ফেরিঘাটে মারা যাওয়া তিতাসের এলাকায় তদন্ত টিম!
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৫১:৩২,অপরাহ্ন ০৩ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ৪১২ বার পঠিত
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:: মাদারীপুর কাঠালবাড়ি একনম্বর ফেরিঘাট থেকে ভিআইপির অজুহাতে তিন ঘন্টা বিলম্বে ফেরী ছাড়ায় তিতাস ঘোষের মৃত্যুর সংবাদটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত দু’টি তদন্ত টিম নড়াইলের কালিয়ায় পৃথকভাবে তদন্ত করেছেন। তদন্ত চলাকালীন সময় নড়াইলের কালিয়া সরকারী কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ মিছিল সহকারে তিতাস ঘোষের মৃত্যুর সুষ্ঠ‚ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবী করেন। পরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুদার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
জানা যায়, শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিকের নেতৃত্বে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় কর্তৃক গঠিত ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি নড়াইলের কালিয়ার ইউএনওর কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ভিড় জমে। তদন্তকালে তিতাসের মা সোনামনি ঘোষ ও বোন তনিষা ঘোষ, মামা সাবেক কাউন্সিলর অশোক ঘোষ, অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ডাক্টার, নার্স, ড্রাইবার, মৃত তিতাস ঘোষের অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের মধ্যে তাঁরা তাঁদের শুনানীর কাজ শেষ করেন।
এরপর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ কর্তৃক অতিরিক্ত সচিব মো.রেজাউল আহসান এর নেতৃত্বে গঠিত ৩সদস্যের তদন্ত কমিটিও একই ভাবে তিতাসের স্বজনদের শুনানী গ্রহন করেন। শুনানী শেষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সঞ্জয় কুমার বণিক বলেন,‘আমরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। শুনানী শেষে যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব।’ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মো. রেজাউল আহসান, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ‘তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষে ফরাফল জানা যাবে।’
প্রসঙ্গত,গত ২৪ জুলাই তিতাস একটি সড়ক দ‚র্ঘটনায় আহত হলে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পরদিন ২৫ জুলাই ঢাকায় নেয়ার পথে রাত ৮টায় কাঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরীঘাটে পৌঁছায়। তখন তারা জানতে পারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের একজন ভিআইপির অপেক্ষায় ফেরী চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিতাসের বোন তনিষা ঘোষ তার ভাইয়ের আশংকাজনক অবস্থার কথা জানিয়ে সেখানকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলে ধরণা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। রাত ১১টার দিকে ওই ভিআইপির গাড়িটি আসার পর ফেরীটি ছেড়ে দেয়। কিন্তু ফেরী পার হতে না হতেই তিতাস বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।






