গোলাপগঞ্জে ধান কাঁটতে মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী!
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪৬:০০,অপরাহ্ন ২৮ এপ্রিল ২০২০ | সংবাদটি ৮৫১ বার পঠিত
ইমরান আহমদ:: চলছে বৈশাখ মাস। এ মাস আসলেই মাঠে ধান কাঁটার ধুম পড়ে। সারা বছরের পর বৈশাখ মাসে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুঁটে ধান ঘরে তুলবে বলে। কিন্তু এবার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস অনেক কৃষকের হাঁসি ম্লান করে দিয়েছে। দেশজুড়ে মাঠে পড়ে রয়েছে পাঁকা ধান। করোনা ভয় আর লকডাউনের ফলে মিলছেনা ধান কাাঁটার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা কৃষক পরিবার।
সম্প্রতি রাষ্ট্র থেকে ঘোষণা করা হয় যে যেভাবে পারেন কৃষকের ধান কাঁটায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে। এমন ঘোষণার পরই দেশজুড়ে এমপি, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার অনেকেই কাঁচি হাতে নেমে পড়েন মাঠে। বাদ পড়েননি অনেক মহিলা নেত্রীও। দামি শাড়ী পড়েই কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটাতে তারাও দল বেঁধে নেমে পড়েন কাঁদায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খোললেই প্রতিদিন দেখা যায় এমপি, নেত্রী বা নেতার ধান কাটার দৃশ্য।
এমনকি অনেক আলেমও তাদের শিষ্য বা ছাত্রদের নিয়ে কৃষকের ধান কেটে ঘরে পৌছে দিতে দেখা গেছে।
তবে সিলেটের গোলাপগঞ্জে দেখা গেলো অন্যরকম এক দৃশ্য। একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান তাঁর অধিনস্থ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন ধান কাঁটতে। আর শিক্ষার্থীরাও আনন্দের সাথে পাল্লা দিয়ে কেটে দিচ্ছে কৃষকের ধান।

এমন দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের প্রচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মাঝে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকাদক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কের পাশের একটি জমিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সুনীল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এক অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা স্কাউটের ইউনিফর্ম পড়েই কৃষকদের সাথে পাল্লা দিয়েই ধান কেটে যাচ্ছেন।
এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় ও পথচারীরা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আন্তরিকতা এবং সামাজিকতা না থাকলে এমন কাজ করা সম্ভব নয়। বর্তমান করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতির মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের ডাকে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। তারা সকলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দনও জানান।






