প্রতিশ্রুতি মেলেনি তিস্তা বন্টনে, ফেনীর পানি পাচ্ছে ভারত!
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৪৯:৫২,অপরাহ্ন ০৬ অক্টোবর ২০১৯ | সংবাদটি ৩৮৪ বার পঠিত
আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: তিস্তার পানিবন্টন নিয়ে ২০১১ সালে দুই দেশের সরকার যে অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোয় একমত হয়েছিলেন, কবে তার বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশের জনগণ অধীর আগ্রহে সেই অপেক্ষায় আছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবার স্মরণ করিয়ে দেন একই কথা। প্রত্যাশিতভাবেই তিস্তা নিয়ে আলাদা কোনো সমঝোতা বা চুক্তি এ সফরে স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতের ত্রিপুরায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জবাবে বলেছেন, তার সরকার তিস্তায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে নিরন্তর কাজ করে চলেছে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব একটি তিস্তা চুক্তি সম্পাদন করা যায়।
এ কথাগুলো বিশেষ নতুন কোনো কথা নয় এর আগেও বহুবার এ ধরনের কথাবার্তা দু’দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আবারো একই কথা উঠল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে।
এছাড়া, এবার নতুন যেটা তা হল, তিস্তা ছাড়াও আরও ছয়টি অভিন্ন নদীর (মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার) পানি কীভাবে ভাগাভাগি করা যায়। এবারে বৈঠকে অবিলম্বে তার একটি খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করতে দুই নেতা যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়াও ফেনী নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়েও অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামো তৈরি করতে কমিশনকে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এ ফেনী নদী থেকেই ১.৮২ কিউসেক পানি নিয়ে ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল সরবরাহেও বাংলাদেশ সম্মতি প্রকাশ করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা দাবি করেন, এই সাতটি অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে যে দ্বিপাক্ষিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে – সেই একই ফর্মুলা ভবিষ্যতে তিস্তার ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যেতে পারে। তাহলে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নে এ সফরে যদি কোনো অগ্রগতি হয়ে থাকে তা এটুকুই এর বেশি কিছু না।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মাঝেই শনিবার(৫ অক্টোবর) তার সঙ্গে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়।
হায়দ্রাবাদ হাউজে শনিবার সকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আগে দুই প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ একান্তেও কথা বলেন। জানান কর্মকর্তারা।
বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয় এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের নেতারা তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম দিল্লি সফর। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি সর্বশেষ দিল্লি সফর করেন।






