‘ত্রাণ চুরি নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের লাগাম টানবেন কিভাবে’
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:০৪:২৭,অপরাহ্ন ০১ মে ২০২০ | সংবাদটি ১২৪৯ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর মহামারীতে সরকার মানুষের ক্ষুধাকে নিয়ে তামাশা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন রিজভী আহমেদের মুখে লাগাম টানা দরকার। আমি বলি আমার না হয় লাগাম টানলেন, ত্রাণ চুরি নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের লাগাম কিভাবে টানবেন।
শুক্রবার (১ মে) ফিউচার অব বাংলাদেশের উদ্যোগে হাতিরঝিল মধুবাগ এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা লোকদেখানো কাঁচা ধান কাটছেন। সরকার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে,বোরো মৌসুমে ধানগুলো পেকেছে সেগুলো কাটতে হবে। আওয়ামী লীগের লোকেরা পাকা ধান না কেটে লোক দেখানোর জন্য কাঁচা ধান কাটছেন। তারা মানুষকে দেখাতে চান তারা কৃষকের সাথে আছেন। এভাবে মানবসেবা হয় না। এই ভয়ংকর মহামারীতে দুর্ভিক্ষের মত অবস্থা মোকাবেলা না করে সরকার গরিব মানুষের ক্ষুধাকে নিয়ে তামাশা করছে। তামাশা করে এত বড় বিপর্যয় ঠেকাতে পারবেন না।
রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন রিজভী আহমেদের মুখে লাগাম টানা দরকার। এখন আমি বলি আমার মুখে না হয় লাগাম টানলেন, বিশ্ব গণমাধ্যমের লাগাম কিভাবে টানবেন। তিনি বলেন বিশ্বের পত্রপত্রিকার গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট তারাও বলছে বাংলাদেশের ত্রাণের চাল চুরি হচ্ছে। যেখানে সরকার দেশ পরিচালনা করছে তাদের নেতৃত্ব চলছে তখন কীভাবে ঘরের মধ্যে মাটির গর্তে, খরের পালার মধ্যে চাল এবং খাটের মধ্যে তেল পাওয়া যায়। এ কথাগুলো শুধু আমরা বলছি না- আজকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বলছে। এখন আপনি কীভাবে তাদের মুখে লাগাম দিবেন? হাছান মাহমুদ আপনি তাদের মুখে লাগাম দিতে পারবেন না। কারণ তারা সত্যতাটাকেই বলছে। আপনার কিছুই করেন নাই।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে নেই। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে গরিব অসহায় মানুষকে সহায়তা করছি। নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল কিংবা সুনামের জন্য নয় আমরা গরিব অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ফিউচার বাংলাদেশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করে। রাজনৈতিক বিবেচনা না করে দুস্থ-গরিব মানুষের সহযোগিতা করছে। অথচ সরকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণ কমিটি করেছে আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে। তারা স্থানীয় প্রশাসন, টিএনও-কে যাদের সুপারিশ করছে তারাই ত্রাণ পাচ্ছেন। অর্থাৎ এখানেও তারা দলীয়করণ করছে। নিজেদের লোক আর অন্য দলের লোক হিসেবে ত্রাণ দিচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে আছে হাহাকার করছে। আজকে এই মহামারিতে কাজ নেই দিনমজুর মানুষ যারা দিন আনে দিন খায় তারা মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অর্থাৎ এক দলীয় চিন্তা, কর্মকাণ্ড সেভাবে করে যাচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ফিউচার অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আজিজ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুল বাশার শোয়েব, প্রচার সম্পাদক সোহাইব নাহিদ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শাহাদাত হোসেন শিহান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বি বি এ বিভাগের ছাত্র তৌহিদ হাসান সাইফ, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এবং “সার্থক ইসলাম”- শেরে-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির একজন ছাত্র।






