logo
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সিলেট
  • প্রবাসে প্রতিদিন
  • রাজনীতি
  • কলাম
  • সারা দেশ
  • সাহিত্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • আরও
    • শিক্ষাঙ্গন
    • English Section
    • আইন-আদালত
    • অর্থ ও বাণিজ্য
    • সাক্ষাৎকার
    • সম্পাদকীয়
    • Board of Managements
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • প্রবাসে প্রতিদিন
  • সিলেট
  • সারা দেশ
  • কলাম
  • English Section
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • আইন-আদালত
  • সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়
  • শিক্ষাঙ্গন
  • সাক্ষাৎকার
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • Board of Managements
  1. প্রচ্ছদ
  2. English Section
  3. জুলুম ও প্রতারণায় সবকিছুর ধ্বংস অনিবার্য

জুলুম ও প্রতারণায় সবকিছুর ধ্বংস অনিবার্য


প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৪৭:৫১,অপরাহ্ন ১৮ এপ্রিল ২০২০ | সংবাদটি ১১০০ বার পঠিত

।। বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল ।।

এ পৃথিবী এমনিতেই সৃষ্টি হয়নি। এর একজন স্রষ্টা আছেন। তিনি হলেন করুণার আধার, দয়ার নিধান আল্লাহ তাআলা। তাঁর ইঙ্গিতেই পৃথিবীর সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। তিনি মানবজাতি সৃষ্টি করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ভূষিত করেছেন। আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব যদি তার আসল মালিককে ভুলে যায় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে, তাহলে তার মালিক তার প্রতি শুধু অসন্তুষ্টই হন না, বরং তাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হন। তবে আল্লাহ তাআলা যেহেতু অতিশয় মেহেরবান ও দয়াময়, তাই তিনি তাত্ক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করেন না। তিনি অবকাশ দেন, বারবার সুযোগ দেন। তা ছাড়া আমাদের প্রিয় নবী (সা.) আল্লাহ তাআলার কাছে এ দোয়া করেছিলেন যে তাঁর উম্মতকে যেন আগেকার উম্মতের মতো শাস্তি তথা মানবাকৃতিকে বানর, শূকর ইত্যাদির আকৃতিতে রূপান্তর, পাথরের বৃষ্টি, ভূমি উল্টিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট করা না হয়।আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার কিছু কারণ নিম্নরূপ—

পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে মানুষ পাপ করতে করতে যখন পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়। পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে আল্লাহ তাআলা তখনই ধরেছেন, যখন সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
‘হে মুসা! তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে অত্যন্ত উদ্ধত হয়ে গেছে।’ (সুরা ত্বাহা : ২৪)

নমরুদকে আল্লাহ তাআলা তখনই শাস্তি দিয়েছেন, যখন সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করেছে। অনুরূপভাবে আদ, সামুদ প্রভৃতি জাতিকে তাদের সীমাহীন পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বনি ইসরাইলরা আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার, উত্তম জিনিস তথা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে খারাপ জিনিস তথা ভূমির উৎপন্ন জিনিস চাওয়া, আমালেকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আল্লাহর অগণিত নিয়ামত ভোগ করেও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে চির লাঞ্ছনা ও আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে। আগের নবীদের এসব কাহিনী পবিত্র কোরআনে আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে যদি উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)ও তাদের মতো পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ হবে এবং একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।
প্রোপাগাণ্ডা ও প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের আচরণে দেখা যায় মানুষ বলে এক কথা কিন্তু বাস্তবে তা করে না বা করে সম্পূর্ণ বিপরীত। আর এ প্রবণতা এখন এত বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে যে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন বিভিন্ন জায়গায় চলছে ধোকাবাজী আর সত্যকে মিথ্যা করার প্রতিযোগিতা! কোনটা সঠিক বা কোনটা বেঠিক, কে মিথ্যুক আর কে সত্যবাদী বুঝা দায়! এসব আচরণে তো মানুষ আরো দিশাহারা। কাউকে যেন আর বিশ্বাস করা যায় না। তাই বলা যায় আমরা এখন বাস করছি এক প্রতারণার যুগে।

প্রতারক চেনার উপায়

মানুষ প্রতারণা করে থাকে সাধারণত কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিংবা কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। স্বার্থ বলতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ, মান-মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভের স্বার্থ কিংবা ক্ষমতা লাভের স্বার্থ। আর কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য বা প্রতিহিংসাটা ব্যক্তিগত স্বার্থহানির জন্যও হতে পারে; আবার ধর্মীয়, জাতিগত বা রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে। তবে যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, প্রতারকদের কিছু কমন আচরণগত আলামত ও বৈশিষ্ট্য থাকে; যা চেনা থাকলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় যেকোন পর্যায়েই প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকা যাবে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অর্থ হারানো থেকেও বাঁচা যাবে, দ্বীন হারানো থেকেও বাঁচা যাবে, কারো প্ররোচনায় কোন নিরপরাধ আপনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরে অনুতপ্ত হওয়ার আশংকা থেকেও নিরাপদ থাকা যাবে এবং সর্বোপরি নিজের ও পরিবারের শরীর ও জীবনের ক্ষতিও এড়ানো যাবে।

(১) বেশি কথা বলা।

(২) নিজের সততা ও সত্যবাদিতা জাহির করা।

(৩) বেশি বেশি শপথ করা।

(৪) অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথাবার্তা।

(৫) নিজের দু:খের কথা বলে মানুষের কাছে সহানুভূতি আদায় করা।

(৬) অন্যের দু:খে হা-হুতাশ ও বিলাপ জুড়ে কৃত্রিম সহানুভূতি প্রকাশ করা।

(৭) উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা ও মনগড়া ফতোয়া প্রদান।

(৬) উদ্দেশ্য প্রকাশে মিথ্যাচার।

(৭) মনগড়া তত্ত্বের প্রচার।

(৮) সত্য গোপন ও সত্যের বিপরীত তথ্য প্রকাশ।

(৯) মন্দ কাজে ভাল উদ্দেশ্য দাবি করা।

(৮) দ্বিমুখী ভূমিকা ও আচরণ।

(৭) নিজের সন্তানের চেয়ে অন্যদের কিংবা বাচ্চাদের চেয়ে বড়দের প্রতি বেশি দরদী হওয়া।

(৮) স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে ইচ্ছাকৃতভাবে একেক সময় একেক রকম আচরণ করা।

(৯) সামনে ও পিছনে দুই রকম হওয়া।

(৯) মানুষের উপকারের চেয়ে মানুষকে পটানোর কাজে বেশি মনোযোগী হওয়া।

(১০) উপকারের বিনিময়ে থাকার ও ঘাঁটি গাড়ার সুযোগ অন্বেষণ করা অথবা কোন স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা আদায় করা।

(১১) বার বার ক্ষমা চাওয়া।

(১২) বিশ্বাসের ব্লাকমেইল।

(১২) মানুষের অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে দোষারোপ করা।

(১২) পরিবারের ক্ষেত্রে কর্তাব্যক্তিদের সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা।

(১৩) মানবসৃষ্ট দুর্যোগকে আল্লাহর ইচ্ছা বলে হালকা করার প্রবণতা।

উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো যাদের মাঝে দেখবেন, তাদেরকে বিশ্বাস করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। তবেই সমাজ-সংসারে ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবেন।

প্রতারণার পরিণতি

১. প্রতারণা মানুষকে জাহান্নামের পথে ঠেলে দেয়, নিক্ষেপ করে তার ভয়াবহ ও স্থায়ী আগুনে।
২. প্রতারণা ব্যক্তির আত্মিক নীচুতা ও মানসিক কলঙ্কের পরিচায়ক। সুতরাং চরম নীচু মানসিকতার অধিকারীই কেবল তা করে থাকে, এবং স্থায়ী ধ্বংসে পতিত হয়।
৩. প্রতারক ক্রমে আল্লাহ ও মানুষ থেকে দূরে সরে যায়।
৪. প্রতারণা দুআ কবুলের পথ বন্ধ করে দেয়।
৫. তা সম্পদ ও বয়সের বরকত ধ্বংস করে দেয়।
৬. তা ঈমানের দুর্বলতা ও কমতির পরিচায়ক।
৭. অব্যাহত প্রতারণা ও জালিয়াতী প্রবণতার ফলে প্রতারক গোষ্ঠীর উপর যালিম ও কাফিরদেরকে চাপিয়ে দেয়া হয়।
ইবনে হাজার হায়সামী বলেন : এ ধরণের মন্দ প্রবণতা অর্থাৎ প্রতারণার ফলে আল্লাহ তাদের উপর যালিমদেরকে চাপিয়ে দেন, ফলে তারা তাদের ধন-সম্পদের ছিনতাইকারীতে পরিণত হয়। তাদের সম্মান হানী করে। এমনকি কখনো কখনো তাদের উপর কাফিরদেরকে চাপিয়ে দেন, তারা তাদেরকে বন্দী করে ফেলে, তাদেরকে দাসে পরিণত করে এবং তাদেরকে আক্রান্ত করে সর্বাত্মক শাস্তি ও সীমাহীন লাঞ্ছনা।
মুসলমানদের উপর কাফিরদের এই আধিপত্য, তাদেরকে বন্দী করা, দাসে পরিণত করা, আধুনিক যুগের এ সকল সমস্যার অধিকাংশ ঘটছে, যখন ব্যবসায়ীরা নানাবিধ প্রতারণার উদ্ভব ঘটিয়েছে, নানা উপায়ে মানুষকে তারা ঠকাচ্ছে, জালিয়াতী করে মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে। এ ব্যাপারে তারা আল্লাহ তাআলার ভয় শূন্য হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে হেফাযত করুন।

বিধর্মী কার্যকলাপের পরিণতি :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন সরকারি মালকে নিজের মাল মনে করা হয়, আমানতের মালকে নিজের মালের মতো ব্যবহার করা হয়, জাকাতকে জরিমানা মনে করা হয়, ইসলামী আকিদাবর্জিত বিদ্যা শিক্ষা করা হয়, পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, বন্ধুদের আপন মনে করা হয়, বাবাকে পর ভাবা হয়, মসজিদে শোরগোল করা হয়, পাপী লোক গোত্রের নেতা হয়, অসৎ ও নিকৃষ্ট লোক জাতির চালক হয়, ক্ষতির ভয়ে কোনো লোককে সম্মান করা হয়, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন অধিক হয়, মদ্যপানের আধিক্য ঘটে, পরবর্তী সময় লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের বদনাম করে—তখন যেন তারা অপেক্ষা করে লু হাওয়া (গরম বাতাস), ভূমিকম্প, ভূমিধস, মানব আকৃতি বিকৃতি, শিলাবৃষ্টি, রক্তবৃষ্টি ইত্যাদি কঠিন আজাবের, যা একটার পর আরেকটা আসতে থাকবে, যেমন হারের সুতা ছিঁড়ে গেলে মুক্তার দানাগুলো একটার পর একটা পড়তে থাকে। (তিরমিজি)

ব্যভিচার, মাপে কম দেওয়া ইত্যাদি অপকর্মের পরিণতি :

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘পাঁচটি মন্দ কাজ এমন আছে, যদি তোমরা তাতে জড়িয়ে পড়ো বা তা তোমাদের মধ্যে বাসা বাঁধে, তবে খুবই খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন এ পাঁচটি মন্দ কাজ তোমাদের মধ্যে জন্ম না নেয়।’

ক. ব্যভিচার যদি কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের মধ্যে এমন এমন রোগ দেখা দেবে, যা আগে ছিল না।

খ. ‘মাপে কম দেওয়া।’ এ মন্দ কাজ যদি কোনো জাতির মধ্যে জন্ম নেয়, তবে তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং তারা অত্যাচারী শাসকের শিকারে পরিণত হয়।

গ. ‘জাকাত’ না দেওয়া। এ মন্দ কাজ যাদের মধ্যে দেখা দেয়, তাদের ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি সে অঞ্চলে পশু বা পাখি না থাকত, তবে আদৌ বৃষ্টি হতো না।

ঘ. আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। এ মন্দ কাজ যখন সমাজে দেখা দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অমুসলিমদের আধিপত্য চাপিয়ে দেন। আধিপত্যবাদীরা তখন মুসলমানদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।

ঙ. ‘কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালানো।’ যদি মুসলমান শাসকরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালায়, তবে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজে ভাঙন সৃষ্টি করে দেন। তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে সন্ত্রাস ও খুন-খারাবি শুরু হয়ে যায়।’ (বায়হাকি, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০১৯)

হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বীনের কার্যকলাপে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে সেই সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তরে ভয়-ভীতি ঢেলে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে জিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক মাপে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করা হলে সে গোত্রে রক্তপাত বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের মধ্যে শত্রুতা প্রবল করে দেওয়া হয়। (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত : পৃ. ৪৫৯)

অন্যায় কাজে বাধা না দেওয়ার পরিণতি :

সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেওয়া ফরজ। মুমিন এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না। হজরত হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! তোমরা অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর আজাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমাদের পরিত্যাগ করা হবে এবং তোমাদের দোয়াও কবুল করা হবে না।’ (তিরমিজি)

অন্যায়ভাবে হত্যা করার পরিণতি :

অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। কথিত আছে, হজরত আদম (আ.)-এর পুত্র কাবিল যেদিন হাবিলকে হত্যা করে, সেদিনই পৃথিবীতে প্রথম ভূমিকম্প হয়। কেননা অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে সদা সেখানে অবস্থান করবে।’ (সুরা নিসা : ৯৩)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে দূরে থাকবে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন—ইয়া রাসুলুল্লাহ! বিষয়গুলো কী কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন : ১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। ২. জাদুটোনা করা। ৩. যথাযথ কারণ বাদে কাউকে হত্যা করা, যা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। ৪. সুদ খাওয়া। ৫. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা। ৬. রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা। ৭. মুসলিম সরলা নির্দোষ মহিলাদের নামে ব্যভিচারের দুর্নাম রটনা করা। (মিশকাত, প্রথম খণ্ড, বাবুল কাবাইর ওয়া আলামাতুন নিফাক, সহীহ বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস নম্বর : ২৭৬৬)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৬৮৬, সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ২৫)

দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত লোভের পরিণতি :

মুমিন দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে অধিক ভালোবাসে। সাহাবায়ে কিরাম দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতেন এবং দ্বীনের জন্য মরণকে বেশি পছন্দ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের ওপর এমন দুঃসময় আসবে, যখন অন্যান্য জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেন ক্ষুুধার্ত মানুষ খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হয়েও বন্যার ফেনার মতো ভেসে যাবে। দুশমনদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি উঠে যাবে। তোমাদের অন্তরে ওহান (কাপুরুষতা) সৃষ্টি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ওহান কী? রাসুল (সা.) বললেন, দুনিয়ার মহব্বত ও মৃত্যুর ভয়। (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি বিষয় ক্ষতিকর : ক. চোখ নষ্ট হওয়া, খ. কলব শক্ত হওয়া, গ. দীর্ঘ আশা করা ও ঘ. পার্থিব লোভ।

ধনীদের কৃপণতার পরিণতি :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে উত্তম লোকরা তোমাদের নেতা (রাষ্ট্রপ্রধান) হয়, ধনীরা দানশীল হয় এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়, তখন তোমাদের জন্য জমিনের নিম্নভাগ থেকে জমিনের উপরিভাগ উত্তম। আর যখন তোমাদের মধ্যে ধনী লোকরা কৃপণ হয়, কার্যাবলি মহিলাদের নির্দেশমতো চলে, তখন তোমাদের জন্য জমিনের উপরিভাগ থেকে জমিনের নিম্নভাগ উত্তম।’ (তিরমিজি, পৃষ্ঠা : ৪৫৯)

পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামে সব ধরনের জুলুম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম করা হয়েছে। শুধু জুলুম নয়, জুলুমে সহযোগিতা করা এবং জালিমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ও ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করাও হারাম। মানুষের ওপর জুলুম এমন এক ভয়াবহ গুনাহ যার শাস্তি কোনো না কোনো উপায়ে দুনিয়ার জীবনে পাওয়া শুরু হয়ে যায়। জুলুমের ভয়ংকর গুনার কারণে আখিরাতে দোজখে প্রবেশ করতে হবে।
জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন এমন এক অপরাধ-পাপ-গুনা যা সাধারণত আল্লাহ মাফ করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই মজলুম (যার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে) জালেমকে (অত্যাচারী ব্যক্তিকে) মাফ না করেন।

জালেমদের জন্য দুনিয়াতে যেমন বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পর তাদের ভয়ানক পরিণতি হবে। আল্লাহতায়ালা জালেমদের আখিরাতে ভয়ানক শাস্তি দেবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের নির্যাতন করে, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আজাব।’ (সূরা আল বুরুজ : ১০)

জালেমের মতো হতভাগা আর কেউ নেই। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা কি জানো- গরিব কে? সাহাবিরা বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নেই সে হলো গরিব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরিব, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিকে সেদিন তার নেক আমলনামা দিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [তিরমিযি :৪১৮]

আমাদের মনে রাখতে হবে, মুখে এক কথা আর অন্তরে আর এক কথা- এটা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হলো সে কখনও ধোঁকা দেবে না এবং ধোঁকার শিকার হবে না। যুগে যুগে ধোঁকাবাজ ছিল, এখনও আছে। কিন্তু ইচ্ছে করে কারো সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা যাবে না, এমনকি ঠাট্টাচ্ছলেও না।

তাই প্রত্যেক মুমিনের প্রতিজ্ঞা হওয়া দরকার- ধোঁকা দিবো, ধোঁকায় পড়বো না। আমরা যে সমাজে বাস করি সেখানে সর্বত্রই ভেজালের ছড়াছড়ি। ধোঁকা প্রতারণার জাল বিস্তার করছে সর্বত্র। কে কাকে ঠকাবে সে চিন্তায় অস্থির প্রায়। এ কথাগুলো অস্বীকার করার মতো নয়। কেউ অবিশ্বাস করতে পারবে না এ বাস্তব সত্য।

অথচ মুসলমানদের আদর্শ এটা নয়, আমাদের নবীজীর আদর্শ নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন কখনো এক গর্তে দু’বার পা দেয় না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মুমিন কাউকে ধোঁকা দেয় না ধোঁকা খায় না।’ ধোঁকা মুসলমানদের আদর্শ নয়।

চলমান সমাজকে যদি শান্তিময় ও সুখময় করতে হয়, যদি শান্তির অনাবিল নীড় গড়তে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের জুলুমবাজি ধোঁকা প্রতারণা ও ভেজাল ছাড়তে হবে। তাহলেই সমাজ স্বচ্ছ, সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে ওঠবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক প্রকাশক ও সংগঠক।

English Section এর আরও খবর
হাজী আব্দুস শহীদ মহিলা আলীম মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

হাজী আব্দুস শহীদ মহিলা আলীম মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

আটলান্টায় ৩৯ তম ফোবানার কীক অফ মিটিং সম্পন্ন

আটলান্টায় ৩৯ তম ফোবানার কীক অফ মিটিং সম্পন্ন

Badrul Islam Shoaib was received by Golapganj Upazila Education Trust

Badrul Islam Shoaib was received by Golapganj Upazila Education Trust

British Bangla Chess Association Hosts Exciting Grand Chess Tournament

British Bangla Chess Association Hosts Exciting Grand Chess Tournament

Intense bombardments strike in Gaza as mediators try to unlock aid

Intense bombardments strike in Gaza as mediators try to unlock aid

Metropolitan University’s Astounding Victory at ‘SUST Astro Carnival 2023’ Sparks Awe.

Metropolitan University’s Astounding Victory at ‘SUST Astro Carnival 2023’ Sparks Awe.

সর্বশেষ সংবাদ
হিউস্টনে ৪০ তম ফোবানার মিট এন্ড গ্রীট সম্পন্ন 
হিউস্টনে ৪০ তম ফোবানার মিট এন্ড গ্রীট সম্পন্ন 
ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন
ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন
সিলেটের বাপ্পী র বিশ্বকাপ জয়ের গল্প
সিলেটের বাপ্পী র বিশ্বকাপ জয়ের গল্প
পিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের স্মরণে গোলাপগঞ্জ আইনজীবী পরিষদের শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের স্মরণে গোলাপগঞ্জ আইনজীবী পরিষদের শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে-এর বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন
গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে-এর বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন
কায়েস আজিজের কথা ও সুরে চা–বাগান, পাহাড় আর প্রকৃতির গল্পে ‘রূপসী শ্রীমঙ্গল’
কায়েস আজিজের কথা ও সুরে চা–বাগান, পাহাড় আর প্রকৃতির গল্পে ‘রূপসী শ্রীমঙ্গল’
লস এনজেলস ফোবানায় প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক থাকবেন
লস এনজেলস ফোবানায় প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক থাকবেন
ফ্লোরিডায় কারিগরের জমজমাট বৈশাখের আয়োজন
ফ্লোরিডায় কারিগরের জমজমাট বৈশাখের আয়োজন
ওরলান্ডোতে বৈশাখের আয়োজন সম্পন্ন
ওরলান্ডোতে বৈশাখের আয়োজন সম্পন্ন
ওরলান্ডোতে বাংলা নববর্ষ ১৫ মে শুক্রবার
ওরলান্ডোতে বাংলা নববর্ষ ১৫ মে শুক্রবার
মাহিদা রেজার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন
মাহিদা রেজার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন
লস এনজেলস ফোবানার গনসংযোগ  সাউথ ফ্লোরিডা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় 
লস এনজেলস ফোবানার গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় 
উ্যসব মুখর পরিবেশে ৭ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ওরলান্ডোতে সম্পন্ন
উ্যসব মুখর পরিবেশে ৭ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল ওরলান্ডোতে সম্পন্ন
আগামীকাল ৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর শুভ সুচনা
আগামীকাল ৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর শুভ সুচনা
আনন্দ, উচছাস ও কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ততায় ৩০ তম এক্সপো সফল
আনন্দ, উচছাস ও কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ততায় ৩০ তম এক্সপো সফল
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর ব্যাপক গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডায়
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল এর ব্যাপক গনসংযোগ সাউথ ফ্লোরিডায়
বিশেষ সাক্ষাৎকার: ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ
বিশেষ সাক্ষাৎকার: ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর আয়োজনের সুচনা শুক্রবার
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর আয়োজনের সুচনা শুক্রবার
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল প্রবেশমুল্য ১০ ডলার,ফ্রী পার্কিং
৭ ম এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল প্রবেশমুল্য ১০ ডলার,ফ্রী পার্কিং
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর শেষ প্রস্তুুতি
৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর শেষ প্রস্তুুতি
© 2010-2026 AmaderProtidin.com
All Rights Reserved
Editor & Publisher: Anwar Shahjahan
AmaderProtidin.com, a Trading name of Sha Capital Ltd.
Company registration No 12214710
Address: Abdul Mutlib Complex (3rd floor), Golapganj Municipality, District Sylhet Mob: 01723 655894
Email: amaderprotidinnews@gmail.com
Go to top