মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ডিজিটাল পাবলিক লাইব্রেরি ‘মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শহীদ জায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্কাইভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। 

বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক মেজর জিয়াউর রহমানের ইতিহাস বিকৃতির যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিলো তা থেকে জাতি আজও সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাহীনতার এই অন্ধকার থেকে বের করে আনতে ‘মুক্তিযুদ্ধের ই-আর্কাইভ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক নাসরিন চৌধুরী, সাংবাদিক ও লেখক মোস্তফা হোসেইন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্নয়ক ডা. ইমরান এইচ. সরকার, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্টের সভাপতি শান্তা আনোয়ার এবং ট্রাস্টের পরিচালক সাব্বির হোসাইন। 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও আদর্শে উজ্জীবিত একদল তরুণ দীর্ঘ দশ বছরের ঐকান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলেছে এই আর্কাইভ। এই আর্কাইভে আছে প্রায় চার হাজার মুক্তিযুদ্ধের বই, মুক্তিযুদ্ধ সময়কালীন বিভিন্ন দলিল, মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনার পেপারকাটিং, মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও প্রায় পাঁচ হাজার আলোকচিত্র। এই আর্কাইভ সবার জন্য উন্মুক্ত। বিনামূল্যে যে কেউ এই আর্কাইভ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। 

মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভে ব্রাউজ করার ঠিকানা: www.liberationwarbangladesh.org

আর্কাইভের সভাপতি শান্তা আনোয়ার জানান, এই আর্কাইভ ২০০৭ সালে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র’ নামে কাজ শুরু করে। ২০১৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ পরীক্ষামূলকভাবে পাঠকদের জন্য সম্প্রচার শুরু করে। ২০১৬ সালে এটি ‘মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট’ নামে নিবন্ধন করা হয়। 

পরিচালক সাব্বির হোসাইন জানান, এ আর্কাইভে ইতোমধ্যে ১০ লাখ পাঠক নিবন্ধিত হয়েছে। আর্কাইভে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। এই ট্রাস্টের অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম ‘মুক্তিযুদ্ধ পাঠশালা’, মুক্তিযোদ্ধাদের ভিডিও সাক্ষাতকার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম।