পদত্যাগ করে প্রশাসকদের জেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান রেখে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৬’ আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সংসদ অধিবেশন না থাকায় তখন এটি অধ্যাদেশ আকারে জারির প্রস্তাবও অনুমোদন দেয় দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। পরে ৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের জেলা পরিষদগুলো প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতারা।

আইনে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অধ্যাদেশের ৬ এর চ-উপধারায় একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে লেখা আছে (কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, যদি-) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন। এর সঙ্গে এখন নতুন করে জেলা পরিষদের প্রশাসক যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন একটি বাক্যও যুক্ত করা হয়েছে- নিয়োগকৃত জেলা পরিষদের প্রশাসক পদত্যাগ সাপেক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।’
‘এছাড়া ২০ এর ২ উপধারায় ছ দফাতে নতুন সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। ওখানে লেখা ছিল- ভোট গ্রহণের তালিকা, সময় ও স্থান। আসলে হবে ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান। তালিকা সংশোধন করে তারিখ করা হয়েছে’ বলেন শফিউল আলম।

জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরাসরি নয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠিত হবে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে সরকারের যে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে।
আদালত ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সাময়িক বরখাস্ত হবেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেও শাস্তি পেতে হবে প্রার্থীদের।

কবে জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা- একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘না কোন আলোচনা হয়নি।’
আইনে পরিণত হচ্ছে পার্বত্য ভূমি কমিশন অধ্যাদেশ

এছাড়া ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৬’ আইন আকারে জারি করার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে এতে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

গত ৯ আগস্ট এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য ভূমি বিরোধনিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমিয়ে ও কোরামের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।