দাবীতে নিউ ইয়র্কে প্রতিবাদ সভা
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:১১:৩৮,অপরাহ্ন ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | সংবাদটি ৮০৭ বার পঠিত
আশা কিবরিয়া ।।
‘‘বাংলাদেশের মন্ত্রীসভা কর্তৃক অনুমোদিত প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন মানবতা বিরোধী ও প্রবাসী নাগরিকদের অধিকার এবং কর্তৃত্ব হরণের আইন। এটি বিশ্বব্যাপী বসবাসরত প্রবাসীদের স্বার্থবিরোধী। নাগরিকত্ব আইন প্রবাসীদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করার বৈষম্যমূলক আইন। প্রবাসে বসবাসরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনের পথ বন্ধ করে দেয়ার আইন। অমানবিক তথাকথিত নাগরিকত্ব আইন, বিশ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী অভিবাসীকে রাষ্ট্রহীন করে দেয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের জন্মমাটির শেখড় ওপড়ে ফেলার আইন। অমানবিক অসাংবিধানিক আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে হবে। মানবতাবিরোধী, অধিকার বিরোধী, জঘন্য নাগরিকত্ব আইন নামক, কালো আইনের মাধ্যমে প্রবাসীদের রাষ্ট্রহীন করার পাশাপাশি, প্রবাসীদের সহায় সম্পত্তি লুটপাটের আইন। লুটপাটের নিয়ামক শক্তি হিসেবে প্রণীত এই আইনের ধারা ও বিধি বিধান দ্রুত সংশোধন করতে হবে। নতুবা বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশীরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলতে বাধ্য হবেন। এবং সরকারকে সকল অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দ্বায়ভার বহন করতে হবে।’’
বিশ্বব্যাপী বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থবিরোধী, প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের দাবীতে, স্বদেশ প্রেমী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের উদ্যোগে, আলোচনা ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
“প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা করো, নাগরিক আইন সংশোধন করো” শ্লোগানকে সামনে রেখে, ৩০জানুয়ারী সোমবার রাত সাতটায় নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ওজনপার্কে অনুষ্টিত আলোচনা ও প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, কমিউনিটি নেতা বদরুল হোসেন খান। তরুণ সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা ছরওয়ার হোসেনের পরিচালনায়, সভার শুরুতে নাগরিকত্ব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, সংগঠক সাংবাদিক ও সমাজ অনুশীলক শরিফুল হক মনজু।
সভায় বক্তারা উদ্বেগ উৎকণ্টার সাথে বলেন, নাগরিকত্ব আইন প্রবাসীদের শত্রু বানানোর আইন। যেমনটি অর্পিত সম্পত্তি নামক কালো আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার কর্তৃত্ব হরণ করা হয়েছে। নিজ দেশ জন্মমাটিতে বসবাস ও দেশের জন্য জীবণ উৎসর্গ করার পরও নিজের ভিটেমাটিতে যেমন মালিকানার অধিকার নেই। ঠিক তেমনি ভাবে প্রস্তাবিক নাগরিক আইনটি সংসদে পাশ হলে, অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও হারাবেন সহায় সম্পত্তি। পাশাপাশি হবেন দেশের শত্রু।
অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা একলিমুজ্জান নুনু, আব্দুল মতিন, বিয়ানীবাজার সোসাইটির সাবেক সভাপতি বুরহান উদ্দিন কফিল, সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বুরহান, বিয়ানীবাজার সোসাইটির সভাপতি মাকসুদুল হক ছানু, বিয়ানীবাজার সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক সামসুদ্দিন আহমদ, বিয়ানীবাজার সোসাইটির উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল, আহমদ মোস্তফা বাবুল, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা কায়সার আহমদ, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিক মোহাম্মদ খসরুল হক, শিক্ষানুরাগী ও জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুন নুর, সমাজসেবী সাব্বির আহমদ, ফুলতলী মসজিদেও কোষাধ্যক্ষ সেবুল আহমদ, বিয়ানীবাজার সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসাইন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভায় গৃহিত নাগরিকত্ব আইনের প্রবাসী বাংলাদেশী ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী এবং তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি বৈষম্য ও হয়রানীমূলক সকল ধারা সংশোধনের দাবী জানান। অন্যথায় প্রবাসীরা তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকারের দাবিতে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন। এছাড়া সভায়, বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্যান্য কমিউনিটি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কর্মসূচী গ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।