নাট্যকার, নির্মাতা, লেখক, স্থপতি শাকুর মজিদ বর্তমানে বিলেতে অবস্থান করছেন। তাঁর সতীর্থ, বন্ধু, অনুরাগীরা তাঁর সাথে এক আড্ডা এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন। আগামি ১৯ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা ৬.৩০ ঘটিকার সময় পূর্ব লন্ডনের মাহী এন্ড কোম্পানিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় বিলাতের লেখক সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার জন্য কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি আহবান জানিয়েছেন।

শাকুর মজিদ ১৯৬৫ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ, মাতা বেগম ফরিদা খাতুন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শাকুর জেষ্ঠ্য। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে তিনি মাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করেন ও ১৯৮৪ সালে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশবে কবিতা দিয়ে তাঁর লেখালেখি শুরু। পরে গল্প, নাটক, ভ্রমণ-কাহিনী লিখেছেন অনেক। নাটকের সকল শাখায় তাঁর বিচরণ। ১৯৮৫ সালে কুঁড়ি বছর বয়সে সিলেট বেতারে তাঁর লেখা নাটক প্রথম প্রচার হয়। বেশ কয়েকটি টেলিভিশন-নাটক ও টেলিফিল্মের রচয়িতা তিনি। নাটক-টেলিফিল্ম নিজে পরিচালনাও করেছেন। বাউল শাহ আবদুুল করিমের জীবন ও দর্শন নিয়ে লিখেছেন মঞ্চনাটক মহাজনের নাও, বানিয়েছেন তথ্যচিত্র ভাটির পুরুষ। এছাড়াও দেশ-বিদেশের ভ্রমণচিত্র নিয়ে তিন শতাধিক প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছেন। ছবি তুলে, নাটক-টেলিফিল্ম ও তথ্যচিত্র বানিয়ে দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। দেশ ভ্রমণ তাঁর একটি বড় নেশা। প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি ভ্রমণকাহিনী, ৪টি স্মৃতিচারণমূলক ও ১টি গল্পগ্রন্থ। এছাড়াও মঞ্চনাটকের আলোকচিত্র নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম আলোকচিত্র-গ্রন্থ রিদম অন দ্য স্টেজ, স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ মসজিদের ইতিকথা।

ব্যক্তি-জীবনে শাকুর মজিদ একজন পেশাদার স্থপতি এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জলী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান। দুই সন্তান- ইশমাম ইনতিসার ও ইবন ইবতেশাম ।