কবি পরিচিতি: আকিক চৌধুরী
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৪৬:২২,অপরাহ্ন ১০ নভেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ১২১৪ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: বাংলাদেশের খ্যাতিমান অনেক লেখক, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী দেশ-বিদেশে রয়েছেন। আমাদের দেশের বর্তমান অনেকেই তাদের চিনেন না বা তাদের সম্পর্কে অজানা। তাই অনলাইন পোর্টাল আমাদের প্রতিদিন নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের পরিচিতি তুলে ধরতে চালু করেছে ‘সাহিত্য আসর’। ধাপে ধাপে আমরা সকলের পরিচিতি সবার কাছে তুলে ধরবো। এতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ কবি ও লেখক আকিক চৌধুরীর পরিচিতি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
পরিচিতিঃ- আকিক চৌধুরী, পিতা: নূরুল ইসলাম চৌধুরী ( সোহাগ মাষ্টার)। আকিক চৌধুরী সিলেট বিয়ানীবাজার থানার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামে ১৯৯২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তিনি ২০০৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারী ইন্তেকাল করেন। আকিক চৌধুরী দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
শিক্ষাজীবনঃ- পিতার সাথে স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া শুরু করে এখানেই এসএসসি পাশ করেন। পিতা মারা যাওয়ার পর পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ডিগ্রীতে ভর্তি হয়েও আর পড়া হয়নি।
লেখালেখি শুরুঃ- ছোটোবেলা থেকিই আকিক চৌধুরীর লেখালেখির প্রতি টান ছিলো। সেই থেকে লেখালেখি শুরু করে এখন তিনি লোক গানও লিখেন।
এক সাক্ষাৎকারে আকিক চৌধুরী বলেন- লেখালেখির প্রতি আমার আগ্রহ ছিলো ছোটকাল থেকেই, আর যখন লোকগান শুনতাম খুবই ভালো লাগতো। আর তাই একসময় মনে তীব্র বাসনা জাগলো আমি গান লিখব, হ্যাঁ আমি আমার মতো করে লোকগান লিখার চেষ্টা করলাম, আর সেই চেষ্টা থেকে আজ অবধি লিখে যাচ্ছি। আমি বাস্তবতায় বিশ্বাসী একজন মানুষ, আর তাই কলমের কালিতে বাস্তব সত্যগুলা সবসময় তুলে ধরার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, সংসারিক টানাপোড়েনের কারনে হয়তো আমার লিখাগুলা আমি তেমন প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু তারপরেও সঙ্গীতে এসে আমি অনেক গুনীজন সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়েছি,যাদের সহযোগীতায় এই পর্যন্ত আমার কিছু সৃষ্টি আমি প্রকাশ করতে পেরেছি এবং সেগুলা জনপ্রিয়তাও পেয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।।
বর্তমান সঙ্গীতাঙ্গন নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সুস্থ সঙ্গীতের ধারা আমার দৃষ্টিতে সঠিক পথে যাচ্ছেনা, কারন কিছু সংখ্যক বসন্তের কোকিলদের কারনে আজকের সঙ্গীত আকাশে কালো মেঘর ঘনঘটা। সুর কপি করে গান রচনা করে কপিবাজদের দখলে আজ সঙ্গীত ভুবন,মহাজনদের বানী সংগ্রহ করে জোড়া তালির মাধ্যমে বর্তমানে গরম রয়েছে গানের বাজার। এই সব নকলবাজদের ভীড়ে সঠিক ও সত্য প্রতিভা আজ বড় অসহায়,অর্থের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিভাবান অনেক লেখক। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক সঙ্গীত চর্চা আজ হুমকির সম্মুখীন। এমতাবস্থায় আমি/আমরা আসলেই চিন্তিত এবং মর্মাহত, এভাবে চললে অদূর ভবিষ্যৎ আমরা সঙ্গীতের সঠিক ধারা থেকে সরে এসে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে বাধ্য। তাই আমার সকল গুনীজন সহ সচেতন মহলের প্রতি আবেদন অনতিবিলম্বে সবাই এক হয়ে সঙ্গীতের সুস্থ ধারা ফিরিয়ে না আনলে একসময় সুস্থ সঙ্গীত বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা।।
লিখা নিয়ে পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিটা মানুষই তার নিজ অবস্থান থেকে তার আশা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখে আর তাইতো আমিও তার বাইরে নই। লিখালিখি আমার একটা নেশা যতোদিন বাঁচবো আমি লিখেই যাবো কিন্তু সংসার কর্ম এবং ব্যাক্তিগত জীবন পরিচালনা করে আমার দ্বারা আমার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কতো দূর যাওয়া সম্ভব সেই বিষয়ে আমি সন্দিহান। তারপরও মানুষ আশায় বাঁচে, যদি কোনোদিন সৃষ্টিকর্তা সদয় হয়ে আমাকে তওফিক দান করেন তাহলে আমি আমার সৃষ্টি কর্ম নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে।।
সর্বশেষ তিনি বলেন, আমি অতি নগন্য সর্ব কনিষ্ট একজন লেখক। লিখার চেষ্টা করছি এবং শিখছি। আর তাই গুনীজনদের মায়া মমতা এবং ছায়াতলে থাকতে চাই সবসময়। আমি কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, কি দিতে পারলাম এটাই আসল বিষয়, সবাই দোয়া করবেন আমি যেনো সদা সত্য পথে নিজেকে পরিচালনা করতে পারি। আসুন সবাই সুন্দর সমাজ বিনির্মানে এক হয়ে কাজ করি, কলমের মাধ্যমে তুলে ধরি সমাজের অসংগতি গুলো। আর তবেই একদিন আমরা সফল হবো ইনশা আল্লাহ।






