৫দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হলো ইস্ট লন্ডনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্কুল ছাত্র নাসের আহমদকে। তার মৃত্যুতে বাঙালি পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে কমিউনিটিতে।

নাসের আহমদের দেশের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় গ্রামে। সে মোহাম্মদ আশরাফুজ জামান তারেক ও জেসমিন রহমানের পুত্র।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ১৪ বছর বয়সী বো স্কুলের ছাত্র নাসের আহমদ গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার যথারীতি স্কুলে আসে। সেখানে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমার্জেনসি সার্ভিস ডাকলে প্যারামেডিক দল উপস্থিত হয় এবং পরবর্তীতে তাকে রয়েল লন্ডন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে রাখা অবস্থায় ৫দিন পর সোমবার বিকাল ৫ ঘটিকার সময় মৃত্য বরণ করে।

এদিকে নাসের আহমদের পরিবার দাবী, নাসের ঐদিন সহপাঠি দুই ছাত্রের মারামারির সময় কাছে ছিল। নাসেরও অপরাধ করেছে এমন অভিযোগে তাকে স্কুলের বেসমেন্টে  ডিটেনশনে নেয়ায় সে আসমা রোগে আক্রান্ত হয়। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষকে আসমা রোগের বিষয় জানানো ছিল।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্কুল থেকে ১১:৪০ মিনিটে নাসেরের পিতার কাছে ফোন আসে নাসেরকে ডিটেনশনে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হয় স্কুলের  ছুটির পর আরো ৪৫ মিনিট ডিটেশনে রাখা হবে।

নাসেরের পরিবার বিশ্বাস করে ডিটেশন রুমে সে  আতংকিত হয়ে পড়লে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। বেলা ২:৪০ মিনিটের সময় নাসেরের পিতা জামানকে স্কুলের রিসিপশন থেকে ফোনে নাসের অসুস্থ্যতার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ নাসেরকে একাকি রুমে ডিটেনশনে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, নাসের অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দ্রুত ডাক্তার কল করা হয় এবং তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

নাসের আহমদের মৃত্যুতে বাঙালি পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে কমিউনিটিতে। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও খোজ খবর নিতে হাসপাতালে ছুটে যান টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক নিবাহী মেয়র লুৎফুর রহমান, সাবেক ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর আ ম অহিদ আহমদ, কাউন্সিলর খালিস উদ্দিন আহমদ, কাউন্সিলর মোহাম্মদ মুফতি মিয়া, লেখক সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান, কমিউনিটি সংগঠক সারওয়ার আহমদ ও মারুফ আহমদ প্রমুখ।